মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আইন সংশোধনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে দলীয় পতাকা তলে আনার যে পদক্ষেপ আপনি নিয়েছেন, তা একটি মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু মাগো আপনি জানেন কি, আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কাঁধে নিতে যাচ্ছেন! এ প্রতিষ্ঠানে আজ পর্যন্ত ব্রিটিশ ও পাকিস্তানের আইন কার্যকর আছে। এ প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন।

অথচ প্রতিষ্ঠানের প্রধান চেয়ারম্যানের মাসিক সরকারি ভাতা ১৫৭৫ টাকা ও সদস্যদের ভাতা ৯৫০ টাকা, যা খুবই অপ্রতুল। ইউপি অংশের কিছু ভাতা থাকলেও ইউপি রাজস্ব তহবিলে টাকার অভাবে ওই ভাতা তারা কখনোই ভোগ করতে পারেন না।

এ প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি ভাতার অতিরিক্ত কোনো টাকা উপার্জন করা মানেই তা অবৈধভাবে উপার্জন করা। উন্নয়ন খাতে প্রকল্প ব্যয়ের একটি অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাপ্য হয়।

কিন্তু ওই পারিশ্রমিকের বৈধতা আজ পর্যন্ত দেয়া হয়নি বিধায় জনপ্রতিনিধিদের মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এর ফলে সৎ, নীতিবান লোকজনের ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দুর্নীতিগ্রস্ত, অকার্যকর ও অথর্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিটে একাধিক কর্মচারী নিয়োগের প্রয়োজন থাকলেও এই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কাজ করার জন্য ইউপি সচিব পদে মাত্র একজন কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে। কর আদায়কারীর অভাব এবং জনপ্রতিনিধিদের ভোটিং দুর্বলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে।

অথচ প্রশাসনিকভাবে নিয়োগকৃত স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ইউপি সচিবকে অযাচিতভাবে লজিং মাস্টারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।

প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত অন্যান্য প্রশাসনিক সরকারি কর্মচারীদের ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার বা সমন্বয় করতে ইউপি সচিব ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন।

পেনশন-ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ সরকারি চাকরির অনেক সুবিধা থেকেও এরা বঞ্চিত। কোনো কোনো সময় মাস শেষেও এদের বেতন হয় না। চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু বা পঙ্গুত্ববরণ করলে কেউ এদের দায়িত্ব নিতে রাজি হয় না। ইউপি সচিবরা একাধিক দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করলেও এটি একটি ১৪ নম্বর গ্রেডের ব্লক পোস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ প্রতিষ্ঠানে গ্রাম পুলিশ নামে কিছু ‘২৪ ঘণ্টার অ-কর্মচারী’ রাখা হয়েছে, যাদের সাকুল্য মাসিক বেতন ১ হাজার ৯০০ টাকা। এরা সংসার চালানোর তাগিদে ভিন্ন পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হয়। সুনির্র্দিষ্ট বেতন-ভাতার অভাবে তথ্যসেবা কেন্দ্রেও দক্ষ লোক নিযুক্ত করা যাচ্ছে না।

প্রশাসনিক কাজ করার জন্য লোকের স্বল্পতা থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানে তদারকি করার লোকের অভাব হয় না। ১৩ জন জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত ১ জন ইউপি সচিব থাকা সত্ত্বেও সাক্ষী হিসেবে ট্যাগ অফিসার, তদারকি কর্মকর্তা, ইউডিও পদে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে ইউনিয়ন পরিষদে তদারকি করার জন্য নিযুক্ত করা হয়।

নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব শেষ করে অন্য আর একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বভার বহন করার মানসিক দৃঢ়তা ও সক্ষমতা খুব কম লোকেরই হয়। তাই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি সুবিধা আদায় অথবা চাপে পড়ে বাধ্য হওয়া ছাড়া ইউপি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত বোধ করাটাই স্বভাবিক। এসব কর্মকর্তার চাপে ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠানটি পচা দুর্গন্ধময় নর্দমায় পরিণত হয়েছে।

আপনি কী পারবেন মা, নর্দমায় হাবুডুবু খাওয়া ইউপি জনপ্রতিনিধি ও কর্মচারীদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতে; দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে এদের সৎ, নিষ্ঠাবান ও সুনাগরিকের মর্যাদা দিতে!

মা, আপনার ওপর আমার যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। আপনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান জাতিকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন।

আর আপনি সেই রাষ্ট্রকে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। একমাত্র আপনিই পারবেন, ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে।

আমরা হাজার হাজার সন্তান আপনার পাশে থাকব। আমি জানি, স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন করে এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষমতা আপনার আছে।

তা করা হলে এ প্রতিষ্ঠান উদীয়মান সূর্যের মতো উন্নয়নের জ্যোতি ছড়াবে। দেশের মানুষ আপনার নাম তাদের মনের মনিকোঠায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখবে। আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

মো. হুমায়ুন কবীর

ইউপি সচিব, ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ (সূত্র: যুগান্তর)

এআই

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক সন্তানের খোলা চিঠি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আইন সংশোধনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে দলীয় পতাকা তলে আনার যে পদক্ষেপ আপনি নিয়েছেন, তা একটি মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু মাগো আপনি জানেন কি, আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কাঁধে নিতে যাচ্ছেন! এ প্রতিষ্ঠানে আজ পর্যন্ত ব্রিটিশ ও পাকিস্তানের আইন কার্যকর আছে। এ প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। অথচ প্রতিষ্ঠানের প্রধান চেয়ারম্যানের মাসিক সরকারি ভাতা ১৫৭৫ টাকা ও সদস্যদের ভাতা ৯৫০ টাকা, যা খুবই অপ্রতুল। ইউপি অংশের কিছু ভাতা থাকলেও ইউপি রাজস্ব তহবিলে টাকার অভাবে ওই ভাতা তারা কখনোই ভোগ করতে পারেন না। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি ভাতার অতিরিক্ত কোনো টাকা উপার্জন করা মানেই তা অবৈধভাবে উপার্জন করা। উন্নয়ন খাতে প্রকল্প ব্যয়ের একটি অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাপ্য হয়। কিন্তু ওই পারিশ্রমিকের বৈধতা আজ পর্যন্ত দেয়া হয়নি বিধায় জনপ্রতিনিধিদের মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এর ফলে সৎ, নীতিবান লোকজনের ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দুর্নীতিগ্রস্ত, অকার্যকর ও অথর্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিটে একাধিক কর্মচারী নিয়োগের প্রয়োজন থাকলেও এই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কাজ করার জন্য ইউপি সচিব পদে মাত্র একজন কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে। কর আদায়কারীর অভাব এবং জনপ্রতিনিধিদের ভোটিং দুর্বলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। অথচ প্রশাসনিকভাবে নিয়োগকৃত স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ইউপি সচিবকে অযাচিতভাবে লজিং মাস্টারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত অন্যান্য প্রশাসনিক সরকারি কর্মচারীদের ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার বা সমন্বয় করতে ইউপি সচিব ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। পেনশন-ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ সরকারি চাকরির অনেক সুবিধা থেকেও এরা বঞ্চিত। কোনো কোনো সময় মাস শেষেও এদের বেতন হয় না। চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু বা পঙ্গুত্ববরণ করলে কেউ এদের দায়িত্ব নিতে রাজি হয় না। ইউপি সচিবরা একাধিক দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করলেও এটি একটি ১৪ নম্বর গ্রেডের ব্লক পোস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানে গ্রাম পুলিশ নামে কিছু ‘২৪ ঘণ্টার অ-কর্মচারী’ রাখা হয়েছে, যাদের সাকুল্য মাসিক বেতন ১ হাজার ৯০০ টাকা। এরা সংসার চালানোর তাগিদে ভিন্ন পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হয়। সুনির্র্দিষ্ট বেতন-ভাতার অভাবে তথ্যসেবা কেন্দ্রেও দক্ষ লোক নিযুক্ত করা যাচ্ছে না।
প্রশাসনিক কাজ করার জন্য লোকের স্বল্পতা থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানে তদারকি করার লোকের অভাব হয় না। ১৩ জন জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত ১ জন ইউপি সচিব থাকা সত্ত্বেও সাক্ষী হিসেবে ট্যাগ অফিসার, তদারকি কর্মকর্তা, ইউডিও পদে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে ইউনিয়ন পরিষদে তদারকি করার জন্য নিযুক্ত করা হয়। নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব শেষ করে অন্য আর একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বভার বহন করার মানসিক দৃঢ়তা ও সক্ষমতা খুব কম লোকেরই হয়। তাই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি সুবিধা আদায় অথবা চাপে পড়ে বাধ্য হওয়া ছাড়া ইউপি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত বোধ করাটাই স্বভাবিক। এসব কর্মকর্তার চাপে ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠানটি পচা দুর্গন্ধময় নর্দমায় পরিণত হয়েছে। আপনি কী পারবেন মা, নর্দমায় হাবুডুবু খাওয়া ইউপি জনপ্রতিনিধি ও কর্মচারীদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতে; দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে এদের সৎ, নিষ্ঠাবান ও সুনাগরিকের মর্যাদা দিতে!
মা, আপনার ওপর আমার যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। আপনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান জাতিকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। আর আপনি সেই রাষ্ট্রকে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। একমাত্র আপনিই পারবেন, ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে। আমরা হাজার হাজার সন্তান আপনার পাশে থাকব। আমি জানি, স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন করে এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষমতা আপনার আছে। তা করা হলে এ প্রতিষ্ঠান উদীয়মান সূর্যের মতো উন্নয়নের জ্যোতি ছড়াবে। দেশের মানুষ আপনার নাম তাদের মনের মনিকোঠায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখবে। আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
মো. হুমায়ুন কবীর
ইউপি সচিব, ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ
- See more at: http://www.jugantor.com/online/viewers-opinion-/2016/01/20/2057/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A0%E0%A6%BF#sthash.jjFqlURg.dpuf
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক সন্তানের খোলা চিঠি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আইন সংশোধনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে দলীয় পতাকা তলে আনার যে পদক্ষেপ আপনি নিয়েছেন, তা একটি মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু মাগো আপনি জানেন কি, আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কাঁধে নিতে যাচ্ছেন! এ প্রতিষ্ঠানে আজ পর্যন্ত ব্রিটিশ ও পাকিস্তানের আইন কার্যকর আছে। এ প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। অথচ প্রতিষ্ঠানের প্রধান চেয়ারম্যানের মাসিক সরকারি ভাতা ১৫৭৫ টাকা ও সদস্যদের ভাতা ৯৫০ টাকা, যা খুবই অপ্রতুল। ইউপি অংশের কিছু ভাতা থাকলেও ইউপি রাজস্ব তহবিলে টাকার অভাবে ওই ভাতা তারা কখনোই ভোগ করতে পারেন না। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি ভাতার অতিরিক্ত কোনো টাকা উপার্জন করা মানেই তা অবৈধভাবে উপার্জন করা। উন্নয়ন খাতে প্রকল্প ব্যয়ের একটি অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাপ্য হয়। কিন্তু ওই পারিশ্রমিকের বৈধতা আজ পর্যন্ত দেয়া হয়নি বিধায় জনপ্রতিনিধিদের মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এর ফলে সৎ, নীতিবান লোকজনের ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দুর্নীতিগ্রস্ত, অকার্যকর ও অথর্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিটে একাধিক কর্মচারী নিয়োগের প্রয়োজন থাকলেও এই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কাজ করার জন্য ইউপি সচিব পদে মাত্র একজন কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে। কর আদায়কারীর অভাব এবং জনপ্রতিনিধিদের ভোটিং দুর্বলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। অথচ প্রশাসনিকভাবে নিয়োগকৃত স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ইউপি সচিবকে অযাচিতভাবে লজিং মাস্টারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত অন্যান্য প্রশাসনিক সরকারি কর্মচারীদের ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার বা সমন্বয় করতে ইউপি সচিব ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। পেনশন-ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ সরকারি চাকরির অনেক সুবিধা থেকেও এরা বঞ্চিত। কোনো কোনো সময় মাস শেষেও এদের বেতন হয় না। চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু বা পঙ্গুত্ববরণ করলে কেউ এদের দায়িত্ব নিতে রাজি হয় না। ইউপি সচিবরা একাধিক দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করলেও এটি একটি ১৪ নম্বর গ্রেডের ব্লক পোস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানে গ্রাম পুলিশ নামে কিছু ‘২৪ ঘণ্টার অ-কর্মচারী’ রাখা হয়েছে, যাদের সাকুল্য মাসিক বেতন ১ হাজার ৯০০ টাকা। এরা সংসার চালানোর তাগিদে ভিন্ন পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হয়। সুনির্র্দিষ্ট বেতন-ভাতার অভাবে তথ্যসেবা কেন্দ্রেও দক্ষ লোক নিযুক্ত করা যাচ্ছে না।
প্রশাসনিক কাজ করার জন্য লোকের স্বল্পতা থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানে তদারকি করার লোকের অভাব হয় না। ১৩ জন জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত ১ জন ইউপি সচিব থাকা সত্ত্বেও সাক্ষী হিসেবে ট্যাগ অফিসার, তদারকি কর্মকর্তা, ইউডিও পদে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে ইউনিয়ন পরিষদে তদারকি করার জন্য নিযুক্ত করা হয়। নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব শেষ করে অন্য আর একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বভার বহন করার মানসিক দৃঢ়তা ও সক্ষমতা খুব কম লোকেরই হয়। তাই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি সুবিধা আদায় অথবা চাপে পড়ে বাধ্য হওয়া ছাড়া ইউপি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত বোধ করাটাই স্বভাবিক। এসব কর্মকর্তার চাপে ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠানটি পচা দুর্গন্ধময় নর্দমায় পরিণত হয়েছে। আপনি কী পারবেন মা, নর্দমায় হাবুডুবু খাওয়া ইউপি জনপ্রতিনিধি ও কর্মচারীদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতে; দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে এদের সৎ, নিষ্ঠাবান ও সুনাগরিকের মর্যাদা দিতে!
মা, আপনার ওপর আমার যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। আপনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান জাতিকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। আর আপনি সেই রাষ্ট্রকে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। একমাত্র আপনিই পারবেন, ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে। আমরা হাজার হাজার সন্তান আপনার পাশে থাকব। আমি জানি, স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন করে এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষমতা আপনার আছে। তা করা হলে এ প্রতিষ্ঠান উদীয়মান সূর্যের মতো উন্নয়নের জ্যোতি ছড়াবে। দেশের মানুষ আপনার নাম তাদের মনের মনিকোঠায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখবে। আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
মো. হুমায়ুন কবীর
ইউপি সচিব, ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ
- See more at: http://www.jugantor.com/online/viewers-opinion-/2016/01/20/2057/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A0%E0%A6%BF#sthash.jjFqlURg.dpuf