বুধবার (৭ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস দেশের জাতীয় পরিচয় ও অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই ইতিহাসে কোনো মিথ্যা, অসঙ্গতি বা বিতর্ক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে চায় না সরকার।

তিনি জানান, বর্তমানে থাকা প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাচাইয়ের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন, তাদের আবেদনও যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন হলে তদন্ত ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হবে।

আহমেদ আযম খান বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আবেদন নেওয়া চলমান থাকা কাঙ্ক্ষিত নয়। তাই ৭ অক্টোবর ২০২৬-এর পর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে এর আগে জমা পড়া আবেদনগুলো নিয়ম মেনে যাচাই-বাছাই করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি তালিকায় থাকা অমুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করা জরুরি। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোনো দলীয় বিবেচনা বা আবেগ নয়, বরং তথ্য-প্রমাণ ও নিরপেক্ষ যাচাইকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শহীদদের তালিকা ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিতর্কের অবসান ঘটাতে মন্ত্রণালয় দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবে।

বিজয়ের পর অস্ত্র লুটসহ মুক্তিযুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও কাজ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সব বিষয় একসঙ্গে না ধরে ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় অধ্যাপক আবু সাইয়েদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) আমিনুল ইসলাম, ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, মতিউর রহমান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ড. রেদোয়ান আহমেদ, সাংবাদিক শাহেদ আলম, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, রুহিন হোসেন প্রিন্স, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদদের তালিকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা আরও নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য করার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও পরামর্শ দেওয়া হয়।

এস