জুলাই ঐক্যের দাবি, গত চার দিন ধরে সচিবালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখে কিছু আমলা দেশে কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সচিবালয়ে 'সিভিল ক্যু'-এর শঙ্কার কথা জানিয়েছেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ।
জুলাই ঐক্য বলছে, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিরোধিতা করে সচিবালয়ের ভেতর ও বাইরে থেকে আমলারা একযোগে আন্দোলনে নেমেছে। এতে করে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মাণের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, প্রায় দুই হাজার শহীদ ও ৩১ হাজার আহত ছাত্রজনতার আত্মত্যাগের ফলেই আজকের এই পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু কিছু আমলা ও উপদেষ্টা মিলে সে অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।
গত ২০ মে এক সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্য ৪৪ জন উচ্চপদস্থ আমলা ও ৯৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নাম প্রকাশ করে, যাদের বিরুদ্ধে ভারতের হয়ে কাজ করার এবং ছাত্রজনতার বিরুদ্ধে সহিংস ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়। তাদের আগামী ৩১ মে’র মধ্যে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আল্টিমেটাম দিয়েছে জুলাই ঐক্য।
জুলাই ঐক্যের সংগঠক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, "আমরা প্রধান উপদেষ্টা ও মন্ত্রিপরিষদের সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যদি সরকার এই অবস্থানে থেকে একচুলও সরে আসে, তাহলে আবারও ছাত্রজনতা রাজপথে নামবে, দেশ অচল করে দিতে একবারও চিন্তা করবে না।"
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা ‘বিপ্লবী সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে জুলাইয়ের চেতনায় আঘাত হানার অপচেষ্টা করছে। "যদি এই সিভিল ক্যু বাস্তবায়িত হয়, তার দায় সেই উপদেষ্টাদেরকেই নিতে হবে," বলেন তিনি।
জুলাই ঐক্য সরকারি চাকরি সংশোধন অধ্যাদেশকে সময়োপযোগী ও নতুন বাংলাদেশের উপযোগী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করে এর পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।
এনএইচ