ভারত অধিকৃত জম্মু কাশ্মীরের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন মেহবুবা মুফতি সাইদ। তিনি পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির(পিডিপি) প্রধান।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় শপথ নেন তিনি। তার বড় পরিচয় তিনি পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মুফতি মোহাম্মদ সাইদের কন্যা।
গত ৭ জানুয়ারী মুফতি সাইদের আকষ্মিক মৃত্যুতে পদটিতে শূণ্যতা সৃষ্টি হয়। আজ তারই পদে অধিষ্ঠিত হলেন তারই কন্যা মেহবুবা মুফতি।
তিনি জম্মু কাশ্মীরের প্রথম এবং সমগ্র ভারতের দ্বিতীয় মুসলিম নারী যিনি রাজ্য সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নিলেন। এর আগে ১৯৮০ সালে আসামের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনোয়ারা তৈমুর(১৯৮০-১৯৮১) শপথ নিয়েছিলেন।
অত্যন্ত বুদ্ধিমতি ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বলে খ্যাতি আছে মেহবুবা মুফতির। সম্প্রতি কাশ্মীরে ভারতীয় জনতা পার্টি(বিজেপি) ও পিডিপির মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। দু’দলের সমন্বয়ে কাশ্মীরে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়েছে।
এই কোয়ালিশন সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহবুবা মুফতি। কাশ্মীরে বর্তমানে পিডিপির বেশ জোরালো অবস্থান রয়েছে। আর দলের এই অবস্থানের পেছনে বাবার পাশাপাশি ৫৮ বছর বয়েসী মেহবুবার বেশ অবদান রয়েছে বলে মানেন দলের নেতারা।
মেহবুবা মুফতি ২০০৯ সালে দলের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন সমাজসেবিকা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। পেশায় আইনজীবি। তিনি প্রথম রাজনৈতিক লাইমলাইটে আসেন ১৯৯৬ সালে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অ্যাসেম্বলী পোলে বিজবেহারা অঞ্চলের সদস্য হয়ে।
১৯৯৯ সালে পিতা মুফতি মোহাম্মদ সাইদ কংগ্রেস থেকে বের হয়ে পিডিপি গঠন করলে মেহবুবা দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এবং নিজের অবস্থান গঠনে ব্যপক কাজ করেন। সে বছরই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করলেও ওমর আব্দুল্লাহর কাছে হেরে যান।
পরবর্তীতে ২০০২ সালে আবার অ্যাসেম্বলী সদস্য হন। এবং ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে পহলগাঁও নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। ২০০১৪ সালের সাধারন নির্বাচনে পুনরায় একই নির্বাচনী এলাকা থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
নানা কারনে জম্মু কাশ্মীরে মুফতি পরিবার বেশ আলোচিত পরিবার। বিভিন্ন সময়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে পরিবারটি। বনার্ঢ্য রাজনৈতিক পরিবার হিসেবে সুনামও রয়েছে। মুফতি সাইদ সক্ষম থাকা সত্তেও নবীনদের মাঝে দলের দায়িত্ব হস্তান্তর দলে ও সাধারন মানুষের মাঝে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মুফতি পরিবার প্রথম আলোচনায় আসে ১৯৮৯ সালে ভারতের নিষিদ্ধ সংগঠন জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের হাতে মুফতি সাইদের আরেক কন্যা রুবাইয়ার জিম্মী হওয়ার মধ্য দিয়ে। সংগঠনের তিনজন বন্দী বিনিময়ের মাধ্যমে রুবাইয়া ছাড়া পান। রুবাইয়া জিম্মী হবার পাঁচদিন পর মুফতি সাইদ রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন। তখন রুবাইয়াকেই ভবিষ্যৎ রাজনীতিক মনে করা হলেও মেহবুবাই নিজের অবস্থান করে নিয়েছেন স্বীয় যোগ্যতায়।
রাজনীতিতে এসেও ব্যপক পরিবর্তন পরিবর্ধনের উদ্যোগ তাকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। রাজনীতিক হয়েও সমাজসেবিকা পরিচয় ধরে রাখা তাকে আলাদা বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছে। নিজ দায়িত্বে নিয়েছেন অনেক পদক্ষেপ। যা তাকে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে জনগনের। বিজেপির সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করছেন। সম্প্রতি কাশ্মীরের বন্যা পরিস্থিতিতেও তার ব্যপক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। কাশ্মীরবাসীরা তাকে ঘিরে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে। দেখা যাক তিনি কতটা কি করতে পারেন।
এমবি





