মানব সভ্যতায় প্রধানতম ও জটিল সমস্যা হলো সামাজিক জীবনে নারী ও পুরুষের সম্পর্ক কেমন হবে, এর স্বরূপ কেমন হবে-এর মানদণ্ড স্থাপিত করা। এ সমস্যায় সুষ্ঠু ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের ওপর মানবজাতির কল্যাণ ও অগ্রগতি নির্ভরশীল। আমরা একদিকে দেখতে পাই নারী মাতারূপে সন্তানাদির অন্নদান করছেন এবং অর্ধাঙ্গিনী সেজে জীবনের উত্থান পতনে পুরুষের সাহায্য করছে।
অপরদিকে সেই নারীকেই আবার সেবিকা অথবা দাসীর কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাকে গরু ছাগলের মত ক্রয়- বিক্রয় করা হয়েছে। মালিকানা ও উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তাকে পাপ পংকিলতার প্রতিমূর্তি করে রাখা হয়েছে। তার ব্যক্তিত্বের বিকাশের কোনো সুযোগই দেয়া হয়নি। তাকে পাশবিক প্রবৃত্তির ক্রীড়নকে পরিণত করা হয়েছে। আবার কখনো তাকে শয়তানের এজেন্ট বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
কিন্তু নারী জাতির বর্তমান তথাকথিত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানবতার অধপতনও শুরু হয়েছে। উপরে নারীর যে চিত্র বিবৃত হয়েছে এতে প্রতীয়মান হয় যে নারীকে সবসময় পুরুষের হাতের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপের দার্শনিক ও সাহিত্যিকগণ নারী জাতির উন্নয়নকল্পে ৩টি নীতিমালার উপর তাদের সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সেগুলো হলোঃ
১. নারী পুরুষের মাঝে সাম্য বিধান
২. নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
৩. নারীর পুরুষের অবাধ মেলামেশা
এখানে সাম্যের যে সংজ্ঞা বর্ণনা করা হলো তাতে বুঝানো হয়েছে, নারী পুরুষ নৈতিক মর্যাদা ও মানবীয় অধিকারের দিক দিয়ে শুধু সমান নয় বরং কর্মক্ষেত্রে পুরুষ যেসব কাজ করে, তারা সেসব কাজ করবে। সাম্যের এ ভ্রান্ত ধারণার কারণেনারী তার দৈনন্দিন কার্যাবলীর প্রতি উদাসীন ও বিদ্রোহী হয়ে পড়ে। যে সমস্ত কর্মের উপর পৃথিবীর স্থিতিশীলতা নির্ভরশীল।
এ ভ্রান্ত ধারণা এমনভাবে শোষিত নারী সমাজকে প্রভাবিত করল যে, দাম্পত্য জীবনের গুরুদায়িত্ব, সন্তানাদির প্রতিপালন, পারিবারিক সেবা শুশ্রুষা, এ ধরনের বিষয়গুলি তাদের কাজের বহির্ভূত হয়ে পড়ল। শুধু তাই নয়, তাদের প্রকৃতিগত কর্মের প্রতি তাদের ঘৃণাজন্মালো।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ভ্রান্ত ধারণা নারীদেরকে পুরুষ অপেক্ষা বেপরোয়া করে দিল। এখন নারী পুরুষ উভয়ে উপার্জন করবে এবং গৃহের শৃংখলা রক্ষা করবে বহিরাগত তৃতীয় ব্যক্তি। এখন একমাত্র যৌন সম্পর্ক ছাড়া তাদের মাঝে আর কোনোসম্পর্কই থাকল না। একজন নারী পুরুষকে যা চির মিলনের সূত্রে আবদ্ধ করতে পারে এমনবৈবাহিক সম্পর্কের কোনো স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তারকোনো অবকাশনেই বর্তমান তথাকথিত আধুনিক সমাজে।
নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা নারীদের মধ্যে সৌন্দর্য প্রদর্শন, নগ্নতা ও অশ্লীলতাকে অতিমাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে পুরুষের কামলিপ্সা নির্বাপিত করার জন্য এরা নারী সমাজকে অধিকতর নগ্ন হওয়ার তাগিদ দিতে থাকল। ফলে যা ঘটার তা প্রতিনিয়তই ঘটছে আমাদের সামনে। ধর্ষণের সেঞ্চুরি তারই ফলাফল বলা যেতে পারে।
মানুষ হিসেবে নারী ও পুরুষ যে সমান এ কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা। নারীও পুরুষ মানব জাতির দুটি অংশ। তমদ্দুন গঠনে, সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন ও রূপায়নে এবং মানবতার সেবায় উভয়ে সমান অংশীদার। মন, মস্তিষ্ক, বিবেক, অনুভূতি, প্রবৃত্তি ও মানবিক প্রয়োজন উভয়েরই আছে। তামাদ্দুনিক সংস্কার ও উন্নতি বিধানের জন্য উভয়ের মস্তিষ্ক চর্চা, মানসিক উন্নতি, বিবেক ও চিন্তাশক্তির বিকাশ সমভাবে প্রয়োজন, যাতে তামাদ্দুনিক সেবায় প্রত্যেকে আপন আপন ভূমিকা পূর্ণরুপে গ্রহণ করতে পারে।এদিক দিয়ে সমতার দাবি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।
সমাজে নারীকে এমন মর্যাদা দিতে হবে যেন তাদের মধ্যে আত্নসম্মানের উদ্রেক হয় এবং ঐ সব মানবীয় গুনের সঞ্চার হয় যা তাদের আত্নসম্মানের দ্বারা জাগ্রত হওয়াই সম্ভব। যে সকল জাতি এ ধরনের সমতা অস্বীকার করছে, যারা নিজেদের নারী সমাজকে অজ্ঞ, অশিক্ষিত, লাঞ্চিত ও সামাজিক অধিকারসমূহ হতে বঞ্চিত রেখেছে। তারা স্বয়ং অধপতনের গহবরে পতিত হয়েছে। কারণ মানব জাতির অর্ধেককে অধপতিত করা মানে মানবতাকে অধপতিত করা।
কিন্তু, সমস্যার দ্বিতীয় একটা দিক আছে। তাহলো, নারী-পুরুষ উভয়ে কর্মক্ষেত্রে এক হবে, উভয়েই একই ধরনের কাজ করবে। উভয়ের উপর জীবনের সব গুরুভার সমানভাবে আরোপিত হবে। এ ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি পর্যালোচনা করা । যদিও নারীর দৈহিক গঠন এবং তার কর্ম ক্ষমতার স্বপক্ষে অনেক বৈজ্ঞানিক প্রমান উপস্থাপন করা হয়। জীববিজ্ঞানের তত্ত্বানুসন্ধানে প্রতিপন্ন হয়েছে যে, নারী স্বীয় আকৃতি, অবয়ব এবং বহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হতে শুরু করে অনু পরমানু পর্যন্ত প্রতিটি ব্যাপারে পুরুষ থেকে আলাদা। মাতৃগর্ভে যখন সন্তান বড়হয়, তখন থেকে নারীর দেহের গঠন ভিন্নভাবে হয়।
সাবালিকা হওয়ার পর মেয়েদের মাসিক ঋতু আরম্ভ হয়। ডাক্তার এলিম নুড়িক বলেন, ঋতুবতী স্ত্রীলোকদের মধ্যে সাধারণত যে পরিবর্তন দেখা যায় তা নিম্নরূপ। মাথাব্যাথা, অবসাদ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বেদনা, স্নায়বিক দূর্বলতা, স্বভাবে রুক্ষতা, মুত্রনালীতে যন্ত্রণা, হজমশক্তি হ্রাস, কখনো কখনো কোষ্টকাঠিন্য, বমিভাব ইত্যাদি। তিনি ১৯০৯ খ্রীষ্টাব্দে গভীর পর্যবেক্ষণের পর মন্তব্য করেন, ঐ সময় নারীর একাগ্র শক্তি ও মানসিক শ্রমশক্তি হ্রাস পায়।
ডাক্তার ফিশার বলেন, একজন সুস্থ্য নারী গর্ভধারণকালে মানসিক চাঞ্চল্যে ভোগে। হিউলাক, ইলিয়াস, এলবার্ট মোল এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সর্বসম্মত মত এই যে, গর্ভকালীন শেষ মাসটি এমন অবস্থায় কাটে যে, এই সময় নারীর কোনো ধরনের দৈহিক ও মানসিক শ্রম করবার যোগ্যতাই থাকে না। এর পর শিশুকে স্তন্যদান করা, লালন পালন করা এক কঠিন দায়িত্ব হয়ে পড়ে একজন নারীর জন্যে যা প্রত্যেক মমতাময়ী মা মাত্রই জানেন।
কিন্তু নারীর তথাকথিত সমতার কথা যারা বলেন, তারা বলবেন বর্তমানে মার্তৃত্বকালীন ছুটি, বুকের দুধের বিকল্প পথ এবং শিশুর লালন-পালনের জন্যে নার্সিং হোম, শিশু-সদন গঠন করা হয়েছে, হচ্ছে। শৈশবের প্রাথমিক অবস্থায় যে স্নেহ-ভালবাসা, যে দরদ ও শুভাকাঙ্খার প্রয়োজন হয়, তা ভাড়াটিয়া প্রতিপালকের হৃদয়ে কোথা হতে আসবে? সেটা সন্তান ভূমিষ্টকারী মাবিচার করবেন।
নারী সমাজের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই, আপনারা কি আপনাদের প্রতি প্রকৃতির বিধান মাসিক ঋতুস্রাব, গর্ভধারণ, সন্তানের প্রতি আপনার দায়িত্ববোধ এসব অস্বীকার বা বন্ধ করতে চান? মায়ের হাতে সন্তান যেভাবে বেড়ে উঠে সেটা কী বাবা বা কাজের মেয়ে দ্বারা পূরণ করা সম্ভব? যদি বলুন “না”, তাহলে একটু চিন্তা করে দেখুন তো, কোনটি সুবিচার? এটাই কী সুবিচার যে, নারী প্রাকৃতিক সকল দায়িত্ব পালন করবে এবং তারপর তামাদ্দুনিক ও সভ্যতার সকল বোঝা বহন করে পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে? এটাই কী ন্যায় সঙ্গত বিধান যে, নারীদেরকে বলা হবে, “হে নারী যে সকল দুঃখ কষ্টের বোঝা প্রকৃতি তোমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে তা যথাযথভাবে পালন কর, তারপর তোমাদের জীবিকা অর্জনের জন্য আমাদের সাথে সমানভাব পরিশ্রম কর? আমাদের সমাজে প্রবেশ করে আমাদের বিলাস-বাসন, আনন্দ-উল্লাস ও সুখ সম্ভোগের উপাদান সংগ্রহ কর?
এটা সুবিচার নয়- অবিচার, সাম্য নয়- স্পষ্ট্য অসাম্য। সুবিচার তো এমন হওয়া উচিত যে, প্রকৃতি যার উপর অনেক গুরু দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে, তাকে সমাজ বিনির্মানে অপেক্ষাকৃত লঘু দায়িত্ব দেয়া।পক্ষান্তরে যার উপর প্রকৃতির লঘু দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তার উপরেই সমাজের গুরু দায়িত্ব অর্পিত হবে। যারা ইউরোপের তথাকথিত ভাড়া করা সমতার বিধান আমাদের সভ্য সমাজে প্রচলন করতে চায়, যারা নারীর দ্বারা পুরুষের কাজ আদায় করতে চায় তাদেরকে বলা উচিত যে, তোমরা সারা জীবনে অন্তত একটা সন্তান গর্ভধারণ করে দেখাও এবং তার পর সমাজ গঠনে আত্মনিয়োগ কর। আমার বিশ্বাস বিশ্ব পুরুষ সমাজ একসাথে এ নীতি অস্বীকার করবে। তা হলে কিভাবে নারীদের উপর একসাথে দুটি বোঝা চাপানো হচ্ছে? সমতা নয় এরা নারীকে বাধ্যতামূলকভাবে পুরুষ সাজিয়ে মানবতাকে ধ্বংস করতে চায়।
পুরুষের সাথে নারীকে প্রতিযোগিতায় জীবনের এমন দিকে হতভাগ্য নারীকে দাঁড় করিয়েছে, যেদিকে সে দুর্বল। আজ যখন নারীর সমতার নামে নারী দেহকে পণ্য হিসেবে বাজারে আমদানি করা হয়েছে, সেটা কী নারীর মর্যাদাহানি নয়?
নারীর সমতার মানে কী এই, হলিউড, বলিউড, ঢালিউডসহ সকল চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক সফলতার জন্য নারীর বুকের উচ্চতা, কোমরের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ও পুরুষ সমাজকে যৌন উম্মাদনায় মাতিয়ে তোলা? সমতা কী এই, প্রচন্ড ভীড়ের মাঝে আবেদনময়ী নারীকে টেনে এনে নারীর শ্লীলতাহানি করা? ক্যারিয়ার গঠন করে দেয়ার নামে নারীকে পুরুষ শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, নাটক-সিনেমায় পরিচালকের রক্ষিতা বানানো?
আজ যারা নারীবাদী বা নারী মুক্তির কথা বলেন, তাদের দ্বারাই নারী সমাজ বেশি অপমানিত, নিগৃহীত হচ্ছে। নারী ভোলানো ভেলকীবাজী নারীবাদিরা বলেন, নারী-পুরুষের ব্যবধান তা কতটুকু! নারীর স্তন একটু বড় আর যৌনাঙ্গেঁর সামান্য পার্থক্য এইতো? আর সবইতো সমান। আমাদের মা-ও বোনদেরকে বলবো এ মন্তব্যের দ্বারা কী নারীর স্বকীয়তাকে অপমানিত করা হয় নাই? নারীর মর্যাদাকে অবমুল্যায়ন করা হয় নাই?
নারী-পুরুষের সমতার জন্য কী নারী সমাজকে লেংটা করে পুরুষের সামনে উপস্থিত করতে হবে? নারীকে পুরুষ বানাতেই হবে? এসব ভাড়াটিয়া সমতার বিধানের প্রবক্তাদের কারণে আজ নারী পুরুষ ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে মারমুখী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে গলির চিপায়, রাস্তার মোড়ে মোড়ে, আম, জাম, কাঠাল গাছের নীচে, প্রাইমারি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের উচু দালানে শুধু শুনা যায় ভালবাসার জয় জয়কার অবস্থা। এখন পুরুষ-নারীকে শ্রদ্ধা করেনা, ভালবাসেনা, তেমনি নারী ও পুরুষকে শ্রদ্ধা করেনা। ভালবাসে কিন্তু শ্রদ্ধা কিভাবে করবে? তরা তো এখন প্রতিপক্ষ।
ভালবাসা হলো এখন মানের কামনা, বাসনা পুরণের একটা হাতিয়ার মাত্র। আজ যদি বলা হয় এতো ধর্ষণ, ইভটিজিং, এসডি নিক্ষেপ কেন হচ্ছে? আমার মনে হয় এটাও তথাকথিত সমতার ফলাফল। পুরুষ ভাবে আমরা আমাদের অধিকার, নিরাপত্তা নিজের হাতে আদায় করতে সক্ষম, নারীরা ও তেমনি সক্ষম হওয়া উচিত। এখন প্রশ্ন হলো, এখানে আমাদের বক্তব্য কী? বেগম রোকেয়া যেমনটি বলেছিলেন, “তরুলতা যেমন বৃষ্টির সাহায্য প্রার্থী, মেঘও সেরুপ তরুর সাহায্য চায়। জল বৃদ্ধির নিমিত্তে নদী বর্ষার সাহায্য পায়, মেঘ আবার নদীর নিকট ঋণী। তবে তরঙ্গীঁনি কাদম্বিনীর স্বামী না কাদম্বীবিনী তরঙ্গিনীর স্বামী?"
এখানে যেমনটি দেখানো হয়েছে একে অন্যের উপর নির্ভরশীলতা স্বরূপ, তেমনি পুরুষ ও নারী একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। যদি পুরুষকে স্বামী বলতে লজ্জাবোধ করে তাহলে নারীকে কী নামে বিশেষায়িত করা যায় তা আমার বোধগম্য নয়। নারী পুরুষের সমতা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তবে সেটা হবে সম্মানের ভিত্তিতে কর্মের ভিত্তিতে নয়। কারণ, টেনিস তারকা দ্বারা ক্রিকেট খেলানো যেমন তার উপর অবিচার তেমনি ক্রিকেট তারকা দিয়ে টেনিস খেলানোও অবিচার। বরং প্রত্যেকের স্থান, কাজের ধরন যেমন আলাদা থাকা আবশ্যক, তেমনি তাদেরকে স্বীয় জায়গায় রেখে তাদের যথাযথ প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়াই হলো তাদের প্রতি সমতার বিধান নিশ্চিত করা।
শরৎচন্দ্র চট্রোপধ্যায় তার “শেষ প্রশ্ন” গ্রন্থে নীলিমার ভাষায় এ বিষয়ে এভাবে আলোকপাত করেছেন “মেয়েদের মুক্তি, মেয়েদের স্বাধীনতা, আজকাল নর নারীর মুখে মুখে, কিন্তু ঐ মুখের বেশী এক পা এগোয়না। কেন জানেন? এখন দেখতে পেয়েছি স্বাধীনতা তত্ত্ব-বিচারে মেলেনা, ন্যায় ধর্মের দোহায় পেড়ে মেলেনা, সভায় দাড়িয়ে দল বেধে পুরুষের সঙ্গে কোঁদল করে মেলেনা। এ কেউ কাউকে দিতে পারবেনা। দেনা পাওনার বস্তু নয়।
বাইরে থেকে ডিমের খোলা ঠুকরে ভিতরের জীবকে মুক্তি দিলে যে মুক্তি পায়না, মরে।” নারীকে খোলস ছেড়ে বের করার আগে পুরুষের মাঝে নৈতিকতাবোধ, মানবতাবোধ জাগ্রত করতে হবে, চরিত্র বলে বলিয়ান করতে হবে। নারী বা পুরুষ নয়, বরং মানুষ হিসেবে যে সৃষ্টিকর্তার কাছে ভালো মন্দের জবাবদিহি করতে হবে এ চেতনাবোধ যদি জাগ্রত করা যায় আমাদের বিশ্বাস পৃথিবীতে নারী তাদের সম্মান আদায়ের জন্য নিজেদের সম্ভ্রম পুলিশের হাতে, চরিত্রহীন নেতাদের হাতে বিলিয়ে দিতে হবে না।
স্বার্থান্বেষী মহলকে বলবো, যদি আপনাদের ইচ্ছাই হয় যে নারী জাতির কল্যাণ সাধন তহলে নারী দেহের বিবস্ত্র হওয়ার প্রতি আপনাদের এতো ঝোঁক কেন? নারী কল্যাণ, নাকি নারী থেকে রস আস্বাদন করা আপনাদের মহত্তর উদ্দেশ্য? নরীকে পুরুষের বিরুদ্ধে বা পুরুষকে নারীর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে নয়;বরং একজনকে অন্যের পরিপূরক হিসেবে দাঁড় করিয়ে সমগ্র মানব জাতির কল্যাণ সাধন করতে হবে। পুরুষের মাঝে শুধু এ চেতনা জাগ্রত করুন “তোমাদের মাঝে সে ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।” (আল-হাদীস)
লেখক: এইচ এম ইলিয়াছ (হিমেল), প্রথম বর্ষ, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনিস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।





