দীর্ঘ সময়ের জন্য হেরে গেলো বাংলাদেশের মানুষ। সিরাজ-উদ্‌-দৌলাকে খুনের আগে মীরজাফরের সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছিলো ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি। ঘষেটি বেগমের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কথাও ইতিহাসে।

পরবর্তীতে অখণ্ড ভারতের উপনিবেশ নিশ্চিত করতে, আরো মীরজাফরদেরকে স্যার, নওয়াব, খান সাহেব, রাজা ইত্যাদি উপাধি দিলো ব্রিটিশ, পরবর্তীতে যার নাম জমিদার প্রথা।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সর্ববৃহৎ উপনিবেশ হলো ভারত। সেখানে উপনিবেশ খাটিয়ে অন্যতম শক্তিশালী ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলো ব্রিটিশ। অখণ্ড ভারত লুটপাটে যে রেকর্ড সৃষ্টি করলো, আজও তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের উন্নতির পেছনে সর্ববৃহৎ কারণ।

২য় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশের বিপুল খরচের অন্যতম যোগানদাতা অখণ্ড ভারত। ৪৭ সন থেকে ব্রিটিশের কোমর ভেঙ্গে যাওয়ার কারণ ২০০ বছরের সমৃদ্ধশালী উপনিবেশ হাতছাড়া। চার্চিল কখনোই ভারত ছাড়তে চায়নি বলেই যাওয়ার আগে লন্ডভন্ড করে দিলো।

বাংলাদেশেও ৪টি নব্য ব্রিটিশের বিনিয়োগ এতো বেশি মাত্রায়, যতোই চেষ্টা করুক, কেউ ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না হাসিনাকে। তার আত্মবিশ্বাসের ৪ সূত্রই চীন, জাপান, রাশিয়া, ভারত যাদের দুইজনেই ভেটো পাওয়ার। সুতরাং চাপ এলেই হেরে যাবে বাংলাদেশের মানুষ। ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির মতোই দেশজুড়ে এখন বহু রায়বাহাদুর আর খানবাহাদুর তৈরি করে ফেলেছে ইতোমধ্যেই।

টেলিভিশন, কম্পিউটার, খবরের কাগজ, যেটাই খুলি, সেখানেই রায়বাহাদুর আর খানবাহাদুরের বন। বাংলাদেশ এখন দীর্ঘ উপনিবেশের মুকুট মাথায় মেরুদণ্ডহীন একটি অদ্ভূত রাজা।

মতিয়া চৌধুরির ভাগ্য ভালো, পাকিস্থানকে দুইখণ্ড করেছিলো ভারত, না হলে কোন দেশের মন্ত্রী হতো? তার আচরণটা গভীর রাতে টঙ্গি রেলস্টেশনের মানুষগুলোর মতো হওয়ার পেছনে কারণ আছে। ভদ্রমহিলা একেবারেই যা-তা, সার্কাসে যোগ দিলেই ভালো করতো।

বক্তৃতায় বললো, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়েছে, তার কন্যা দিয়েছে পদ্মাসেতু। সুতরাং আমাদেরকে এখন জানতে হবে, যেসকল দেশে বঙ্গবন্ধু নাই, সেসব দেশ কখনোই স্বাধীন হয় না। যে দেশে হাসিনা নাই, সেই দেশে কোন সেতু নাই। এটাই তো বলতে চাইছে মতিয়া, নয় কী?

অবশ্য তার স্বামী বজলুর রহমান একজন আপদমস্থক ভদ্রলোক ছিলেন। আমার গ্রামের ছেলে বজলুভাই ঘনিষ্ট বন্ধুও ছিলেন। চা খেতে খেতে সংবাদ অফিসে বহু গল্প করেছি বজলু ভাইয়ের সঙ্গে। মনে হয় যেন ওয়াজেদ মিয়ার মতোই বজলুভাইও মরে বেঁচেছেন।

৫ জানুয়ারির খবর, সমাবেশে মতিয়ার কণ্ঠে পাকিস্থানী ঊর্দু গান। “ম্যায় ভুল গিয়া হারবাত, মাগার তেরা পেয়ার নেহি ভুলে - গানটি পাকিস্থানী ছবি ‘সহেলির’। দুই দিন আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীও উর্দু ভাষায় কবিতা পাঠ করে খালেদাকে ব্যাঙ্গ করলো মন্ত্রীসভার বৈঠকে। খালেদার চৌদ্দগোষ্ঠিকে গালাগাল নিয়ে বলে আর লাভ নাই। “তবে দৌলতদিয়ার বহুগমনকারী পুরুষেরাও পতিতা কন্যাদের সঙ্গে এই সকল নারীর ক্ষমতায়ন বিশেষজ্ঞদের চেয়ে ভালো আচরণ করে।”

আমার বিশ্বাস, অচিরেই মন্ত্রীসভা এবং সংসদে ফেনসিডিল-গাজার ব্যবহার শুরু হবে। সেদিন বেশি দূরে নাই যখন গাজা-হিরোইন খেতে খেতে উলঙ্গ হয়ে নৃত্য করবে আর খালেদার উদ্দেশ্যে গান্তকবিতা, গদ্য-পদ্য পাঠ...।

১৮ বছর বয়সে নব্য বিবাহিত জীবন ছেড়ে পালিয়ে আরএসআর-এর ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে যোগ দেন মোদী। আরএসআর হচ্ছে চরমপন্থি হিন্দুত্ববাদি দল। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার নেতৃত্বে বিজেপি, আরএসআর-এর মতো চরমপন্থি দলগুলো। পরিণত বয়সে মোদী যোগ দেন বিজেপিতে।

মহাত্মা গান্ধির খুনি নাথুরাম গডসও আরএসআর সদস্য, যাকে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করেছিলো দলের শীর্ষস্থানীয়রা। চিন্তাচেতনায় নাথুরামরা চরম ভারতপন্থি এবং গান্ধির জি হুজুর, জি হুজুর মার্কা আন্দোলনের ঘোর বিরোধী।

নাথুরামের ফাঁসির আগে যে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেন, “আমি যা করেছি, ভারতমাতার অখণ্ডতার স্বার্থে করেছি। ফাঁসির পর আমার দেহভস্ম যেন সিন্ধু এবং গঙ্গা আবারো এক হলে সেই জলে ফেলা হয়।” আজো তার দেহভস্ম দিল্লির একটি এপার্টমেন্টে রক্ষিত। আরএসআর-এর বিশ্বাস, একদিন নাথুরামের ইচ্ছা পূর্ণ হবে।

আরএসআর-এর অফিসের ম্যাপগুলোতে কোথাও পাকিস্থান এবং বাংলাদেশের অস্তিত্ব দেখবেন না। বিজেপির নেতাদের মুখেও এখন অখণ্ড ভারতের কথা। আরএসআর-এর নেতার বক্তব্য শুনছিলাম গতকাল। স্পষ্টই বলছেন, কেন পাকিস্থান-বাংলাদেশ অখণ্ড ভারতে আসবে না? আসতেই হবে। আমার বিশ্বাস, পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষ, যে উপায়েই হোক বাংলাদেশকে তারা অখণ্ড ভারতের অংশ বলেই ধরে নিয়েছে। ফলে যা দেখছি, অবাক হবো কেন?

ভালো মানুষের সন্তানেরা নাকি ভালো হয়। প্রবাদে বলে- “বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়।” অধিকাংশ প্রবাসী সরকারের সন্তানেরা এতো বেশি কুলাংগার যে, আমার খুব সন্দেহ, ভালো মানুষের সন্তান হলে এরা এতো বেশি কুলাংগার হতো না।

দেশবিভাগের মূলে, ধর্ম। দাঙ্গা হয়েছিলো দুই ধর্মের মানুষদের মধ্যে। ৪৭ থেকে ৪টি বড় যুদ্ধ এবং দেড় ডজন দাঙ্গায় দুই ধর্মের বলির পাঠার সংখ্যা হলাকস্টকেও ছাড়িয়েছে। মুজিব খুনের জন্য দায়ী, ইনু-তাহেরদের সঙ্গে মুজিবী-আদর্শের সংঘাত।

সুতরাং তার মৃত্যুর পর গৃহযুদ্ধ না হওয়াই স্বাভাবিক। হাসিনার বিষয়টি দেশবিভাগের সংঘর্ষের সঙ্গে তুলনামূলক। হিন্দু-মুসলমান নয়, ঘাপটি মেরে থাকা এই সংঘাত ৪৭এর চেয়ে গুরুত্বর।

এই সংঘাত এক দেশের, এক ধর্মেরই মানুষদের বিরুদ্ধে, যা মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া-সুন্নিদের সংঘাতের মতো। বাংলাদেশে দেশবিভাগের সংঘর্ষ নেই, শিয়া-সুন্নির যুদ্ধও নেই কিন্তু বিএনপি-আওয়ামী লীগের যুদ্ধ তারচেয়েও কঠিন যুদ্ধ। এখানে একইসঙ্গে ৪৭ এবং শিয়া-সুন্নির সংঘাত চলছে।

ব্রিটিশ জিইয়ে রেখেছিলো, কংগ্রেস আর মুসলিম লীগের মধ্যে ধর্মীয় জাতিয়তাবাদের ভয়ানক যুদ্ধ। দিল্লি মদত যোগাচ্ছে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সন্ত্রাসী-ক্ষমতার যুদ্ধে।

বডিল্যাংগুয়েজ বলছে, নব্য ব্রিটিশেরা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় চায় আরো ২০০ বছর। তবে অলৌকিকভাবে হাসিনার পতন হলে ৭৫এর পরিসি'তি আশা করা বৃথা। কারণ, ৪৭এর চেয়েও কঠিন সংগ্রামের জের ধরে যে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে বাংলাদেশে, একে শুধু সিরিয়ার সঙ্গেই তুলনা করা সম্ভব।

বলে কি লাভ? যাদের ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা নেই, তারাই সংসদে। মুখে যা আসে তাই বলে, মনে যা আসে সেটাই আইন। আর উল্টাপাল্টা আইন করে যখন কুলাতে পারে না, আন্দোলনের ধমক দিলেই আইন বাতিল। বাংলাদেশকে নিয়ে সত্যিই পুতুল খেলা খেলছে আওয়ামী লীগ।

হেফাজতের হুজুর যখন আন্দোলনের পথে, প্রেসকনফারেন্সে বাচ্চাদের মতো বলে দিলো, দেশ চলছে মদিনা সনদ অনুযায়ী। কথাটি ডাহা মিথ্যা কারণ, মদিনা সদন নয়, দেশ চলছে রাষ্ট্রধর্ম এবং ধর্মনিরপেক্ষতার সংঘাতে।

ক, খ তফসিল কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যখন হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গার অবস্থা, ক তফসিল বাদ; খ তফসিলও নিষ্ক্রিয়। শিক্ষকদের বেতন নিয়ে যতোবার আইন করে, ততোবারই আন্দোলনের হুমকি দিলে গাছে চড়ে পালিয়ে যায় আইন।

সরকারি-বেসরকারি কর্মচারিরাও পাগল-ছাগল আইনের বিরুদ্ধে যতোবারই কর্মসূচি দেয়, তাতোবারই আইন বাতিল। এবারও ব্যতিক্রম নয়। এক ধমকেই ফাটলো বেলুন, সচিব এবং শিক্ষদের বেতন সমান করার নির্দেশ। এরপরও যারা মনে করে বদ্ধ পাগল নেই, এখনই পাবনায় ভর্তি হয়ে যান, খর্চ আমার।

ভূত দেখার গল্প বলি। ছেলেবেলায় কাজের লোকের সঙ্গে গভীর রাতে বারবার ভূত ছাড়ানো দেখতে যেতাম। ভূতের বিষয়টি খুব মজাদার। একবার দোকানের কর্মচারীর বৌকে ভূতে ধরলে সেখানেও গেলাম। বয়স বড়জোর ৮ বা ৯। এখনো মনে আছে, হাড্ডিসার জ্যেঠিমার সে কি দৃশ্য।

চামড়ার জুতা পুড়িয়ে ভূতের নাকে ঠেসে ধরা। বাঁশের কঞ্চি খাওয়া নিয়ে উত্তপ্ত ভূত। ওঝার প্রতিটি কথারই উত্তর দিচ্ছে জ্যেঠিমা। ওঝা আর ভূত দরকষাকষিতে লিপ্ত হলো। ওঝার কাছে সে তার জন্মবৃত্তান্ত ব্যাখ্যা করে বললো, তার মা তাকে গর্ভপাত করিয়েছিলো ৭ মাসে।

ভূতের কণ্ঠস্বর শুনলে মনে হবে, নাক দিয়ে কথা বলছে। ওঝাকে বোকা বানানোর চেষ্টাও কম ছিলো না। রেগে গিয়ে বারবারাই জ্যেঠিমাকে জুতাপেটা করছিলো ওঝা। আমার কান্না পাচ্ছিলো হাড্ডিসার জ্যেঠিমার জন্য।

কাজের লোক সান্ত্বনা দিলো, তোর জ্যেঠি এখন ভূত। দেখিন না শরীরে কতো শক্তি। অবশেষে যখন রফা হলো, ওঝা দাবি করলো, তুই যে যাবি প্রমাণ কি? আবারও ভূতের চালাকি। বললো, ঝাটামুখে আমি গাছে উঠে চলে যাবো।

ওঝা বললো, ইয়ার্কি মারোস? আবার জুতার বাড়ি। কারণ ওঝা জানতো ভূতের চালাকি। বটগাছ থেকে পড়লে জ্যেঠিমা মারা যাবে। শেষ পর্যন্ত ভূত রাজি হলো, জুতায় কামড় দিয়ে গাঙ্গিনার পাড় দিয়ে চলে যাবে।

হাড্ডিসার জ্যেঠিমার শরীরে তখন দৈত্যের শক্তি! পোড়া জুতা দাঁতে কামড়ে ভোদৌঁড়। এখনো মনে হচ্ছে, ভূত-প্রেত সত্য। যাওয়ার আগে দারুণ বিরক্ত ভূত চোখ বড়বড় করে জ্যেঠিমার মুখ দিয়েই বলছে, “আমি এতোদিন ধইরা কি আরামে রক্ত চুইষা খাইতাছি আর তুই আমার সুখ-শান্তিতে বাধা দিলি? তোরে আমি দেখুম।” এই ছিলো আমার ভূত দেখার গল্প।

অবৈধ সরকারের অবস্থা এখন আমার জ্যোঠিমার মতো, মনের আনন্দে রক্ত চুষে খাচ্ছে বাংলাদেশের।

সূত্র: https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=1002512496487063&id=683177775087205

 

এআই