সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর হাজারীবাগে আধুনিক পশু জবাইখানার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস নিশ্চিত করতে হলে পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নজরদারি প্রয়োজন। এ জন্য নির্ধারিত জবাইখানায় পশু জবাই এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে মাংস পরীক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিটি মাংসে থাকতে হবে পরীক্ষার সিল
আবদুস সালাম বলেন, কোনো মাংস পরীক্ষিত কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি মাংসের গায়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সিল থাকতে হবে। এই সিল ছাড়া মাংস বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্ট মাংস জব্দ করা হবে এবং বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সাধারণ ক্রেতার পক্ষে সব সময় মাংসের মান বা পশুর স্বাস্থ্যগত অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়। ফলে মাংস পরীক্ষার পর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সিল থাকলে ক্রেতারা সহজেই বুঝতে পারবেন যে মাংসটি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, মাংসের নিরাপত্তা ও পশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পরীক্ষার সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জবাইখানার বাইরে পশু জবাই করা যাবে না
নির্ধারিত জবাইখানার বাইরে পশু জবাইয়ের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, নির্ধারিত জবাইখানার বাইরে বিভিন্ন বাজারে পশু জবাই করা যাবে না। কেউ অননুমোদিত স্থানে পশু জবাই করলে তাকে জরিমানা করা হবে।
শুধু পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেই নয়, অননুমোদিতভাবে জবাই করা পশুর মাংস কোনো দোকানে বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্ট দোকানের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি ওই দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নির্ধারিত জবাইখানার বাইরে পশু জবাই বন্ধ করা এবং সেখান থেকেই পরীক্ষিত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে মাংসের নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
পশু সুস্থ ছিল কি না, জানার সুযোগ থাকবে
অনুমোদিত জবাইখানার বাইরে পশু জবাই করে মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেন আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, অন্য জায়গা থেকে মাংস আনা হলে পশুটি ঠিকমতো জবাই করা হয়েছে কি না, পশুটি সুস্থ ছিল কি না কিংবা কোনো রোগে আক্রান্ত ছিল কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ থাকে না।
এ ছাড়া মাংস হিসেবে যে পশুর কথা বলা হচ্ছে, সেটি আসলেই সেই পশু কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যেতে পারে। ডিএসসিসি প্রশাসক উদাহরণ দিয়ে বলেন, গরুর নামে মহিষের গোস্ত বিক্রি চলবেনা।
এমএম
















