অপরাধকে সভ্যতার অবদান বলা হয়। যতদিন সভ্যতা ছিল না, ততদিন অপরাধও ছিল না। যে যাকে খুশী মারতে পারতো, যাকে খুশী টেনে নিয়ে যেতে পারতো। তারপর সভ্যতা এলো, মানুষ দেখলো এ রকম হতে দেয়া যায় না। তারা অনেক কাজকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করলো। তারা জানিয়ে দিল অপরাধ করলে সাজা হবে। সেই থেকেই অপরাধের শুরু। ( দন্ডবিধির ভাষ্য, গাজী শামছুর রহমান )
সভ্যতার যে স্তরে মানুষের অধিকার এবং দায়িত্ব স্বীকৃত, সেই স্তরে কোন কাজকে অপরাধ বলে ঘোষণা করা যায়। যার যা অধিকার এবং দায়িত্ব, তার বাইরে যাওয়ার নামই অপরাধ। যেখানে অধিকার ও দায়িত্ব নেই, সেখানে অপরাধও নেই। ( দন্ডবিধির ভাষ্য, গাজী শামছুর রহমান )
সভ্যতার ক্রমবিকাশই আধুনিক রাষ্ট্রের ধারণার সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষার মনোভাবের ফলেরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের মনে যে ভাবধারা সৃষ্টি হয়েছে- যা ধর্ম, রক্তের সম্বন্ধ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং পরিবার থেকে শেখা আনুগত্য দ্বারা পরিপুষ্ট হয়েছে তারই বিকশিত রূপ রাষ্ট্র।
অধ্যাপক বার্জেসের (Burgess ) কথা এখানে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, ‘ রাষ্ট্র অপূর্ণ প্রারম্ভ থেকে সমাজ জীবনের নিয়ত ক্রমবিকাশের ফল স্বরূপ। রাষ্ট্র শুরু হয়েছে আদিম অপূর্ণ অবস্থা থেকে এবং ক্রমশ উন্নততর পর্যায়ে এসে মানবের পূর্ণ ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানে রূপলাভ করেছে’। ( It is a gradual and continuous development of human society but of a grossly imperfect beginning through crud but improving form of manifestations towards a perfect and universal organization of mankind.)
মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশে আধুনিক রাষ্টের ধারণাসহ অপরাধ ও অপরাধী চিহ্নিত করনেও এসেছে গতিশীলতা। সভ্যতা শুধু অপরাধ ও অপরাধী সনাক্তকরণে সীমাবদ্ধ থাকেনি;বরং অপরাধের দন্ডবিধান ও অপরাধীরশাস্তি বিধানের ব্যবস্থাও করেছে। মূলত এখানেই দন্ডবিধির উৎপত্তি। এক সময় দন্ডবিধির প্রয়োগের ক্ষমতা ও দায়িত্ব ছিল শাসকগোষ্ঠীর হাতে। যদিও তখন কোন লিখিত দন্ডবিধি প্রণীত হয়নি। কিন্তু সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে সে ব্যবস্থারও পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন হয়েছে। প্রণীত হয়েছে লিখিত ও সংবিধান স্বীকৃত। আর এই দন্ডবিধি প্রয়োগের ক্ষমতা ও দায়িত্ব চলে গেছে শাসক গোষ্ঠীর হাত থেকে বিচারালয়ে। এজন্য বিচারালয় প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় জনবল ও তাদের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগও সভ্যতার অবদান।
মানুষ মূলত অপরাধপ্রবণ। আর অপরাধ প্রবণতা সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যেই থাকতে পারে। আর এ অপরাধ প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণে ( নির্মূল করা সম্ভব নয় ) রাখতেই অপরাধ ও অপরাধীর সংজ্ঞায়ন, অপরাধের শ্রেণী বিন্যাস ও সাংবিধানিক কাঠামো, দন্ডবিধি প্রণয়ন, দন্ডবিধি প্রয়োগের জন্য একটি আইনানুগ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও যথোপযুক্ত বিচারকের মাধ্যমে দন্ডবিধির প্রয়োগ-এসবই মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশেরই ধারাবাহিকতা। তাই মানব সমাজে অপরাধ ও অপরাধী থাকবে, আর তা প্রতিরোধ ও প্রতিবিধান করনের জন্য রাষ্ট্র্রের সংবিধান, দন্ডবিধি, দন্ডবিধি প্রয়োগের জন্য বিচার বিভাগ এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন বিচারক মন্ডলীও থাকবেন। আর এটিই সভ্য সমাজের স্বীকৃত পন্থা। এতে কোন অভিনবত্ব ও ব্যতিক্রম নেই। থাকা কাম্যও নয়।
সম্প্রতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর একটি মন্তব্য নিয়ে সারাদেশেই বেশ সরব আলোচনা হচ্ছে। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে চায়ের টেবিল থেকে আড্ডায় তা স্থান করে নিয়েছে। তার মন্তব্যে অপরাধ ও অপরাধীদের দন্ডবিধান নিয়ে প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত নিয়মের বিরুদ্ধে প্রকারান্তরে যুদ্ধ ঘোষণার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যা একজন মন্ত্রীর জন্য সোভনীয় বলে মনে হয় না। তার এমন মন্তব্য ফ্যাসীবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক দর্শনের দিকেই দিক নির্দেশ করে। তিনি অপরাধ ও অপরাধীদের দন্ডবিধানের জন্য প্রচলিত, স্বীকৃত ও সাংবিধানিক পন্থার বিপরীতে রাজনৈতিক যে থেরাপি দিয়েছেন, তা অবশ্যই আলোচনা-পর্যালোচনার দাবি রাখে। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘ধরো, বিচার করো, ফাঁসি দাও’।
গত ৮ সেপ্টেম্বর (২০১৫) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ( বিআইসিসি) বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন থেরাপি দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। স্পেশাল ফিজিওথেরাপি হসপিটাল অ্যান্ড আর্থাইরাটিস রিচার্চ সেন্টার আয়োজিত এ সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী বললেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন যুদ্ধ চলছে। এ যুদ্ধ হচ্ছে জঙ্গীবাদ, যুদ্ধাপরাধ আর অগ্নি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। কিন্তু একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র নিজ দেশের কোন শক্তির সাথে তারা যুদ্ধ করছেন তা কারো বোধগম্য নয়। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রকে যদি দেশের অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভ্যন্তরীণ শক্তির সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয় তাহলে সে রাষ্ট্রকে কী সফল রাষ্ট্র বলা যাবে? আর সে সরকারের গ্রহণযোগ্যতাই বা দেশ পরিচালনায় সাফল্যকতখানি ?
তিনি আরও বলেছেন, মানুষের শরীরে ব্যথা হলে যেমন ফিজিওথেরাপি দিতে হয়, তেমনি সমাজের ব্যথা দূর করতেও দিতে হবে রাজনৈতিক থেরাপি। সমাজের যে জঙ্গীবাদী, যুদ্ধাপরাধী ব্যথা রয়েছে, তা দুর করতে রাজনৈতিক থেরাপি দিতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, দেখি দেখি করতে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ১৫ আগষ্ট বঙ্গুবন্ধুকে হত্যা করা হলো, আমরা দেখলাম। ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা হলো, আমরা দেখলাম। এই দেখি দেখি করার জন্যই সারাদেশে অগ্নি সন্ত্রাস হলো। তাই আর বিলম্ব নয়, এদের ধরতে হবে, বিচার করতে হবে, ফাঁসি দিতে হবে।
একথা অনস্বীকার্য যে, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিশেষ কোন দেশ বা কোন আঞ্চলিক সমস্যা নয়;বরং এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। কোন শান্তিপ্রিয় ও সুস্থ্যবিবেক সম্পন্ন মানুষ কোনভাবেই সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গীবাদ সমর্থন করতে পারে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশে জঙ্গীবাদ বা সন্ত্রাসবাদ যতটা প্রকট,বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ততখানি নয় বললে অত্যুক্তি হবার কথা নয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও জঙ্গীবাদী ও সন্ত্রাসবাদী অপতৎপরতা অনেকটাই বেশী। আর পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ তো আরও প্রবল।
মূলত পুরো দক্ষিণ এশিয়া এখন সন্ত্রাসবাদ কবলিত। এমন কী পশ্চিমা বিশ্বও এ থেকে নিরাপদ নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের সাথে লড়াই করে যাচ্ছে। ফ্রান্স, জামার্নি ও যুক্তরাজ্যেরও একই অবস্থা। এমন কী সম্প্রতি থাইল্যান্ডে একটি তীর্থস্থানে জঙ্গীবাদী হামলা হয়েছে। এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। মূলত বিশ্বের যেখানেই সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গীবাদী তৎপরতা রয়েছে সেখানে সংশ্লিষ্ট দেশ বা রাষ্ট্র দেশের সংবিধান, দন্ডবিধি প্রচলিত আইন মেনেই তার প্রতিবিধান করে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশের সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ দমনের জন্য কেন রাজনৈতিক থেরাপির প্রয়োজন হচ্ছে তা সচেতন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গীবাদ যতটা না বাস্তবিক তারচেয়ে রূঢ় বাস্তবতা হলো শাসক গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক দেউলিয়াত্ব। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ দমন করতে হবে দেশের সংবিধান ও দন্ডবিধি মেনেই। তাই তথ্যমন্ত্রীর সর্বসাম্প্রতিক বক্তব্য দেশ ও জাতিকে একটি অশুভ দিক নির্দেশনা প্রদান করে। যা দেশ ও জাতিরজন্যতো নয়ই;বরং কোন বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্যও মোটেই কল্যাণকর নয়।
দেশে জঙ্গীবাদী ও সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার কথা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। মূলত আসল জঙ্গীবাদী ও সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে যে তৎপরতা চালাচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। কিন্তু একান্ত রাজনৈতিক কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের তকমা লাগানো হচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। বর্তমান সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে যেভাবে হেনস্তা ও শায়েস্তা করা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে তার এক কপর্দকও করা হয়েছে বলে প্রমাণ মেলে না। আর সরকার প্রকৃত সন্ত্রাসবাদীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ হিসাবে আখ্যা দিতে খুববেশী স্বাচ্ছন্দবোধ করছে। এতে জঙ্গী তৎপরতা বাড়ছে বৈকিকমছে না।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমনের জন্য যে ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে জঙ্গীদের ক্ষেত্রে তা একেবারে অনুপস্থিত। যেহেতু সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে বিশ্বের সকল জাতি ও দেশ একাত্ব। তাই বোধহয় বর্তমান সরকার নিজেদের ক্ষমতাকে নিষ্কন্টক করতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা না করে প্রতিপক্ষকে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের সাথে যুক্ত করছে। আর এর মাধ্যমে সরকার বিরোধী দল দমনের জন্য একটি বৈশ্বিক সমর্থনও আশা করছে। এখানেই শেষ নয়;বরং তারা সরকার বিরোধীতাকে রাষ্ট্রদ্রোহীতার সাথে তুলনা করতেও দ্বিধাবোধ করছে না। কিন্তু এতেও তারা হয়তো আশ্বস্ত ও স্বাচ্ছন্দবোধ করছে না। ফলে তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চিরতরে ধ্বংসের জন্য জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত করছে।
এবার তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের যথার্থতা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। মূলত দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রয়েছে। দেশে কোন অপরাধ সংঘঠিত হলে প্রচলিত আইনের আওতায় তারাই এর প্রতিবিধান করবেন। অপরাধীকে পাকড়াও করে আইনের হাতে সোপর্দ করে বিচারের আওতায় আনা তাদের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোন আইনকে যুগপোযোগী ও সময়োপযোগী করতে আইনমন্ত্রনালয় এবং আইন কমিশনও রয়েছে। এমন কী দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নামের পৃথক মন্ত্রণালয়ও রয়েছে। কিন্তু এতোসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থাকতে তথ্যমন্ত্রী জঙ্গীবাদ ও যুদ্ধাপরাধীদের নির্মূলের জন্য রাজনৈতিক থেরাপির ঘোষণা দিয়ে নিজেকে মনে হয় বিতর্কিতকই করলেন। কারণ, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিকভাবে করতে হয়। আর দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রবণতা দমন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সাংবিধানিক ও আইনের শাসনের কোন বিকল্প নেই। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদেরকে অবশ্যই সংবিধান ও আইনের শাসন মেনেই সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গীবাদ ও যুদ্ধাপরাধসহ সকল সমস্যার সমাধান করতে হবে।
মূলত তথ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানটি ছিল ফিজিওথেরাপী বিষয়ক। কিন্তু সে বিষয়ে আলোচনায় না গিয়ে রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনায় প্রবৃত হলেন। যা ‘ধান ভানতে শিবের গীতের মতই শোনায়’। সরকারের দায়িত্ব হলো দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করা। কিন্তু মাননীয় তথ্যমন্ত্রী ‘ধর, বিচার কর, ফাঁসি দাও’ এমন মন্তব্যকে গর্হিতই বলতে হবে। যুক্তির খাতিরে যদি ধরা হয় যে, মন্ত্রী রাষ্ট্রের একজন নির্বাহী। তাই তিনি যেকোন বিষয়ে নীতিনির্ধারণী বক্তব্য দিতেই পারেন। কিন্তু তাহলে বড়জোড় ‘ ধর, বিচার কর’ পর্যন্ত সঠিক ধরা যেতে পারে। ‘ ফাঁসি দাও’ কথাটা মন্ত্রীর সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূত। কারণ, বিচারে অপরাধ প্রমাণিত না হলে বিচারক অভিযুক্তকেখালাসও দিতে পারেন।
বিচার করে ফাঁসিই যদি একমাত্র দন্ড হয়ে থাকে তাহলে বিচার করার দরকার কী ? মন্ত্রীর কথামত ধরে ধরে ফাঁসি দিলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু তাহলে আমাদেরকে আবারও মধ্যযুগে ফিরে যেতে হবে। থেরাপি দিয়ে মানুষকে রোগমুক্ত করা গেলেও দেশের মানুষকে সুখী ও সমৃদ্ধ করতে হলে সাংবিধানিক ও সুশাসনের কোন বিকল্প নেই। থেরাপি দিয়ে কোন অবস্থায় জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক থেরাপি দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করা গেলেও জনগণের কোন কল্যাণ হয় বলে মনে হয় না;বরং দেশে আইনের শাসন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি হুমকীর মুখে পড়ে। যা আগামী প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত।
মন্ত্রীগণ রাষ্ট্রে নির্বাহী। তাই তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করা হয়। যেকোন মন্তব্য করার আগে তাদেরকে অবশ্যই অগ্র-পশ্চাৎ ভেবে দেখতে হবে। রাষ্ট্রের নির্বাহীদের দায়-দায়িত্বহীন বক্তব্য কোন ভাবেই কাম্য নয়। তথ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সময়ের বক্তব্য দেশে আইনের শাসন, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে মোটেই সহায়ক হবে না;বরং দেশকে মধ্যযুগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাবে। তাই মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্য দেয়ার ব্যাপারে আরও সচেতন ও সতর্ক হওয়া উচিত।
সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা
ইমেইল[email protected]
বি.দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।





