দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল  বিএনপির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলেছিল আওয়ামী লীগ। তবে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করার কিছু দিন পরেই সুর পাল্টে ফেললো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট।
৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকসহ সকল পর্যায়ের নেতারা  এ নির্বাচনকে সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধারবাহিকতা রক্ষার জন্য জরুরী বললেও ৫ বছরের আগে ক্ষমতা ছাড়বোনা বলে এখন হুশিয়ারি দিচ্ছেন।
ক্ষমতাসীনরা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ক্ষমতা ধরে রাখার নির্বাচন না বলেই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন। ক্ষমতায় বসেই বলছেন- সংবিধান অনুযায়ী  নির্বাচন হয়েছে। তাই পূর্নমেয়াদে ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগ।
বিএনপি আলোচনায় রাজি থাকলেও এখনই আলোচনা চায়না আওয়ামী লীগ। তবে তারা (আওয়ামী লীগ) বলছে- রাজনীতিতে আলোচনা করা ভালো; বিএনপির সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই। বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে কোন নির্বাচন হবেনা।
বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত  বলেছিলেন, বিএনপি সহিংসতা ও জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করলে দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনের পর বিএনপি নাশকতা ও জামায়াতকে ছাড়ার মনোভাব দেখালেও আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপির এ আগ্রহকে রাজনৈতিক কৌশল বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।
৪ জানুয়ারি শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধ বিরোধী মানববন্ধনে আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছিলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নয়, এ নির্বাচন সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার।
২৮ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে। তবে মধ্যেবর্তী নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা নেই। পাঁচ বছরই ক্ষমতায় থাকবে সরকার।
৫ জানুয়ারি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, যেকোনো সরকারই পাঁচ বছরের জন্য গঠিত হয়। তবে এই সরকার পাঁচ বছরই থাকতে চায়, তা তিনি বলবেন না। তিনি মনে করেন, বিরোধী দল সত্যিকার অর্থে আলোচনায় আগ্রহী হলে নতুন সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যাপারে আলোচনা করতে পারে। তবে এই আলোচনার ব্যাপারে তাঁর দল কোনো টাইমলাইন নির্ধারণ করেনি। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর পরিস্থিতি বুঝে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।
সোমবার সিলেটের সুরমা নদীর ওপর কাজিরবাজার সেতুর কাজ পরিদর্শনকালে  উপস্থিত সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি তখন সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। তাই এখন আর মধ্যবর্তী নির্বাচনের সুযোগ নেই।
ক্ষমতায় থাকার বিভিন্ন  কলা-কৌশল তৈরি করছেন আওয়ামী লীগ। সাংগঠনিক ভাবে শক্তি অর্জনে ঢাকা মহানগর কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটি পূর্নগঠন,  উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী দিয়ে তাদের নির্বাচিত করাসহ ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পূর্বে এবং পরে বিএনপি- জামায়াত-শিবির সারাদেশে যে নাশকতা চালিয়েছে তা দেশবাসীকে অবহিত করতে ৩০ জানুয়ারি থেকে জেলায় জেলায় সংগঠনিক সফরও শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।
উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দেয়ার জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট, বিশিষ্টজনসহ দেশের বেশির ভাগ মানুষ দাবি জানালেও সেদিকে কর্নপাত করেনি সরকার। নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহীনিকে ব্যবহার করে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল সহ একটি বড় অংশের অংশগ্রহন ছাড়াই ১৫৪ আসনে নির্বাচন ছাড়া ও ১৪৬ আসনে বেশি ভাগ জনগনের কাছে একটি অগ্রহন যোগ্য নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসে সরকার।
ঢাকা, এমআর, ৪ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)