রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া ১৭৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে পোশাকশ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। তাঁদের আন্দোলনের মুখে কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম, টাউজার লাইন ও নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তাঁরা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে আশপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকেরাও আন্দোলনে যোগ দেন।
দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং অন্যায়ভাবে ছাঁটাই বন্ধ করা। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছেমতো শ্রমিক ছাঁটাই করছে। পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্ত করে চাকরিচ্যুত করার ঘটনাও বন্ধ করতে হবে।
কমফোর্ট কালেকশন নামের একটি পোশাক কারখানার অপারেটর রাজু আহমেদ বলেন, তাঁদের কারখানায় হেলপারদের বেতন ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। অন্য অনেক কারখানায় একই পদের শ্রমিকেরা তুলনামূলক বেশি বেতন পান। অন্য কারখানায় হাজিরা বোনাস ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হলেও তাঁদের কারখানায় দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা। ন্যায্য মজুরি ও ভাতার দাবিতেই তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকেরা তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। এর মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ অন্যতম। এ বিষয়ে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভার ও আশুলিয়ার ১৭৭টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এস
















