দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনেও  আওয়ামী অধ্যুসিত ৩৪ উপজেলাতে বিএনপি-জামাতের প্রার্থীদের জয় লাভ।
এসব উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থীত চেয়ারম্যান পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গেছেন। উপজেলা পরিষদের দায়িত্বে থেকেই তারা এ নির্বাচনে অংশ নেন। এসব এলাকার মধ্যে অনেক প্রভাবশালি মন্ত্রী-এমপি ও আছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের তিনটিতে জয় পেয়েছে জামায়াত,  একটিতে জাতীয় পার্টি, এবং  বাকি গুলো বিএনপি সমর্থীত প্রার্থী জয় লাভ করেন।
এ বিপুলসংখ্যক চেয়ারম্যানের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত পাঁচ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে থাকাবস্থায় অনেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ক্ষমতার দাম্ভিকতায় অধিকাংশই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। আবার অনেকে দলীয় কোন্দলের বলি হয়েছেন।
দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে ১১২টি উপজেলার মধ্যে ৪৪টিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দু’জন বিদ্রোহীসহ আওয়ামী লীগের জয়ী হয়েছেন ৪৬ জন। অপরদিকে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যানের সংখ্যা ৫১ জন।
বাকি উপজেলাগুলোর মধ্যে ৩২টিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। মোটের ওপর ভালো ফল অর্জন করলেও বেশ কয়েকটি উপজেলায় নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। এছাড়া ৫ উপজেলায় জয়ী প্রার্থীর পরই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীর অবস্থান।
২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত সহিদুল হক এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মোঃ আইনুল হকের কাছে পরাজিত হয়েছেন।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের কাজী শুভ রহমান চৌধুরীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মোঃ শামীম হোসেন চৌধুরী।
গত নির্বাচনে কুড়িগ্রামের তিন উপজেলায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হলেও এবার দুটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি ও একটিতে আওয়ামী লীগ।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান চেয়ারম্যান ময়জদ্দীন হামীদ জামায়াতের প্রার্থী মোঃ আবদুল হাইয়ের কাছে হেরে গেছেন।
যারা যেসব আওয়ামী সমর্থীত প্রার্থী হেরে গেছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী আবদুল হাদী , জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মোঃ তাইফুল ইসলাম তালুকদার , যশোরের ঝিকরগাছায়  মোঃ মনিরুল ইসলাম মনির , শার্শায় মোঃ আবদুল মান্নান মিন্নু , ঢাকার সাভারে মোঃ ফিরোজ কবির , দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মোঃ আখতারুল ইসলাম চৌধুরী , নওগাঁর   মোঃ আবদুল গফফার ও বাদলগাছীর আবু জাফর মোঃ সফি মাহমুদ , নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকার এমদাদুল হক মোহাম্মদ আলী , নেত্রকোনার খালিয়জুরীতে গোলাম কিবরিয়া জব্বার ও বারহাট্টার মোঃ খায়রুল কবির খোকন , নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আ ফ ম বাবুল , পাবনার ভাংগুরা মোঃ বাকি বিল্লাহ , ফরিদপুরের নগরকান্দায় মোঃ মনিরুজ্জামান মনির  ও সালথায় মোঃ দেলোয়ার হোসেন , বগুড়ার আদমদিঘীতে মোঃ সিরাজুল ইসলাম খান রাজু , লামায় মোহাম্মদ ইসমাইল , ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রফিক উদ্দিন ঠাকুর , মাগুরার শালিখায় শ্যামল কুমার দে , মাদারীপুরের রাজৈরে আল-আমীন মোল্লা,  ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সৌম্যেন্দ্র কিশোর চৌধুরী,  ও ময়মনসিংহ সদরে মোঃ ফয়জুর রহমান ফকির, লালমনিরহাট সদরে মোঃ নজরুল হক পাটোয়ারী ভোলা, সিলেটের বালাগঞ্জে মোঃ মোস্তাকুর রহমান।
[b]ঢাকা,এএ,৩মার্চ,(টাইমনিউজবিডি)//এসএইচ[/b]