সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বৃদ্ধা মা আমিনা খাতুন তার ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে ‘আমার অসুস্থ ছেলেকে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও’ শিরোনামে সরকার ও সিলেটবাসীর কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। আর এই চিঠিটি লিফলেট আকারে প্রচার করেছে ‘মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মুক্তি পরিষদ।’
পাঠকদের জন্য চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
আমি আমিনা খাতুন। আপনারা যারা ভালবেসে বিগত নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরীকে মেয়র নির্বাচিত করেছেন, আমি তার মা। আজ আমি বড় অসহায়, হৃদয় আমার ভারাক্রান্ত, অসুস্থ হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে পুত্রের দুশ্চিন্তায় দিশেহারা। শেষ বয়সে এসেও নির্ঘুম রাত কাটছে আমার। কোন পথ খুঁজে না পেয়ে আমি আমার সবচেয়ে আপনজন এই সিলেটের মানুষের দ্বারস্থ হয়েছি। যেভাবে আমার সন্তানও নির্বাচনের সময় আপনাদের কাছে শেষ আশ্রয় খুঁজেছিলো। তবে সিলেট মেয়রের মা হিসেবে নয়, একজন অসুস্থ ও বারবার ষড়যন্ত্রের শিকার এক ছেলের অসহায় মা হিসেবে আপনাদের বিবেকের দুয়ারে হাজির হয়েছি। ৮৩ বছরের এক অসহায় বৃদ্ধা আপনাদের কাছে ছেলের জন্য দোয়া চাই। আমি জানি ছেলের জন্য যে কোনো মানুষের কাছে মায়ের দোয়া চাওয়াটা অন্যায় নয়। আর আরিফুল হক চৌধুরী শুধু আমার সন্তান নয়, যেদিন থেকে সে নগরবাসীর জন্য কাজ শুরু করেছিলো, সেদিন থেকে আমি তাকে আপনাদের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছি। তাই আরিফ আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই, আপনাদের আপনজন বললে ভুল হবে না। আরিফুল হক চৌধুরীর বাবা মারা গেছেন ১৯৯১ সালে। সে আমাদের একমাত্র ছেলে, তার কোন চাচাও নেই। আমরা আজ অভিভাবকহীন অসহায় এক পরিবার।
আমার আদরের ছেলেটিকে ছোটবেলা থেকেই মানবতার সেবায় কাজ করার জন্য শিক্ষা দিয়েছে। সেজন্য যখনই সুযোগ পেয়েছে আমার ছেলে সিলেটের মানুষের উন্নয়নের জন্য রাতদিন পরিশ্রম করে গেছে। যা আপনাদের চোখে দেখা। এসব কাজ করতে গিয়ে তাকে অনেক বিপদ মোকাবেলা করতে হয়েছে। দুই দুইবার সে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিল। একবার সড়ক দুর্ঘটনায় সে প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং সিলেটবাসীর দোয়ায় সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছে, যদিও দুর্ঘটনার কারণে এখনও শারীরিক সমস্যা রয়েই গেছে।
সর্বশেষ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর রাত দিন পরিশ্রম করার ফলে সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। আবারও আল্লাহপাক আমার প্রতি সদয় হয়েছেন এবং সিলেটের কোটি মানুষের দোয়ায় সুস্থ হয়েছে আমার ছেলে।
সুস্থ হয়ে আমার ছেলে নগরবাসীর কাজ শুরু করতে না করতেই তার আমনে আবার এখন নতুন বিপদ হাজির হয়েছে। আমি আমার ছেলেকে ভালো করেই চিনি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পর্ণূ ভিত্তিহীন। আমার ছেলে এরকম কোন অপরাধ করতেই পারে না। সিলেটের বিবেকবান সকল মানুষই জানেন, এটা একটা গভীর যড়যন্ত্র। আমি জানি আমার ছেলে নির্দোষ। অভিভাবকহীন পরিবার হিসেবে সিলেটবাসীই এখন আমাদের অভিভাবক। আমি আপনাদের কাছে আমার ছেলের জন্য দোয়া চাচ্ছি। সরকারের কাছে আমি বিশেষভাবে আকুতি জানাচ্ছি, আমার অসুস্থ ছেলেটাকে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন।
সর্বশেষ জানতে পেরেছি, কারাগারে গিয়ে আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখন সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে-শুনেছি তার শরীরের অবস্থা ভাল না। এক অসহায় সন্তানের মা হিসেবে সিলেটবাসীর বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন কেন আমার ছেলের প্রতি এত নির্মম আচরণ ?
আমি নামাজ পড়ে, পবিত্র কোরআন শরীফ পড়ে আল্লাহর দরবারে আমার ছেলের জন্য দোয়া করছি। নিশ্চয়ই তিনি অসহায় মায়ের কান্না শুনতে পাবেন। যে কষ্ট, মানসিক যন্ত্রণা, অমানবিক অবিচার আমার ছেলের জীবনে বারবার ঘটছে, হে আল্লাহ তা যেন আর কোন সন্তানের ভাগ্যে না ঘটে। আমিন।
জেএ





