বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।

জাদুঘরে প্রবেশের পর রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঐতিহাসিক চিত্র দেখেন। দীর্ঘ গণতান্ত্রিক যাত্রার ওয়াকওয়ে ঘুরে দেখার পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে নিহতদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর পরিদর্শন করেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি। পরে বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

শহীদদের চিঠি, স্মারক ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রপতিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন তিনি। প্রদর্শনী শেষে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ আন্দোলনের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় শহীদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান রাষ্ট্রপতি। জাদুঘর পরিদর্শনের সময় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা, দলিলপত্র ও প্রদর্শনীর বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেন গবেষণা দলের সদস্যরা।

এস