শিক্ষা জীবন শেষে একজন শিক্ষার্থীকে আবার যুদ্ধ করতে হয় একটি চাকরি করার জন্য। বর্তমান সময়ে একটা ভালো চাকরি মানে সোনার হরিণ। তবে যাদের মামা-খালু আছে, স্বভাবতই তাদের চাকরি নিয়ে তেমন চিন্তা করতে হয় না।
অন্যদিকে যারা কোনো না কোনো কোটার আওতাভুক্ত তারাও চাকরির ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত। সামান্য একটু মেধা আর একটা কোটা, ব্যস হয়ে গেলো—চাকরি আর ঠেকায় কে?
অথচ যারা সত্যিকারের খুব মেধাবী, তাদের যত চিন্তা। ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো বিষয়ে পড়াশোনা করলেও ভালো কোনো চাকরি হবে কিনা তা নিয়ে সব সময় প্রকৃত মেধাবীদের চিন্তায় থাকতে হয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০%, নারী কোটা ১০%, জেলা কোটা ৫%, প্রতিবন্ধী কোটা ৫% এবং উপজাতি কোটা ৫%। বাকি থাকলো মাত্র ৪৫%। এই ৪৫% হচ্ছে মেধাবীদের তথাকথিত ভরসা।
তথাকথিত বলার কারণ হচ্ছে —এখানে অলিখিত আরেকটি কোটা আছে। সেটা হলো লবিং কোটা। মামা কিংবা খালুর সুবাদে যার লবিং জোর যত বেশি, সে চাকরিপ্রাপ্তির যোগ্যতায় ততবেশি উপযু্ক্ত। অনেক ক্ষেত্রে আগেই ঠিক করা থাকে, কাকে কাকে চাকরি দেয়া হবে।
শুধু লোক দেখানো মৌখিক পরীক্ষা হয় মাত্র। এমনিতেই চাকরির সংকট তার ওপর আবার এত সব ঘটনা মেধাবীদের দুশ্চিন্তায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।
তাই এসবের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার আতঙ্কে থাকে মেধাবীরা। তবে এটাও সত্যি কোটাভুক্তদের মধ্যে অনেকেই মেধাবী থাকতে পারে। কিন্তু সে সংখ্যা খুব বেশি হবে না বলে আমার বিশ্বাস।
কোটাভুক্তদের প্রয়োজনে আরোও অনেক সুযোগ দেয়া যেতে পারে তবে সেটা অন্য কোনো উপায়ে। অবশ্যই কাউকে বঞ্চিত করে নয়। একজন মেধাবীকে টপকিয়ে আরেকজন অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) কেন এগিয়ে থাকবে? এ কেমন ব্যবস্থাপনা? কোটাভুক্তদের এমন কোনো সুযোগ দেয়া হোক যাতে সরাসরি অন্য কেউ বঞ্চিত না হয়।
কোটাভুক্তদেরকে প্রয়োজনে নির্দিষ্ট পরিমাণের মাসিক ভাতা দেয়া যেতে পারে অথবা সবার সঙ্গে সমভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাকরিপ্রাপ্তির পর তাদের বেতন অন্যদের চেয়ে কিছু বা অনেক বেশি দেয়া যেতে পারে। তাহলে অন্তত মেধার অবমূল্যায়ন হবে না। এছাড়া মেধাবীরাও আর কোটা আতঙ্কে থাকবে না।
আমরা যদি সমধিকারে বিশ্বাসী হই তাহলে প্রশ্ন হলো—এই কোটা ব্যবস্থা কি সমধিকারের আওতায় পড়ে। তাই আমার মতে প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন করে, তারপর কোটাভিত্তিক সুবিধা প্রদান করা হোক।
ওএফ





