প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুটক্তি করায় গ্রেপ্তার ও শাস্তি পাওয়ার ভুরি ভুরি নজির পাওয়া যাবে শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকেই। শাস্তি প্রদানের এই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতিও এ ধরনের আটকের খবর জানা যায়।

কিছুদিন আগেও ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকৃত ছবি পোস্ট করার দায়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও পৌর মেয়র মো. নজরুল ইসলামের ছেলে সজীব ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বাদী হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে থানায় ওই মামলাটি করেন। মামলায় অবশ্য শুধু সজীব ইসলামকেই আসামি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী এসআই আব্দুস বলেন, সজীব ইসলাম তাঁর নিজের ফেসবুক পাতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ‘ব্যঙ্গচিত্র’ পোস্ট করেন। বিষয়টি স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নজরে এলে তাঁরা ছবিটি প্রিন্ট করে শাহজাদপুর থানায় অভিযোগ দেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর মামলাটি দায়ের করা হয়। (সূত্র: প্রথম আলো, ২৪ মার্চ ২০১৫)
মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান সম্পাদক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের মৃত্যুর পর ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করে একটি স্ট্যাটাস লিখেছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির খণ্ডকালীন প্রভাষক মুহাম্মদ রুহুল আমীন খন্দকারের ফেসবুকে ওই স্ট্যাটাসটি আপলোড করা হয় ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট। এতে তিনি লেখেন, “পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার ফল তারেক ও মিশুক মুনিরসহ নিহত ৫: সবাই মরে, হাসিনা মরে না কেন?”

পরের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি ওই স্ট্যাটাসের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালীন অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমীনকে তার অনুপস্থিতিতেই ৬ মাসের কারাদন্ডের সাজা দেয় হাইকোর্ট। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এই খবরটি ব্যাপক গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত করা হয়। “Bangladesh man given jail term for PM Hasina Facebook post”-এই শীরোনামে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস খবরটি প্রকাশ করে।

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের এসব তড়িৎ সিদ্ধান্তের যে কেউ প্রশংসা করতে বাধ্য। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করার পর দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের নজির হয়তোবা পৃথিবীর অনেক দেশেই দেখা যায় না। হোক না সেটা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক- তাই বলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যা খুশি তা লেখা নিশ্চয়ই কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

এবার আসা যাক নিহত ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুর ফেসবুক স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে। কী লিখতো ২৭ বছরের তরুন ব্লগার ওয়াশিকুর। পাঠকদের জ্ঞাত্যার্থে ওয়াশিকুরের কয়েকটি স্ট্যাটাস তারিখসহ হুবহু তুলে ধরা হলো:

২৭ মার্চ ২০১৫ বেলা ২টা ৭ মিনিটের স্ট্যাটাস: এক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী মুমিনকে বললাম হাজার দশেক টাকা দিতে পারবে কিনা? ৬ মাসের মধ্যে টাকা তো শোধ দিবই, উপরি হিসেবে তার যাবতীয় পাপ গ্রহন করবো আর নিজের একাউন্টে পুণ্যি থাকলে সব দিয়ে দিবো। মুমিন রাজি হলো না। মুমিনদেরও আজকাল ঈমান নেই!

২৬ মার্চ ২০১৫ বেলা ১টা ৪৪ মিনিটের স্ট্যাটাস: আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। মোল্লা স্বাধীন, জঙ্গি স্বাধীন, ছাগু স্বাধীন, মুমিন স্বাধীন, দুর্নীতিবাজ স্বাধীন, রাজনৈতিক নেতা স্বাধীন, পাতি নেতা স্বাধীন, ধর্ষক স্বাধীন, সামরিক বাহিনী স্বাধীন, সুশীল সমাজ স্বাধীন, পিনাকী স্বাধীন, শফি হুজুর স্বাধীন, দলদাস স্বাধীন, গার্মেন্টস মালিক স্বাধীন, লঞ্চ মালিক স্বাধীন...
স্বাধীন নয় কৃষক-শ্রমিক, স্বাধীন নয় কথিত সংখ্যালঘু-আদিবাসী, স্বাধীন নয় মুক্তচিন্তার মানুষ, স্বাধীন নয় মানুষ হতে চাওয়া মানুষগুলো...

২৪ মার্চ ২০১৫ রাত ৮টা ১০ মিনিটের স্ট্যাটাস: ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট আজ তথ্য-প্রযুক্তি আইনে বিতর্কিত ৬৬এ ধারা বাতিল করলো। অর্থাৎ, অনলাইনে লেখালেখির জন্য আর গ্রেফতার করা হবে না কাউকে। বরিশালের বি এম কলেজের এক ছাত্র কাল্পনিক স্রষ্টা আল্লাহর বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াতে তার শাস্তির দাবীতে বায়বীয় অনুভূতি তাড়িত শিক্ষার্থী (!) রা বিক্ষোভ করেছে। কলেজ অধ্যক্ষ অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেওয়া আশ্বাস দিয়েছে। ছেলেটি ইতোমধ্যে আত্নগোপনে চলে গেছে। তার শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত, জীবন হুমকির মুখে। কাল্পনিক স্রষ্টার মর্যাদা একটা জীবনের চাইতে বড় হয়ে গেল।

জঙ্গিরা ঘোষণা দিয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে ইসলামী বাংলাদেশ গড়ার, অপরদিকে শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কোনটা বাস্তবায়িত হবে বলে মনে করেন?

২১ মার্চ ২০১৫ রাত ৯টা ৪০ মিনিটের স্ট্যাটাস: নিজের ব্যর্থতা নিয়ে মন খারাপ করো না, অনেক মানুষের এর চেয়ে অনেক বেশি ব্যর্থতা থাকে। তার মানে নিজের কোন সফলতা নিয়েও খুশি হওয়া যাবে না! অনেক মানুষের এর চেয়ে বেশি সফলতা থাকে।

১৮ মার্চ ২০১৫ সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের স্ট্যাটাস: মুতা বিবাহের মত রেল ভ্রমন বিবাহ চালু করা দরকার। বিয়ে করে ট্রেনে চড়বে। যাত্রা শেষে আপনা আপনি তালাক হয়ে যাবে।

৫ই মার্চ ২০১৫ বেলা ২টা ৪৬মিনিটের স্ট্যাটাস: 'ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের সংঘর্ষ নেই' অবশ্য এই বিজ্ঞান জোকার নালায়েকের বিজ্ঞান। যেই বিজ্ঞানে মনে করা হয় বিজ্ঞানীরা বসে বসে ধর্মগ্রন্থ পড়ে সব আবিষ্কার করে। আর যেই বিজ্ঞান অনুসন্ধিৎসু, প্রশ্ন তুলে, সংশয়ী হতে শেখায়, মহাবিশ্ব সৃষ্টির জন্য স্রষ্টার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে, বিবর্তনের কথা বলে সেই বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের অবশ্যই সংঘর্ষ আছে।

৩মার্চ ২০১৫ রাত ১২টা ৪৭ মিনিটের স্ট্যাটাস: ইসলামী মতে কেয়ামতের দিন আলাহ মীযান নিয়ে পাপপুণ্যের ওজন করবে। আমাদের শুষিলরা দুনিয়াতেই অদৃশ্য মীযান হাতে অপরাধ মাপে। এই মীযানের মাপদণ্ডে সবচেয়ে ভারী অপরাধ হলো ধর্মকে গালাগাল। তাই তারা একপাল্লায় উগ্র আস্তিকদের জঙ্গিবাদ, হত্যা, ধর্ষণ, হিল্লা, সাম্প্রদায়িকতা উঠিয়ে অন্য পাল্লায় উগ্র নাস্তিকদের গালাগাল দিয়ে ব্যালেন্স সমান দেখিয়ে দাবী করে উগ্র নাস্তিক উগ্র আস্তিক দুইই সমান অপরাধী। অতপর শুষিল চুতিয়াদের কোন অবদানকে বিশ্বাসীরা অস্বীকার করবে?

২রা মার্চ ২০১৫'র স্ট্যাটাস: 'মেয়েরা পর্দা না করলে তো ধর্ষণ হবেই', 'লেখায় পর্দা না করলে তো কোপ খাবেই'। আপনি এই দুটি বাক্যের একটি সমর্থন করেন মানেই আপনি বলদা। আর আপনার এই বলদামিকে লাত্থি মেরে অনুভূতি নিহত করাই আমার লক্ষ্য।

১লা মার্চ ২০১৫'র স্ট্যাটাস: যে গ্রন্থের 'ভুল ব্যাখ্যায়' মানুষ মরে কিন্তু 'সঠিক ব্যাখ্যার' কোন প্রয়োগ বা উপযোগীতা থাকে না সেই গ্রন্থ নিষিদ্ধ হোক।

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫'র স্ট্যাটাস: এক থাবা বাবার মৃত্যু হাজার থাবা বাবা জন্ম দিয়েছে, এক অভিজিৎ রায়ের মৃত্যু লাখো অভিজিৎ রায়কে জন্ম দিবে। কলম চলবে, চলতেই থাকবে। তোদের বিশ্বাসের মৃত্যু না ঘটা পর্যন্ত। ইসলাম ধ্বংস হোক, ইসলাম ধ্বংস হোক, ইসলাম ধ্বংস হোক...

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫'র স্ট্যাটাস: মুমিনরা নিজেদের মশা-মাছি মনে করে তাই নারীর শরীর পর্দা আবৃত রাখার দাবী তোলে, তাহলে মুমিনরা নারীদের চুল ঢেকে রাখার কথা বলে কেন? তারা কি নিজেদের উকুন মনে করে?

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫'র স্ট্যাটাস: ভাগ্য ভাল এখনো গন্ধ ধারনের প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয় নি। নাহলে ছাগুর গন্ধে অনলাইনে আসাই যেত না। আর টিভি দেখা যেত না সুশীল শুয়োড়দের গন্ধে...

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫'র স্ট্যাটাস: নতুন কোন উপাদান আসলে মুমিনরা প্রথমে তা গ্রহন করতে অস্বীকার করে এবং দাঁত খিচিয়ে বলে, মুসলিমদের ইসলাম থেকে দূরে সরানোর জন্য ইহুদী-নাসারাদের ষড়যন্ত্র। অনেক পরে গ্রহন করতে বাধ্য হলে দাঁত কেলিয়ে বলে এটা মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান। একান্তই যদি মুসলিম বিজ্ঞানীর সাথে যোগসূত্র স্থাপন করা সম্ভব না হয় তাহলে বলে, বিজ্ঞানীরা সব কোরান পড়ে আবিষ্কার করে...

২১ ডিসেম্বর ২০১৪’র স্ট্যাটাস: মুমিনরা গর্ব করে বলে, 'ইসলাম নাকি দ্রুতবর্ধনশীল ধর্ম। সবাই গণহারে ইসলাম গ্রহন করছে।' অথচ হত্যা, বোমাবাজি, ধর্ষণ, অপহরন ছাড়া ইসলামিক কোন খবর পাই না। তারমানে কি খুন, ধর্ষিতা, অপহৃত হওয়া = ইসলাম গ্রহন?

৬ জানুয়ারি ২০১৫’র স্ট্যাটাস: ইসলাম এখন আর কোন ধর্ম নয়; পুরোদস্তর রাজনীতি। এর দুই পক্ষ ইসলামী পক্ষ আর ইসলাম বিরোধী পক্ষ। আর ইসলামী পক্ষের শক্তি হতে হলেই অবশ্যই রাজাকার, পাকী ও আরব প্রীতি থাকতে হবে; ব্যাক্তিগত জীবনে ইসলাম পালন করা বা না করার সাথে ইসলামী পক্ষ হওয়ার সম্পর্ক নেই।

এরকম বহু স্ট্যাটাস রয়েছে ওয়াসিকুর রহমান বাবুর যেখানে শুধুই ইসলাম ধর্ম বিদ্বেষী কথা রয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য কতটা মুক্ত চিন্তার মধ্যে পড়ে তা সামান্য সচেতন কোন মানুষেরও বুঝতে কষ্ট হবে না বলেই আমার বিশ্বাস। তবে, তরুন ব্লগার বাবুর কিছু কিছু স্ট্যাটাসের মধ্যে যথেষ্ট উদারতার প্রতিচ্ছবিও দেখতে পাওয়া যায়। হয়তো বা সেও প্রকৃত সত্য জানার ব্যাপারে মাঝে মধ্যে তাড়া অনুভব করতো। বিষয়টি পরিস্কার করতে তার এ ধরনের একটি স্ট্যাটাসের উল্লেখ করা হলো:

১১ই জানুয়ারি ২০১৫’র স্ট্যাটাস: আমি ইসলামিস্ট সন্ত্রাসীদের ঘৃণা করি, ইসলাম বিদ্বেষীদেরও ঘৃণা করি; আমি রাজাকারদের ঘৃণা করি, জামাত বিদ্বেষীদেরও ঘৃণা করি; আমি নাৎসি গণহত্যাকারীদের ঘৃণা করি, নাৎসিজম বিদ্বেষীদেরও ঘৃণা করি;
আমি Ku Klux Klan এর বর্ণবাদীদের ঘৃণা করি, Ku Klux Klan বিদ্বেষীদেরও ঘৃণা করি...

৬ জানুয়ারি ২০১৫’র স্ট্যাটাস: আওয়ামীলীগ দেশের একমাত্র ইসলামী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এ যাবত যত পদক্ষেপ নিয়েছে সবই সুপার ফ্লপ হয়েছে এবং লীগের নামকাওয়াস্তে ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়ই শুধু ক্ষুণ্ণ হয়েছে। হাসিনার নামাজ পড়া-কোরানের পাঠের বয়ান, মদিনা সনদে দেশ চালানোর ঘোষণা, নাস্তিক ব্লগারদের গ্রেফতার, শফি হুজুরকে জমি উপহার কিছুতেই কিছু হয়নি। অপরদিক খালেদা জিয়া দুপুর বারোটায় ঘুম থেকে উঠুক, বড়ো গণতন্ত্র ধর্মীয় রাজনীতির বিপক্ষে বক্তব্য দিক, ফরহাদ মজহার খোদাকে ব্যাঙ্গ করে কবিতা লিখুক, তুহিন মালিক ইজতেমাকে পিকনিক বলুক তাদের ইসলামী ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন থাকে।

জামাতকে ইসলামের থেকে আলাদা করার চেষ্টা করে লাভ নেই। বরং ইসলামী শক্তি হতে হলে জামাতকে কোলে নিয়ে পাক-আরবের কোলে উঠে যেতে হবে। আওয়ামী লীগ ইসলামী শক্তি হওয়ার প্রচেষ্টা অব্যহত রাখতে গিয়ে কতদুর যেতে পারে তাই দেখার বিষয়...

এবার আমার সরকারের কাছে প্রশ্ন একজন তরুন বয়সী ছেলে, যার তখনও পর্যন্ত জানার অনেক কিছু বাকি, হয়তো বা কোন মোহে বা ভুল বশত মুক্ত চিন্তা ভেবে ইসলাম বিদ্বেষী কথা লিখছিল, তাকে কি তখনই শোধরানোর দায়িত্ব সরকারের ছিল না? ছেলেটি বছরের পর পর ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে লিখে গেছে অবিরাম ধারায়। তাকে যদি শুরুতেই বলা হতো-তোমার ব্যক্তিগতভাবে যে কোন চিন্তা করার স্বাধীনতা আছে, কিন্তু প্রকাশ্যে একটি ধর্মকে কটাক্ষ করার অধিকার নেই, তাহলে কী সে এতদূর আসতে পারতো? তারই বয়সী অপর কিছু আবেগতাড়িত তরুনের হাতে তাকে কি এভাবে নির্মম হত্যার শিকার হতে হতো?

যাই হোক-এসব একান্তই আমার নিজস্ব মত। যে কারো ভিন্নমত পোষণের অধিকার রয়েছে। শুধু কয়েকটি প্রশ্ন-আমেরিকার মাটিতে বসে কেউ যদি খ্রিস্ট ধর্মকে কটাক্ষ করে পাবলিকলি কিছু লিখেন, সেটাকে কী আমেরিকার জনগণ বা সরকার মুক্ত চিন্তা হিসেবে গ্রহণ করবেন? কেউ যদি ইসরাইলে বসে ইহুদী ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করে পাবলিকলি কিছু লিখেন, ইসরাইলি জনগণ বা সরকার কি সেটাকে মুক্ত চিন্তা হিসেবে গ্রহণ করবেন? কেউ যদি ভারতে বসে হিন্দু ধর্মকে কটাক্ষ করে পাবলিকলি কিছু লিখেন ভারতের জনগণ বা সরকার কি সেটাকে মুক্ত চিন্তা হিসেবে গ্রহণ করবেন? চীনে বসে কেউ যদি দেশটির সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে পাবলিকলি কিছু লিখেন, চীনের সরকার বা জনগণ কী সেটাকে মুক্ত চিন্তা হিসেবে আখ্যায়িত করবেন?

আমি ওয়াশিকুরের এই পরিণতির দায় সরকারের ওপরই সবচেয়ে বেশি বর্তায় বলে মনে করি। তাই সবিনয় অনুরোধ সরকারের কাছে-আর যেন এমন কোন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনই পদক্ষেপ নেয়া হোক যাতে কেউ কোন ধর্ম নিয়ে- হোক সেটা ইসলাম, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদী বা অন্য কোন ধর্ম-কারো ধর্মীয় অনুভূতিতেই আঘাত করা যাবে না।

অপরদিকে, মসজিদ, মাদ্রাসার মাওলানা ও আবেগতাড়িত মুসলিমদের প্রতিও অনুরোধ এভাবে কাউকে নির্মমভাবে খুন করে কখনও কোন ধর্মের প্রসার হয় না। যুক্তি দিয়ে মানুষকে বোঝাতে পারলেই মানুষ সঠিক জিনিসটা যার যার বিবেকবোধ অনুযায়ী গ্রহণ করবেন। আর কে কোনটা গ্রহণ করবেন বা করবেন না সেটা একান্তই তার ব্যক্তি স্বাধীনতা। উদাহরণস্বরুপ সবার বোঝার সুবিধার্থে বলছি-আজ ভারতে বসে ডা. জাকির নায়েক যুক্তি দিয়ে ইসলামের প্রসারে যে ভূমিকা রাখছেন সেটা বড়- নাকি সে যদি আবেগতাড়িত হয়ে কোন নাস্তিককে হত্যা করে নিজে জেলে যেতেন সেটা বড় হতো?

বাংলাদেশের চলমান সুবিধার রাজনৈতিক পটভূমিতে পরিশেষে এটাই একটি সংশয়ের অবতারণাপূর্বক লেখার সমাপ্তি টানছি। আর সেটা হলো- আদৌ দেশের তরুণ সমাজের কল্যাণে কর্তা ব্যাক্তিরা সোচ্চার হবেন নাকী ওয়াশিকুর বাবু, অভিজিৎ রায় কিংবা রাজীব হায়দারদের জীবনের বিনিময়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করবেন?