বাইরের ইফতারের মধ্যে বরাবরের মতোই চাহিদার শীর্ষে হালিম। সারাদিন সিয়াম সাধনার পর ইফতার নিয়ে রোজাদারদের থাকে বাড়তি পরিকল্পনা। আর তাই সবার চাহিদা বিবেচনায় ঐতিহ্য আর আধুনিতার মিশেলে মুখরোচক ইফতার নিয়ে হাজির ধানমন্ডির হোটেল- রেস্তোরাঁগুলো। রয়েছে অনেক ভ্রাম্যমাণ স্টলও।

তবে ইফতারিতে মুড়ি থেকে শুরু করে বেশকিছু পণ্য কেজি দরে বিক্রি হলেও হালিম বিক্রিতে নেই কোনো ওজনের তোয়াক্কা। মাটির পাত্রে ইচ্ছামতো দাম বসিয়ে চলছে হালিম বিক্রি। এখানে ক্রেতার চাহিদা বা ইচ্ছার কোনো মূল্য নেই। বিক্রেতারা নিজের ইচ্ছামতো দাম বসিয়ে দিচ্ছে হালিমে। মাটির হাড়ি বা পাত্রে (সানকি) চড়ামূল্যে হালিম বিক্রি হলেও কী পরিমাণ হালিম দেওয়া হচ্ছে তা জানেন না ক্রেতা। ফলে একেক হোটেল বা রেস্তোরাঁয় একেক দামে বিক্রি হচ্ছে হালিম। তবে সব জায়গাতেই দাম চড়া।

রোববার (১৭ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে চোখে পড়ে এমন চিত্র।

পাঁচ দশক ধরে রাজধানীবাসীর কাছে হালিমের জন্য বেশ পরিচিত ‘মামা হালিম’। ১৯৭২ সালে কলাবাগান খেলার মাঠের বিপরীত পাশে এ হালিমের দোকান চালু করেন দীন মোহাম্মদ। রাজধানী ছাড়িয়ে মামা হালিমের নাম এখন ঢাকার বাইরেও। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসে মুখরোচক এই হালিমের স্বাদ নিতে। বিশেষ করে রমজানে এর চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণে।

স্বাধীনতার আগে দীন মোহাম্মদ কাজ করতেন খাবারের দোকানে। সেখানে এক বিহারি ওস্তাদের কাছ থেকে হালিম রান্নার কৌশল শেখেন তিনি। এরপর নিজেই হালিম বিক্রি শুরু করেন। তার তৈরি হালিম বেশ মুখরোচক হওয়ায় দ্রুতই দোকানের পরিচিতি বাড়তে থাকে। ক্রেতাদের কাছে দীন মোহাম্মদ পরিচিত হন ‘মামা’ নামে। ফলস্বরূপ দোকানের নামও হয়ে গেছে ‘মামা হালিম’। তবে এই মামা হালিমের পাত্রের দাম ও ওজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা।

কলাবাগান লেক সার্কাস এলাকায় বসবাস করেন আসাদুল হক। ৪০০ টাকার হালিম (গরু) কিনে ঘরে ফিরছিলেন। ৪০০ টাকায় কী পরিমাণে হালিম পেলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হালিম ওনারা পাতিল হিসেবে বিক্রি করছেন। পাতিলের ওপরে দাম বসিয়ে দেওয়া আছে। ৪০০ টাকায় কী পরিমাণে পেলাম এটা জানার কোনো উপায় নেই।’

সরেজমিনে দেখা যায়, মামা হালিমের সামনে সারি সারি মাটির পাত্র। এখানে পাত্র অনুযায়ী হালিমের দাম। সর্বোচ্চ দামের আছে খাসির হালিম ৩ হাজার টাকায়। এরপর গরুর ২ হাজার ৫০০ এবং মুরগির হালিম ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সব থেকে ছোট পাত্রে গরুর মাংসের হালিম ২০০, খাসি ২৫০ এবং মুরগির ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাতিল ভেদে গরুর হালিম ৭০০, খাসি ৮৫০ ও মুরগির ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মামার হালিমে তিন ধরনের হালিম বিক্রি হয়ে থাকে। গরু, মুরগি এবং খাসির।

কথা হয় মামা হালিমের ব্যবস্থাপক মো. রাসেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পাত্রের আকার ও হালিমের পরিমাণ অনুযায়ী দাম ঠিক করা হয়েছে।’ তবে কোনো পাত্রের গায়ে ওজন লেখা চোখে পড়েনি।

ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি জিলাপি ২৫০ টাকা ও তরমুজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি ছোলা (রান্না করা) ১৮০ থেকে ২০০ টাকা ও বুরিন্দা ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনি, আলুর চপ ও পেঁয়াজু ৫ টাকায় মিলছে। চিকেন রোল ২৫ টাকা, জালি কাবাব ২০, ডিম চপ ২০, ধনে পাতার চপ ২০, শাকের বড়া ১০ ও পাকোড়া ১০ টাকায় মিলছে। বিকেল ৩টার পর থেকে ইফতারির আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চলে ইফতারির নানান মুখরোচক আইটেম বেচাকেনা।

এমএইচ