সকালে ঘুম থেকে যদি সংবাদ আসে প্রিয়জন অসুস্থ হাসপাতালে তাহলে কেমন লাগে? আবার হাসপাতালে গিয়ে যদি দেখা যায় প্রিয়জনের নিথরদেহ পড়ে আছে তাহলে কতই না অমানবিক, কত হৃদয়বিদারক তা সেই বুঝতে পাড়ে এরকমই ঘটেছিল এসপি বাবুল আক্তারের জীবনে ।
৫ ই জুন রোববার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার সকালে সন্তানকে স্কুলের বাসে তুলে দেবার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। বাসার কাছাকাছি জিইসি মোড়ের কাছে মোটরসাইকেলে আসা তিনজন মিসেস আক্তারকে প্রথমে ছুরিকাঘাত ও পরে গুলি করে পালিয়ে যায়।ঘটনাস্থলেই মাহামুদা আক্তার নিহত হন।

আলোচিত হত্যাকান্ডের মধ্যে গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় নৃশংষভাবে খুন হন ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু।হত্যার প্রায় তিনমাস পেরিয়ে গেলেও আপরাধীরা এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে।
সম্প্রতি সময়ের আরও যারা হত্যার শিকার হলেন,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে (৫৮) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রাজধানীর কলাবাগানে মার্কিন দূতাবাসের সাবেক প্রটোকল অফিসার জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে সস্ত্রাসীরা।
পুরানো ঢাকার সুত্রাপুরে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন গনজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাষ্টার্সের ছাত্র নাজিমউদ্দিন সামাদ (২৬)।ব্লগার অভিজিৎ হত্যার একমাসের মধ্যে ব্লগার ও অনলাইন লেখক ওয়াশিকুর রহমানকে হত্যা করেছে দুবৃত্তরা।স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র আশরাফুল আলম, চ্যানেল আইয়ের ইসলামিক অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় উপস্থাপক মাওলনা নুরুল ইসলাম ফারুকী, গোপীবাগের ভিন্ন মতাবলম্বী নেতা লুৎফর রহমানসহ তার অনুসারী ৬ জনকে কুপিয়ে হত্যা,

এর পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মালম্বীরাও অপরাধীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ঝিনাইদহের পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নাটোরের বনপাড়ায় খ্রিষ্টান মুদি ব্যবসায়ী সুনীল গোমেজ কুপিয়ে হত্যা করে। পাবনা জেলার হেমায়েতপুর এলাকায় একটি সেবাশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পান্ডেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এ সকল হত্যাকান্ডের কিছুক্ষণের মধ্যে জানা যায় যে, এই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে আইএস। এটি পুলিশের মুখস্ত বক্তব্য, এছাড়াও কোন আনছার আল-ইসলাম সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন বা নিষিদ্ধ কোন জঙ্গি সংগঠন।

এ সকল অপরাধীরা হত্যা কান্ড ঘটিয়েই চলেছে। কিছু কিছু অপরাধী ধরা পরলেও প্রকৃত অপরাধীরা সবসময় থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় তারা ঘুরে বেরাচ্ছে আর অপরাধ করেই চলছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন "আমাদের দেশে শক্তিশালী বাহিনী থাকা সত্তেও কেন? অপরাধীরা গ্রেফতার হচ্ছে না"।
রাজনৈতিক দলগুলো কোন হত্যাকান্ড ঘটলে একে অপরের উপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দেশে জবাবদিহি'র সরকার না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন নিম্নগামী হচ্ছে বলেও দলটির অভিযোগ।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই নিম্নগামী হয়েছে যে, একজন নারী পুলিশ সদস্যও গণধর্ষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। আরও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, এ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তারই সহকর্মী পুলিশ সদস্যদের দ্বারা। এতেই প্রমাণ হয় দেশে আইনশৃঙ্খলার কতটা অবনতি ঘটেছে।’
রিপন বলেন, যারা আইনের সুরক্ষা দেবেন তারাই যখন অপরাধের হোতা হয়ে ওঠে তখন নাগরিকদের হতাশ হওয়া ছাড়া কিছু করার থাকে না। এই ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন বিএনপি’র এ নেতা।
আসাদুজ্জামান আরো অভিযোগ করেন, ' আওয়ামী লীগের সাংসদ পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির ছোড়া গুলিতেই নিরীহ দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এখন তাকে হত্যা মামলা থেকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, কার হাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিপন বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন দায়ী। জনগণের নির্বাচিত সরকার দেশে থাকলে এমনটি হতো না।'
এদিকে বিএনপির দাবি প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দিতেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গোলাম ফয়জুল্লাহ ফাহিমকে (১৯) হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
(১৮জুন)শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন।
‘জঙ্গিবাদ’ ও ‘আওয়ামী লীগবাদ’ যমজ ভাই বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, দুজনেই রক্তারক্তি পছন্দ করে। এ কারণে যেসব হত্যাকাণ্ড হচ্ছে সরকার কোনো রকম বিচার ও তদন্ত করছে না। মানুষকে হয়রানি করছে।

গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের সদস্যদের হাতে লাঠি তুলে দিয়ে পুলিশই আইন ও সংবিধান লংঘন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান।
ডা. শফিক বলেন, পবিত্র রমযান মাসে সরকার উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দেশব্যাপী গণগ্রেফতার অভিযান চালিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে রোজাদার লোকদের কষ্ট দিচ্ছে।
অন্যদিকে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ার করে মানুষ হত্যা করে সরকার দেশের আইন, সংবিধান ও মানবাধিকার লংঘন করছে। সরকার দেশব্যাপী যে গণগ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে সে ক্ষেত্রে আইনের বিধি-বিধান মানা হচ্ছে না এবং উপেক্ষিত হচ্ছে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা।
বিনা ওয়ারেন্টে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এমনকি সাদা পোশাকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে সরকার আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে আইনের পরিপন্থী কাজ করছে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথাকথিত ক্রস ফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের নামে ১৯২ জন মানুষকে বিচার বর্হিভূতভাবে হত্যা করেছে। গত এক মাসে বিচার বর্হিভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে প্রায় কয়েক ডজন লোককে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের সদস্যদের হাতে লাঠি তুলে দিয়ে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীদের ধরতে পারলে পিটিয়ে হত্যা করার’ বেআইনী নির্দেশ দিয়েছেন। এভাবে আইন হাতে তুলে নেয়ার বেআইনী নির্দেশ দিয়ে পুলিশই আইন ও সংবিধান লংঘন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।

নির্বাচনী সহিংসতা ও চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যাসহ সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।
অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেট উচ্চাভিলাষী-বাস্তবায়ন অযোগ্য। প্রায় সব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে মন্তব্য করে সরকারের বড় বড় প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ আনেন রওশন এরশাদ।
শেষ হওয়া ইউপি নির্বাচনে ১১২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় নির্বাচন পদ্ধতি ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন তিনি।
চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ়তর হচ্ছে। সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার ফলে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে।
ফলশ্রুতিতে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিকভাবে দেশি-বিদেশি নাগরিকরা তাদের জীবনযাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকার ফলে দেশে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সব ধরনের জঙ্গিবাদ, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সমূহকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরস্পরের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, নাশকতামূলক, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড ও গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
জঙ্গি ও সন্ত্রাসীসহ সব অপরাধীর কর্মকাণ্ড রোধে তাদের অর্থের যোগানদাতা ও অর্থের উৎস সন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশ: সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বর্তমানে দেশে শিক্ষা, তথ্য, যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে সার্বজনীন, বাধ্যতামূলক, গুণগত মানসম্পন্ন করা এবং এর সম্প্রসারণে প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক মানোন্নয়ন করা হয়েছে।
এমআর





