বাতাসের কাছে শুনেছি, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে । তবে বাতাসের বার্তা বলে এখনো বিশ্বাস করিনা, এদেশের বিচারালয় রাষ্ট্রধর্ম থেকে ইসলাম তুলে দেয়ারমত এমন আত্মগাতি সিদ্ধান্ত গ্রহন করবে ।
১৯৮৮ সালের ৫ জুন চতুর্থ জাতীয় সংসদে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয় । তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ৯ জুন এটার অনুমোদন দেন । ১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রের চার মূলনীতির বিষয়সমূহ ছিল জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও গণতন্ত্র । ২০০৯ সালে আওয়ামীগের নেতৃত্বাধীন সহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে সংবিধান সংশোধনে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করে । এটা ছিল সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী । ওই কমিটি পূর্বের সকল সংশোধনীর বিশেষ কিছু ধারা এবং বিশেষত সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী অবৈধঘোষণা করে বাতিল করে এবং ’৭২ এর সংবিধানে প্রত্যাবর্তনের সুপারিশ করে । এতদসত্ত্বেও সংবিধানেরর এমন সংশোধনী আনা হলেও রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে বহাল রাখার সুপারিশ করে । পরবর্তীকালে ওই সুপারিশ অনুযায়ী সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয় এবং ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বহাল থাকে ।
ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৮৮ সালের আগষ্টে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির’ পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫জন কথিত বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে । ওই রিটকারীদের অনেকেই ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে । সে রিটের দীর্ঘ ২৮ বছর পর সে বিষয়ে শুনানির আয়োজন করে মানুষের মধ্যে অশান্তি ফিরিয়ে আনার পেছনে যে অবশ্যই গভীর ষড়যন্ত্রও রহস্যের জাল রয়েছে সে বিষয়ে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও পূর্ব ধারণা করতে পারছে ।
২৭ মার্চ বিচারালয়ের শুনানিতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের পরিণত কি হবে সেটা আগাম ভাবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না । তবে শুধু এটুকু বলব, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ২৮ বছর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রেখে রাষ্ট্রের কোন ক্ষতি হয়নি বরং উপকার হয়েছে বহুগুণ। সে উপকারগুলোর বেশিরভাগ প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্যও কিছু রয়েছে । মাত্র ১৫ জনের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রধর্ম থেকে ইসলামকে তুলে দেওযার জন্য যদি চিন্তা করা হয় তবে সে চিন্তা নিছক বোকামীর খোরাক হবে । কেননা এদেশের ১৫ কোটি মুসলমানের অন্তরে বেশ ভালোভাবেই ইসলামের আবেদন রয়েছে । তাই আশা করছি, শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে রাষ্ট্রকে অশান্তিতে ঠেলে দেয়ার সিদ্ধান্ত বিচারালয় কিংবা ক্ষমতাশীন সরকার-এ দু’পক্ষের কেউ গ্রহন করতে পারে না কিংবা করবেও না; যদি তারা প্রকৃত শান্তিকামী হয়ে থাকে ।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকার কারণেই এদেশের ইসলাম ভিন্ন অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদ ও নির্ভয়ে জীবন যাপন করতে পারছে । বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তারা মুসলমানদের চেয়েও বেশি রাষ্ট্রীয়সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে । এদেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী । দেশে ৬০ লাখের অধিক মসজিদ রয়েছে । যেখানে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্তে এবং জুমআর নামাজে কোটি মানুষের সমাগম হয় । কাজেই এত বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের আবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে খেলা করা উচিত হবে না । ইসলামকে যদি রাষ্টধর্ম থেকে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয় তবে তাদেরকে এ ভূখণ্ডথেকে নিশ্চিহ্ন হতেই হবে । যেমনটার নজির ইতিহাসের পাতায় পাতায় আমরা পাই । বিশ্বের ৬০টির অধিক দেশে জনসংখ্যার আনুপাতিক সংখ্যা গরিষ্ঠাতার ভিত্তিতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়েছে । বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই জনাধিক্যের বিবেচনায় রাষ্ট্রধর্ম নির্ধারিত হয়ে থাকে । বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হিসেবে এখানে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম রাখা অনিবার্য। আমরা সে প্রবাদকে উল্টে দিতে পারি না, ‘Majority must be granted, minority should be respected’. এ সূত্রেই রাষ্ট্র ধর্মে ইসলাম ছিল, আছে, থাকবে এবং অবশ্যই থাকতে/রাখতে হবে ।
রাষ্ট্রধর্মে থেকে যদি ইসলামকে বাদ দেয়া হয় তবে তার জন্য একটু আগাম হুঁশিয়ারী দিচ্ছি (হয়ত এর প্রয়োজন হবে না বলেই বিশ্বাস) । ইসলামের স্বার্থে কোন দলের পরিচয় থাকে না । কোন রাজনৈতিক দলের ব্যানার টিকে না । ইসলামের ওপর কোন আঘাত আসলে সেটা এদেশের মুসলমানদের হৃদয়ের ওপর আঘাত হয়েই আসবে। কাজেই এদেশের মুসলিমরা এখনো এতটা অথর্ব জাতিতে পরিণত হয়নি যাতে, তারা ইসলামের ওপর কোন নগ্ন হস্তপেক্ষপকে মেনে নেবে । বিশ্বাস রাখুন, যদি ইসলামের কেশাগ্র পরিমান ক্ষতির ষড়যন্ত্র কেউ করে তবে সেটা রুখতে এ জাতি প্রয়োজনে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেবে এবং এর জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও দু’বার চিন্তা করবে না । কাজেই স্বাভাবিকের ব্যতিক্রম কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে গভীরভাবে ভাবা দায়িত্বশীলদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে ।
এমআইএস





