গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমনটা আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, বৈঠকে বিমান কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কি না, জানতে চান কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামরুল হাসান। তিনি বলেন, ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে কি না। এগুলো কোন কোন রুটে চলবে, যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা ও চাহিদা আছে কি না, এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না। বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে কি না, সেটাও জানতে চান তিনি।

জবাবে কমিটির সদস্য বিমানমন্ত্রী মিল্লাত জানান, ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। সব উড়োজাহাজ দেশে আসতে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এছাড়া এগুলো কেনার অর্থ সফট লোনের মাধ্যমে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। উড়োজাহাজ পরিচালনা থেকে অর্জিত আয় দিয়েই এর ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে দুই ধাপে। গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আরো ১১টি উড়োজাহাজ কেনার সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া গত ৭ অক্টোবর এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে।

সূত্রে জানায়, বৈঠকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এ নিয়ে এক সংসদ সদস্য বলেন, টার্মিনাল নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অর্থের অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনাল চালুর যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ঠিক থাকবে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। অতীতের কেনাকাটা ও তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কামরুল হাসান। তবে বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বিমানবন্দরের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং কেনাকাটার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে গত মার্চ পর্যন্ত বিমানবন্দরের কার্যক্রমের কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে এবং কী কী কেনাকাটা করা হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন পরবর্তী সময়ে কমিটির কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

বিমানবন্দরের ট্রলি সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে ট্রলির সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে।

এছাড়া বিমানবন্দরে জনবল নিয়োগ ও কর্মকর্তাদের পদায়নের বিষয়েও কথা হয়েছে। যাতে বলা হয়, দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের কোনো ট্যাগ দিয়ে সরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে বিমানবন্দরের কারিগরি পদগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন সিভিল অ্যাভিয়েশন, বিমান ও পর্যটনের কেনাকাটা, বদলি, নিয়োগ এবং বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকিতে পাঁচ সদস্যের সাবকমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদগুলো যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে দ্রুত পূরণ এবং গত আট মাসে সিভিল অ্যাভিয়েশনের কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও কেনাকাটার বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৈঠকে জানানো হয়, বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কমিটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী মন্ত্রণালয়ের স্বার্থে যোগ্যতাসম্পন্ন জনবলকে সঠিক জায়গায় পদায়নের সুপারিশ করেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত বৈঠক আয়োজনের সুপারিশ করে কমিটি।

কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো অংশগ্রহণ করেনÑকমিটির সদস্য ও মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, কামরুল হাসান ও আবু তালিব।

কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়) গিয়াস উদ্দিন রিমন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এমএম