সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক, বহুসংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে অনুদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইউএনএইচসিআর জানায়, নতুন এ অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শরণার্থীদের জন্য জরুরি সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
অনুদান ঘোষণার সময় জুলিয়ান হিল বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই সহযোগিতা করে আসছে এবং এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের চূড়ান্ত সমাধান তাদের নিজ দেশে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মধ্যেই নিহিত। তবে সে জন্য মিয়ানমারে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সংকটের মূল কারণ দূর করা জরুরি।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন নতুন মানবিক সংকটের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিক মনোযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এই সহায়তা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, এ অর্থায়নের মাধ্যমে বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা দেওয়া হবে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে। খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে তারা এখনও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
এস