গত ২৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ শহরের রথখোলা এলাকায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও তিন ফুট প্রস্থ সুড়ঙ্গ করে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা চুরি করা হয়। দুঃসাহসিক এই চুরির পর র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানের তত্ত্বাবধানে র্যাবের বিশেষ দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে র্যাব মূল আসামিকে টাকাসহ গ্রেফতার করে।
এমন দুঃসাহসিক চুরি এবং ঘটনার পর দুদিনের মধ্যেই মূল আসামীকে টাকাসহ গ্রেফতারের এই ঘটনায় রীতিমতো ঝড় ওঠে গণমাধ্যমে। এমনকী একাধিক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চুরির টাকা গণনার খবর সরাসরি সম্প্রচার করে। সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা ছুটে যান র্যাবের সদর দফতরে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1391045175.jpg[/img]
খবরে প্রকাশ, সোনালী ব্যাংক থেকে চুরি হওয়া ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ১৬ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা উদ্ধার করেছে র্যাব। টাকা লুটের সঙ্গে জড়িত মূল হোতা হাবিবুর রহমান ওরফে সোহেল (৩৭) ও তার সহযোগী ইদ্রিসকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে র্যাবের বিশেষ দল রাজধানীর শ্যামপুর বালুর মাঠ এলাকাসংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। পরে 'তনয় ভিলা' নামে ওই বাসা থেকে ৫টি বস্তায় ভর্তি টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
এরপর বেরিয়ে আসে ব্যাংকের টাকা চুরির মূল হোতা সোহেলের দুঃসাহসিক কাহিনী। বছর দুয়েক আগে সুড়ঙ্গ কাটার পরিকল্পনা এবং দেড় বছর ধরে সুড়ঙ্গ কেটে ব্যাংকের ভল্টে পৌঁছানো থেকে শুরু টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর বর্ণনা দেয় সোহেল। চালের ব্যবসায়ী সেজে সে টাকাভর্তি ট্রাক নিয়ে ঢাকায় আসে গত ২৫ জানুয়ারি। এর পর ব্যাংক লুটের টাকায় কেনা ২২২ বস্তা চাল ঢাকার বাইরে এক পীরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় সোহেল। বাকি আট বস্তা চাল ঢাকায় নিজের ভাড়া বাসায় রাখে। আর চালের বস্তার নিচেই টাকার বস্তা ট্রাকে করে ঢাকায় আনে সোহেল।
[b]কে এই সোহেল:[/b]
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1391045121.jpg[/img]
একসময় সে একটি কেবল কোম্পানিতে চাকরি করত। ২০০৮ সালে দুবাই যাওয়ার আগে কিশোরগঞ্জে বিয়ে করে। দুবাইতে সে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। সেখানে হাতেখড়ি রড ও মাটি কাটার নানা যন্ত্রপাতির সঙ্গে। ২০১১ সালে সাত লাখ টাকা নিয়ে দুবাই থেকে ফেরত আসে। ততদিনে তাদের পটুয়াখালীর বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এর পর সে স্ত্রীকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ সদরের নবুয়াতলায় শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বসবাস শুরু করে।
[b]সেই দুঃসাহসিক অভিযানের বর্ণনা যেভাবে দিল সোহেল: [/b]
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল র্যাবকে জানায়, বিদেশে অর্জিত সাত লাখ টাকার মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা মামাশ্বশুর সিরাজকে ব্যবসায় খাটানোর জন্য দেয়। মামাশ্বশুর এই টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করেন। একপর্যায়ে সোহেলকে পরামর্শ দিয়ে সিরাজ বলেন, 'এই টাকা সামান্য। কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় সুড়ঙ্গ তৈরি করে ভল্ট লুট করতে পারলে একবারেই অনেক টাকার মালিক হবে।'
মামা শশুরের এমন আজগুবি পরামর্শই মনে ধরে যায় সোহেলের। এর পরই সে এক কাঠমিস্ত্রির পরিচয়ে ব্যাংক ভবনটির পাশে বাসা ভাড়া নেয়। মামা শ্বশুরের পরামর্শ ও সহযোগিতায় দুই বছর আগে থেকে একটু একটু করে শুরু হয় সুড়ঙ্গ তৈরি।
সোহেল জানায়, সে দিনে সুড়ঙ্গ তৈরি করত। সপ্তাহে এক-দু'দিন বাইরে থেকে অন্য কারও মাধ্যমে ঘরটি তালাবদ্ধ করে সুড়ঙ্গ তৈরি করে। দিনে নানা শব্দের কারণে সুড়ঙ্গ তৈরি করতে তার সহজ হতো।
সোহেল আরো জানায়, নিরিবিলি হওয়ায় রাতে কখনও সুড়ঙ্গ তৈরি করত না সে। বৃষ্টি হলে সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ বন্ধ থাকত। অন্ধকারের মধ্যে কাজ করতে নিজ বাসা থেকে সুড়ঙ্গে বৈদ্যুতিক লাইন নেয়। পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভেতরে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে পিলার তৈরি করা হয়। সর্বশেষ গত ঈদুল আজহার আগে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ব্যাংকটির কাছাকাছি পৌঁছায় সে। এরপর গত ২৪ জানুয়ারি (শুক্রবার) রাত ৮টার দিকে সে সুড়ঙ্গ হয়ে ব্যাংকের ভল্টের সামনে পৌঁছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1391045324.jpg[/img]
ভল্টের সামনে একটি টেবিলের ওপর টাকা দেখতে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয় সোহেল। পরিকল্পনা সফল হওয়ায় এত টাকা একসঙ্গে পেয়ে সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে নফল নামাজ আদায় করে বলেও সোহেল র্যাবকে জানায়।
পরে চার দফায় বস্তা ভরে প্রথমে ব্যাংক থেকে তার বাসায় আনে। এতে তার সময় লাগে চার ঘণ্টা। পরদিন ২৫ জানুয়ারি (শনিবার) সকালে টাকার বস্তা বাসায় রেখে কিশোরগঞ্জের আড়ত থেকে ২৩০ বস্তা চাল কেনে সে। চাল ব্যবসায়ী পরিচয়ে এর পর সে ট্রাক ভাড়া করে। ওই চালভর্তি ট্রাকে টাকার বস্তা নিয়ে ঢাকায় এসে শ্যামপুরের ভাড়া বাসায় ওঠে সোহেল।
[b]র্যাবের বক্তব্য:[/b]
র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সোহায়েল দুই বছরের পরিকল্পনায় প্রথমে সুড়ঙ্গ তৈরি করে। এর পর ব্যাংকের টাকা লুট করে। এর সঙ্গে ব্যাংকের কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছেন। তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, টাকা চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ব্যাংকে চুরির ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গত ২৮ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় উদ্ধার করা টাকা ও গ্রেফতার দু'জনকে নিয়ে উত্তরায় র্যাব সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1391045494.jpg[/img]
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের ডিজি মোখলেছুর রহমান আরও বলেন, সুড়ঙ্গ কেটে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা লুটের ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই র্যাবের একটি দল চক্রটিকে চিহ্নিত করার জন্য অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দুপুরে শ্যামপুর বালুর মাঠ এলাকায় তনয় ভিলা নামে একটি বাসা শনাক্ত করা হয়। ওই বাসায় ভল্ট থেকে টাকা লুটের মূল হোতা সোহেল অবস্থান করছে_ এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের ডিজি বলেন, গ্রেফতার হওয়া সোহেল টাকা চুরির মূল হোতা। এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা তদন্তে বের হয়ে আসবে। তবে সোহেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, কিশোরগঞ্জের ওই ব্যাংক শাখাটির কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে সহায়তা করেছেন।
র্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, সোহেল দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইতে ছিল। সেখানে সে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন ভবনের সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ করত। এতে সে সুড়ঙ্গ তৈরিতে প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে। পটুয়াখালীর বাসিন্দা সোহেল দেশে ফিরে দুই বছর আগে কিশোরগঞ্জে অবস্থান নেয়। সেখানে সে নিজের আসল নাম (হাবিবর রহমান) গোপন রেখে সোহেল নামে পরিচিত হয়। কিশোরগঞ্জের রথখোলা এলাকায় সোনালী ব্যাংকের পাশে একটি বাসা ভাড়া নেয় সে। ওই বাসার ভেতর থেকেই সুড়ঙ্গ তৈরি করে ব্যাংকের ভল্টে প্রবেশ করে।
[b]বস্তায় বস্তায় টাকা :[/b]
র্যাব সদর দফতরে পাঁচটি চটের বস্তা থেকে বের করা হচ্ছিল এক হাজার ও পাঁচশ' টাকার শত শত বান্ডিল। এর পর ব্যাংক থেকে চুরি হওয়া এসব টাকা একাধিক র্যাব কর্মকর্তারা গুনতে থাকেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংকের উত্তরা করপোরেট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক কাজী নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দল। র্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু মামলা হয়েছে, তাই উদ্ধার করা এসব টাকা মামলার আলামত। এখনই তা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। গণনার পর দেখা যায়, ২০ লাখ ৪৩ হাজার ৪শ টাকা দুদিনে খরচ করেছে সোহেল। উদ্ধার হয় ১৬ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৬শ টাকা।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1391045551.jpg[/img]
[b]সোহেলের নিজ গ্রামের মানুষের প্রতিক্রিয়া: [/b]
খবরে প্রকাশ, সুড়ঙ্গ খুঁড়ে কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. হাবিব ওরফে সোহেল ওরফে ইউসুফের গ্রামের মানুষ লজ্জিত ও বিস্মিত। হাবিবের প্রতি ঘৃণা-ধিক্কার জানাচ্ছেন তাঁরা।
টাকা লুটের ঘটনায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য।
হাবিব গ্রামের মানুষের কাছে ইউসুফ হিসেবে পরিচিত। গত ২৮ জানুয়ারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তাঁর ছবি দেখে গ্রামের মানুষ নিশ্চিত হন, কথিত হাবিব তাঁদের গ্রামেরই ইউসুফ (৩৮)। এ ছাড়া ইদ্রিস (৩০) নামে যে আরেকজনকে র্যাব গ্রেপ্তার করেছে, তিনি ইউসুফের আপন ছোট ভাই।
ইউসুফের বাবা সেরাজ ওরফে সেরু ২৫ বছর আগে মারা যান। সেরাজ তিন বিয়ে করেন। ছোট স্ত্রী সুফিয়া বেগমের (৭০) তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে ইউসুফই বড়। পাঁচ বছর আগে ছোট ছেলে ইব্রাহিম মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার পর সুফিয়া সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যান।
পারিবারিক সূত্র জানায়, অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন ইউসুফ ১৩ বছর আগে নিজ গ্রামের পাশের পাঙ্গাশিয়া গ্রামে বিয়ে করেন। তাঁর দুই সন্তান ও স্ত্রী গ্রামে থাকেন। ২০০৯ সালে ইউসুফ সর্বশেষ গ্রামে যান। গিয়ে ঘর তুলে মাকে সেখানে রেখে চলে যান। এর পর থেকে ইউসুফের আর কোনো খোঁজ পাননি স্বজনসহ গ্রামবাসী।
সুফিয়া বেগম জানান, তাঁর ছেলে কিশোরগঞ্জে আরেকটি বিয়ে করেছে বলে তাঁরা শুনেছেন। এ ছাড়া তাঁরা সবাই জানতেন, ইউসুফ বিদেশে আছে। আরেক ছেলে ইদ্রিস ঢাকার শ্যামপুরে একটি কারখানায় কাজ করে। মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়ি এসে তাঁকে খরচের টাকা দিয়ে যায়।
গ্রামবাসীর অনেকে ইউসুফকে ধূর্ত প্রকৃতির বলে মন্তব্য করেন। তারা বলেন, স্থানীয় বাজারে টিভিতে ব্যাংকের টাকা চুরির খবরটি তাঁরা প্রথম জানতে পারেন। ‘টিভি ও পত্রিকায় ছবি দেখে নিশ্চিত হই, ওরা এই গ্রামেরই ছেলে এবং আপন দুই ভাই ইউসুফ ও ইদ্রিস। এরা যে কাজটি করেছে, তা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।’
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1391045617.jpg[/img]
[b]সোহেলের মায়ের প্রতিক্রিয়া ও এই লেখা: [/b]
হাবিব ওরফে সোহেল ওরফে ইউসুফের মা বলেন, তাঁর ছেলে চুরি করেছে, সে বিচার তো হবেই। সেই সঙ্গে এত বড় কাজ তাঁর ছেলে একা করতে পারে না। যাঁরাই এর সঙ্গে জড়িত, তাঁদের যেন বিচার হয়।
সোহেলের মায়ের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই লেখার চিন্তাটি মাথায় আসে। এতবড় কাজ তার ছেলে একা করতে পারে না। যে কোন সচেতন মানুষই এমনটাই ভাববেন যে এমন কাজ সোহেল একা করতে পারে না। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে।
ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই টাকাসহ সোহেলকে র্যাব আটক করতে সক্ষম হলো। গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রচারনাও পেল। চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনায় ২৬ জানুয়ারি (রোববার) স্থানীয় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যসহ ম্যানেজারকেও আটক করা হয়েছে।
যেই র্যাব ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল হোতা সোহেলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলো, সেই র্যাব সোহেলের বর্ণনানুযায়ী সব অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ঘটনার পেছনে আরো যদি কোন রাঘব-বোয়াল থেকে থাকে তাদেরও পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ধরতে সক্ষম বলেই মনে করেন সচেতন মানুষ। কিন্তু হলমার্ক কেলেংকারিসহ একেকটি ঘটনার লেজ শেষ পর্যন্ত যাদের দোড়গোড়ায় গিয়ে ঠেকবে, তাতে ঘটনার চূড়ান্ত ফলোআপের খবর দেশবাসী কতটুকু জানতে পারবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান বলেই আমার ধারণা।
তবে, এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষিপ্র সফলতা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। খবরে প্রকাশ, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশের আট সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। দুঃসাহসিক এ চুরির ঘটনায় গত ২৭ জানুয়ারি ব্যাংকের ওই শাখার ব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন কবীর ভূঞা, জিম্মাদার মো. মোহসিনুল হক, হাসান আহম্মদ মঈনসহ ব্যাংকের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং একই কারণে আরও ছয়জনকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ দল ঘটনাটির তদন্ত করছে।
লুন্ঠিত এই টাকা ঢাকা আনার পর কোথায় কোথায় ভাগ-বাটোয়ারা হতে যাচ্ছিল, সোহেলের সাথে এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কারা ছিলেন, কোন রাঘব বোয়াল আছে কীনা-এই সব প্রশ্নের সঠিক জবাব দিয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই যদি র্যাব পাল্টা আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করতে সক্ষম হয়, তাহলেই মানুষের পরিপূর্ণ আস্থা ফিরে আসবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। অন্যথায় সবার মনে দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জিভুত সেই পুরোনো খটকাটি কিন্তু থেকেই যাবে।
আবারো পুরোনো একটি কথারই পুনরাবৃত্তি করে লেখাটি শেষ করতে চাই: ‘বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইচ্ছে করলে বের করতে পারেনা এমন কোন ঘটনা এদেশে ঘটে না।’ তবুও সাগর-রুনি হত্যা রহস্যের মতো কতকিছুই না অগোচরে থেকে যায় বছরের পর বছর!
[b]লেখক: সাংবাদিক
email: [email protected][/b]
মতামত
‘এত বড় কাজ আমার ছেলে একা করতে পারে না, যারাই এর সঙ্গে জড়িত তাদের সবার বিচার হোক’
গত ২৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ শহরের রথখোলা এলাকায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও তিন ফুট প্রস্থ সুড়ঙ্গ করে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা চুরি করা হয়। দুঃসাহসিক এই চুরির পর র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানের তত্ত্বাবধানে র্যাবের বিশেষ দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়।





