শাসন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ ও শাসনকাজে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উদ্ভাবন। কিন্তু দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাব, গণমুখী রাজনীতির অনুপস্থিতি, পরমতের প্রতি অহিষ্ণুতা, আত্মস্বার্থ, ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীস্বার্থ চরিতার্থের কারণেই দেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এখনও গণমুখী হতে পারেনি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও আমাদের দেশের নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই আমরা সে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছিনা।
আধুনিক রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ম্যাকআইভার (MacIver ) বলেন, (“The state is anassociation which acting through law promulgated by a government endowed to this end with coercive power, maintaining within a community territorially demarcated, the universal external condition of social order” )
মূলত উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে ভারতীয় উপমহাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন চালু করা হয়। গভর্নর জেনারেল লর্ড ময়ো সর্ব প্রথম এই বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। লর্ড রিপন (Loard Ripon) এতে কিছুটা হলেও গতিশীলতা আনেন। প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচনে ১৮৮২ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইনে স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহকে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয়। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক আইন পরিষদের মাধ্যমে স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে স্বায়ত্বশাসন ব্যবস্থা সুদৃঢ় হয়। এই আইন অনুযায়ী স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশে পরিণত হয়।
উল্লেখ্য, আমাদের দেশে ১৯৮৩ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর ও ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসে। পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় সরকার উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন পুনর্গঠন ( রহিতকরণ) অধ্যাদেশ জারি করে উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করে।
১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর সরকার স্থানীয় সরকার পুনর্গঠনের জন্য ১৭ সদস্য বিশিষ্ট এক স্থানীয় সরকার কাঠামো পর্যালোচনা কমিশন গঠন করে। আট মাস পর্যালোচনার পর এই কমিশন ১৯৯২ সালের ৩১ জুলাই গ্রামাঞ্চলে দু’স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার এবং শহরাঞ্চলে জন্য পৌরসভা/কর্পোরেশনের সুপারিশ করে। থানায় একটি সমন্বয়কারী এককের সুপারিশ করা হয়। আরও সুপারিশ করা হয় যে, স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। তারা নির্বাচনমন্ডলীর কাছে থাকবে সর্বতোভাবে দায়ি। স্বতন্ত্র এবং স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে এসব গড়ে উঠবে। কেন্দ্রর সকল নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত থাকবে। সুপারিশগুলো স্থানীয় সরকার কাঠামোকে আরও গণপ্রতিনিধিত্বশীল ও মজবুত ভিত্তি দেয়ার জন্য করা হলেও দেশে অবাধ গণতন্ত্র চর্চার অভাবে তা গণমানুষের জন্য কল্যাণকর হয়নি।
স্মরণযোগ্য যে, বৃটিশ শাসনামলে এবং পাকিস্তান আমলে থানা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক একক। জেলা এবং মহকুমা প্রশাসনের পরেই ছিল এর অবস্থান। স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালের ২৮ এপ্রিলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় থানা কাউন্সিলের নাম হয় থানা উন্নয়ন কমিটি।
১৯৭৬ সালের ‘ স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী থানা উন্নয়ন কমিটির নাম পরিবর্তন হয়ে হয় থানা পরিষদ। এই পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন মহকুমা প্রশাসক। ১৯৮৩ সালে থানার নাম পরিবর্তন হয়ে হয় উপজেলা এবং থানা পরিষদ হয় উপজেলা পরিষদ। এই পরিষদের নির্বাহী হন নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (Upazila Nirbahi Officer-UNO) হলেন এই পরিষদের সচিব। তিনি উপজেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেন।
১৯৮৫ সালের মে মাসে সর্বপ্রথম উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯০ সালের দ্বিতীয়বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৯২ সালে উপজেলা পরিষদ বাতিল আইন প্রণীত হয়। ১৯৯৮ সালের ৩ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ আবার উপজেলা পরিষদ পুনর্বহাল করে। ২০০৮ সালের ২৯ শে জুন নির্দলীয় তত্ত্ববধায়ক সরকার ‘ স্থানীয় সরকার ( উপজেলা পরিষদ ) অধ্যাদেশ, ২০০৮ প্রণয়ন করে এবং ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ‘স্থানীয় সরকার ( উপজেলা পরিষদ ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০০৮ জারি করে। ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিলে সেই অধ্যাদেশের কিছু সংশোধন ও সংযোজন করে জাতীয় সংসদে একটি আইন প্রণয়ন করে। এই আইনটি ‘ উপজেলা পরিষদ ( রহিত আইন পুনঃপ্রচলন ও সংশোধন ) আইন, ২০০৯’ নামে অভিহিত। আর এই আইনেই তৃতীয় উপজেলা নির্বাচন ও পরবর্তীতে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
মূলত স্থানীয় সরকারকে অধিকতর গণপ্রতিনিধিত্বশীল ও গণমুখী করার জন্যই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের অরাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী ও অপরিনাম দর্শিতার কারণে স্থানীয় সরকারগুলো জনগণের কল্যাণে তেমন কোন কাজ করতে পারছে না। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাব ও অগণতান্ত্রিক মানসিকতার কারণেই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শুধুমাত্র ভিন্নমত ও বিরোধী দল সমর্থিত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার কারণেই নানা ছলছুতায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক মামলা দেয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চার্জসিট দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিদের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
গত দুই বছরে সারা দেশে ইউপি মেম্বার, ইউপি চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, সিটি মেয়রসহ দুই শতাধিক জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত হয়েছেন। যারা বরখাস্ত হচ্ছেন তাদের বেশীর ভাগই রাজনৈতিক সহিংসতা মামলার আসামী। বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিদের প্রায় সবাই বিএনপি জামায়াতে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সংশ্লিষ্ট মামলায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জসিট দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সাময়িক বরখাস্তের সাজা পাচ্ছেন।
ইতোমধ্যেই সারা দেশে ২৩ জন মেয়র, ২৭ জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং দেড় শতাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে তাদের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকে হরতাল-অবরোধে নাশকতা আর বোমাবাজির ঘটনায় বহু জনপ্রতিনিধিকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা তিন মাসের অবরোধ-হরতালে নাশকতা, বোমাবাজি ও অগ্নিসংযোগের এসব ঘটনার মামলায় আসামী করা হয় বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের। এসব মামলায় তদন্ত শেষে পাঁচ শতাধিক জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসিট দাখিল করে আইনশৃংখলা বাহিনী। আদালতে চার্জসিট গৃহীত হওয়ার পরপরই ওই সব জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এভাবে চার্জসিট গৃহীত হওয়ায় এ পর্যন্ত দুই শতাধিক জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। আরো মামলায় চার্জসিট প্রক্রিয়াধীন থাকায় ভবিষ্যতে বরখাস্ত জনপ্রতিনিধির সংখ্যা আরো বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে অনেক জনপ্রতিনিধি উচ্চ আদালতে রিট করে তাদের বরখাস্তের স্থগিতাদেশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। এভাবে গণহারে বরখাস্তের বিষয়টির সমালোচনা করছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরাও। তারা মনে করছেন, পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক বিবেচনায় হচ্ছে। স্থানীয় সরকারের বিদ্যমান আইনী কাঠামোতে চার্জসিট হলেই জনপ্রতিনিধিরা সাময়িক বরখাস্ত হচ্ছেন। কিন্তু চুড়ান্তভাবে মামলার ফলাফল কী হবে, তা কেউ জানেননা। আর এসব মামলার নিষ্পতি হতে হতে আরেকটা নির্বাচনের সময় চলে আসবে। এ ক্ষেত্রে তাই আইনটির অপব্যবহার হচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হয়।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনবিরোধী এবং বর্তমান আওয়ামী সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াতের যেসব জনপ্রতিনিধি জড়িত ছিলেন, তারাই বেশী বরখাস্ত হচ্ছেন। জ্ঞাত হওয়া গেছে যে, বগুড়ায় এ পর্যন্ত ১৫ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৬ জন উপজেলা চেয়ারম্যান, ছয়জন ভাইস চেয়ারম্যান, একজন পৌর মেয়র এবং দু’জন ইউপি চেয়ারম্যান রয়েছেন। তাদের মধ্যে হাইকোর্টের আদেশে ৩ জন চেয়ারম্যান ও ৩ জন ভাইস চেয়ারম্যান দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন। বগুড়ায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ অর্ধশতাধিক জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত আতঙ্কে আছেন।
সাতক্ষীরার ৭৮ টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যে ৪৩ জনই জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত। হত্যা ও নাশকতাসহ একাধিক মামলায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসিট দেওয়ায় তাদের সবাইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই অভিযোগে কলারোয়ার পৌর মেয়র আক্তারুল ইসলাম ও শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত ৪৫ জন জনপ্রতিনিধিকে এ পর্যন্ত বরখাস্ত করা হয়েছে।
১৮ জনপ্রতিনিধি গ্রেপ্তার এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগীখালী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সহিংসতা ও নাশকতার মামলায় চার্জসিট হওয়ায় বরখাস্ত হয়েছেন।
গত মহাজোট সরকারের সময় অনুষ্ঠিত রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়ররা নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং গাজীপুরের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে বরিশাল সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামালের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়েছে। চার্জশিট দেয়া হয়েছে খুলনা সিটি মেয়র মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় তারা দু’জন বরখাস্তের আতঙ্কে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিজ্ঞমহল মনে করছেন, সরকারের নেতিবাচক ও প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির বলি হচ্ছেনবিরোধী দল সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সমাজে তা কখনো কাম্য নয়। কারণ, গণতান্ত্রিক সমাজে সকল মত ও পথের উপস্থিতি থাকবে। যেখানে পরমত সহিষ্ণুতা নেই সেখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের স্ফুরণ ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে উঠতে পারে না। প্রতিটি রাষ্ট্রেই শাসক ও শাসিত থাকে। আর এতদোভয়ের মধ্যে সেতুবন্ধনই পারে একটি সুখী সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্র বিজ্ঞানী হ্যারল্ড লাস্কির (Harold Laski) মন্তব্য উদ্ধৃদত করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘ আধুনিক রাষ্ট্র ভূখন্ডে অবস্থিত এমন এক সমাজ, যা শাসকগোষ্ঠী ও শাসিত- এ দু’ভাগে বিভক্ত এবং নিজের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের মধ্যে অবস্থিত অন্য সকল সংস্থার উপর প্রাধান্য দাবি করে’। (Ô The modern state is an territorial society divided into government and subjects, claiming with its alloted physical area supremacy over all other institutions’)
গণতান্ত্রিক সমাজ মানেই হচ্ছে জনগণের সমাজ। আর শাসিতদের সক্রিয় সম্মতিতে যেসমাজ পরিচালিত হয় সে সমাজকেই গণতান্ত্রিক সমাজ বলা হয়। এ প্রসঙ্গে সি এফ ষ্ট্রং-এর সংজ্ঞা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘শাসিতদের সক্রিয় সম্মতির উপরে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত, তাকে গণতন্ত্র বলা যায়’। (`Democrecy implies that government which shall rest on the active consent of the governed’)
এমতাবস্থায় শুধুমাত্র বিরোধী দল সমর্থিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার কারণে মামলা, হয়রানী ও বহিস্কার গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য কল্যাণকর তো নয়ই;বরং দেশ ও জাতির জন্য অশনিসংকেত।
সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা
ঢাকা- ১০ অক্টোবর /১৫ ইং
(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। এর সঙ্গে টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার কোন সম্পর্ক নেই)





