ঈদ আসন্ন, তাতেও মনে খুশি নেই। দেশের জন্যই মনটা বেশি খারাপ। টাঙ্গাইলে ছেলের সামনে মাকে ধর্ষণ। প্রতিবাদ করায় পুলিশ কর্তৃক গুলি করে তিন যুবককে হত্যা। ঝিনাইদহে ১১ মাসের দুধের শিশু রয়েলের ১৯ ঘন্টা কারাবাস। এসব ঘটনায় মন ভালো থাকার সুযোগ কোথায়? এমনিতেই ভীষণ খারাপ সময় যাচ্ছে। ব্যক্তিগত অবস্থা অনেকটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দূরাবস্থার মতোই। এক বছরের প্রবাস জীবনে যতো না নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভেবেছি, কিংবা কাজ করেছি; তার চেয়েও বেশি সময় কেটেছে প্রিয় মাতৃভূমির দু:সময় দূর করার কাজে। এ কাজের সফলতা-ব্যর্থতা কিংবা ভবিষ্যত নিয়ে পরবর্তীতে একদিন লিখবো।
চলমান বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষণ নয়, প্রিয় জন্মভূমি নিয়ে নতুন আশঙ্কাকে আজ পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চাই। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো থেকে ইউরোপে রিফিউজির ঢেউ এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। অসংখ্য মুসলিম ছুটছে ইউরোপে। অনেকে ডুবছে সাগরে। অস্থিরতার মধ্যে অনেক মানুষ হারিয়ে যাচ্ছেন চিরতরে। নিজের প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে অজানা গন্তব্যে ছুটছে মুসলিম জাহানের মানুষ। তেল, স্বর্ণসহ অঢেল খনিজ সম্পদের জনপদে জন্ম নিয়েও দেশছাড়া তারা। তারা সংখ্যায় কত? কেউ বলতে পারে না। শিশু আইলান কুর্দির লাশ মুসলিম রিফিউজির প্রতীক হয়ে উঠেছে। একটি শিশুর লাশ পুরো বিশ্বকে নাড়া দেয়। সর্বত্র আইলান কুর্দির জন্য সহানুভূতি। আইলানের লাশ মধ্যপ্রাচ্যের লাখ লাখ মুসলমানের রিফিউজি হওয়ার ঘটনাকে বিশ্ব দরবারে জানান দেয়। অভিবাসনের সুযোগ পেতে ইউরোপ রুটে সাগর, নদী আর শ’শ' মাইল পায়ে হেঁটে অনিশ্চিত গন্তব্যে ছুটে চলছেন দেশান্তরী মুসলমানরা। কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে স্বল্পসংখ্যক সিরিয় মুসলমানকে রিফিউজি হিসেবে গ্রহণ করছে।
রিফিউজি ইস্যুতে বৃটিশ সরকার রিজিড থাকলেও আইলান কুর্দির লাশ দেখে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। ঘোষণা দেন, সিরিয়ার দেশত্যাগী ১০ হাজার মুসলমানকে অভিবাসনের সুযোগ দেবেন। জার্মানী, হাঙ্গেরি, সুইডেনসহ অনেক দেশ অনেকটা নমনীয়তা প্রদর্শন করে মুসলিম রিফিউজিদের প্রতি।
গত এক বছর রিফিউজিদের নিয়ে কিছু কাজ করেছি। বিভিন্ন দেশের রিফিউজিদের জন্য ফান্ড রেইজিং-এর কাজে নিয়মিত সময় দিচ্ছি। ইউরোপে রিফিউজি আইন, এর প্রয়োগ এবং সর্বহারা রিফিউজিদের জীবন নিয়ে গবেষণা কার্যক্রমে কিছুটা সময় দিচ্ছি। বৃটেনে রিফিউজি কাউন্সিল এবং সিটিজেন অ্যাডভাইস ব্যুরোসহ বিভিন্ন সংস্থার সাথে সম্পৃক্ততার সুযোগে এ কাজটি করতে উৎসাহ পাচ্ছি। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৃটেনে আগত কিংবা দেশে ফিরতে জীবনে ঝুঁকি আছে, এমন কিছু মানুষকে আইনী পরামর্শ দেয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। এক কথায়, গত এক বছরে রিফিউজি ইস্যুটি আমার প্রাত্যহিক জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে।
পৃথিবীতে সব যুগেই কম-বেশি রিফিউজি ইস্যুটি আলোচনায় ছিল। অক্সফোর্ড ডিকশনারী অনুযায়ী, ১৭ শতকে রিফিউজি শব্দটির উদ্ভব। ফ্রেন্স ভাষা থেকে রিফিউজি শব্দের উৎপত্তি। 'রিফিউজি' শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ শরণার্থী। রিফিউজি বলতে বোঝায় ''A person who has been forced to leave their country in order to escape war, persecution, or natural disaster'.
১৯৫১ সালের রিফিউজি কনভেনশনে বলা হয়েছে, 'A refugee is someone who "owing to a well-founded fear of being persecuted for reasons of race, religion, nationality, membership of a particular social group or political opinion, is outside the country of his nationality, and is unable to, or owing to such fear, is unwilling to avail himself of the protection of that country." অর্থাৎ, 'কোনো ব্যক্তি যদি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন ও দেখতে পান যে তিনি তার জাতীয়তাবোধ, রাজনীতিক আদর্শ, বিশেষ কোনো সমাজবদ্ধ জনগোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে জাতিগত সহিংসতা, ধর্মীয় উন্মাদনার শিকার হচ্ছেন কিংবা ওই দেশের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সেখানকার পরিবেশ তার জন্য ব্যাপক ভীতিকর হচ্ছে, রাষ্ট্র পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে; তখন যদি তিনি আশ্রয়ের সন্ধানে অন্য দেশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করেন তখন শরণার্থী বলে বিবেচিত হবেন।'
আবার ১৯৬৭ সালে খসড়া দলিলে শরণার্থীর সংজ্ঞা বর্ধিত করা হয়। বলা হয়, যুদ্ধ বা সহিংসতার কারণে কেউ নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার না হয়েও মাতৃভূমি ত্যাগ অথবা জোরপূর্বক নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হলে ওই ব্যক্তি শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং শরণার্থীর যাবতীয় অধিকার পাবেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার নাম ইউএনএইচসিআর। এই সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ শরণার্থী তালিকাভুক্ত হয়েছে। বিগত কয়েক মাসে নতুন আরো ৮-৯ লাখ শরণার্থী যোগ হয়েছে। সিরিয়া, ইরাকের লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় খুঁজছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি সিরীয় অধিবাসী বাড়িছাড়া। অনেকেই তুরস্ক, জর্ডান, ইরাক, লেবাননে আশ্রয় নিয়েছে। লিবিয়ার প্রায় ২২ লাখ শরণার্থী তিউনিসিয়ায় আশ্রয় নেয়। আলজেরিয়ায় আশ্রয় নেয় প্রায় ৫৫ হাজার লিবীয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর প্রায় চার লাখ শরণার্থী মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকা হয়ে ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের মধ্যে আরো সাড়ে চার লাখ শরণার্থী ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাবে।
বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি দেশেই কম-বেশি নাগরিককে জীবন রক্ষার্থে অন্য দেশে গিয়ে রিফিউজি স্ট্যাটাস গ্রহণ করতে হয়েছে। বিখ্যাত দার্শনিক কার্ল মার্কস সহ বহু নামীদামী চিন্তাবিদ, লেখক ও রাজনীতিক বৃটেনে রিফিউজি হিসেবে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকটা ভিন্নমত এবং স্বৈরশাসকদের রোষাণলে পড়েই বহু মানুষকে রিফিউজি হতে হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দুই মহানায়কের পরিবারের সদস্যদের একটি অংশও বৃটেনে রিফিউজি হিসেবে বাস করতে বাধ্য হয়েছেন।
কিন্তু, সাম্প্রতিক মধ্য প্রাচ্যের মুসলমানদের রিফিউজি হওয়ার প্রেক্ষাপটটা কিছুটা ভিন্ন। গত কয়েক বছরে মুসলিম দেশগুলোতে কিছু ক্ষমতা লোভী নামধারী মুসলমানের উত্থান ঘটে। আর তাদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে গণবিদ্রোহ। বিদ্রোহ দমনে শাসকরা হত্যাযজ্ঞ চালায়। স্বৈরশাসকদের উৎখাতের লড়াই পরিণত হয় গৃহযুদ্ধে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ব মোড়লরা সেখানে হস্তক্ষেপ করেন। যা হওয়ার তা-ই হয়। ক্ষমতালোভী কিছু মানুষ বিশ্ব মোড়লদের দালালের ভূমিকা পালন করেন। মুসলিম জাহানের আলোচিত কয়েকটি দেশ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। বিকল্প পদ্ধতিও আছে। কোথাও কোথাও স্বৈরশাসক ফর্মুলা কাজ করেনি। সেখানে একবিংশ শতাব্দীর ‘ইসলামী জঙ্গীবাদ’ফর্মুলা ভাল ফল দিয়েছে। নাইন-ইলেভেনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে অভিযান চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক অভিযানের সময় বৃটেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপের অনেক মোড়ল দেশ তখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ যুদ্ধে অংশ নেয়। সাদ্দাম যুগের অবসানের পর যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরাক প্রকল্প গুটিয়ে নিতে শুরু করে, তখনই শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে আরব বসন্তের নামে সরকার পতনের ঘটনা। ইয়েমেন দিয়ে যার শুরু আর লিবিয়া দিয়ে যার শেষ। কিন্তু একমাত্র ব্যতিক্রম সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। কারণ বাশার আল আসাদেও পেছনে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
মিশরে হুসনে মোবারকের পতন হয়েছে, লিবিয়ায় কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হয়েছে। ইয়েমেনে আবদে রাবু মনসুর হাদি'র সরকারের পতন হয়েছে। কেবল পুতিনের সমর্থন নিয়ে টিকে আছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। সিরিয়ায় আসাদ টিকে থাকলেও একটি জনপদ এখন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, মিশর, ইরাক, লিবিয়াসহ ইসলামী ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত জনপদগুলোর কোথাও শান্তি নেই। অশান্তির পর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।
যাইহোক, আমরা নিজেদের প্রসঙ্গে আসি। প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশ রাষ্ট্র ‘ধর্মনিরপেক্ষ’তকমা নিয়ে এখন চলছে। কিন্তু জনসংখ্যার হিসাবে বাংলাদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তা-ই বলে। একটি ছোট জনপদ হলেও ভবিষ্যত বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের গুরুত্ব আছে। যেখানে সুপারপাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের স্বার্থের সাথে ভবিষ্যত ‘নাম্বার ওয়ান শক্তিধর’চীনের বিবেচনা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ বড় ঝুঁকির মধ্যে আছে।
এসব ঝুঁকির সাথে গত কয়েক বছরে যোগ হয়েছে বাংলাদেশে দু’টি পক্ষের ক্ষমতার লড়াই। সবকিছুই মানি, কিন্তু ক্ষমতা আমারই চাই। গণতন্ত্র থাকবে, তবে আমার ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে আগে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের হিসাব-নিকাশের প্রধান টার্গেট থাকে ক্ষমতা। ক্ষমতার বাইরে কোনো হিসাব করার রাজনীতি বাংলাদেশে আপাতত নেই। গত দু’বছরের পরিস্থিতিটা এমন যে, ক্ষমতায় থাকা কিংবা যাওয়া ছাড়া কোনো কর্মসূচি কেউ নেননি। এক পক্ষের সরকার বিরোধী আন্দোলন, কিংবা অন্য পক্ষের মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুম, ফাঁসি এবং জঙ্গীবাদের প্রচারণার প্রধান উদ্দেশ্যও ‘ক্ষমতা’। এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি সময় পার করছে।
কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দু’টি পত্রিকার নিবন্ধ দেখে আমি আতঙ্কগ্রস্ত। দু’টি নিবন্ধেই ‘বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের উত্থান’এবং ‘জঙ্গীবাদ দমনে’বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চরম রক্ষণশীল পত্রিকা ‘ওয়াশিংটন টাইমস’নিবন্ধ লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। এতে তিনি বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন। বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা এবং পরাস্ত করার জন্য বাংলাদেশকে মিত্র হিসেবে কাজে লাগাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।’
ছেলের চেয়ে একধাপ এগিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দমনে ব্রিটিশ সরকারকে আরো বেশি পদক্ষেপ নেয়া’র আহবান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘মৌলবাদীরা বাংলাদেশে তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং কিছু কিছু লোক তাদের মদত দিচ্ছে।’এই জঙ্গিবাদ দমনে তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন বৃটেনের এ পত্রিকার মাধ্যমে।
বিদেশী পত্রিকায় প্রধানমন্ত্রীর এমন আহবান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বৈধ কিংবা অবৈধ যেটাই হোক, প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে নিজের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওপেন আহবান জানানোর পর আতঙ্কিত না হওয়ার সুযোগ নেই। সিরিয়ায় যেভাবে ‘ইসলামিক স্টেট’ (আইএস) এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাশার আল আসাদ আহবান জানাচ্ছেন। রাশিয়া সেখানে বিমান ঘাটি বানাচ্ছে। বাশার আল আসাদের পাশে দাঁড়িয়েছে মস্কো। পক্ষান্তরে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুরো বিশ্ব আইএস দমনে তৎপর। বাশার আল আসাদকেও তারা সরাতে চায়। সিরিয়া ও ইরাকের কিছু অংশ আইএস দখল করে নিলো। এর প্রেক্ষাপটে জীবন বাঁচাতে সিরিয়া থেকে লাখ লাখ মানুষ দেশান্তরী হলেন। অজানা গন্তব্যে ছুটে জীবন হারিয়েছেন অনেকে। তুরস্কের রিফিউজি ক্যাম্পে আছেন কয়েকহাজার। ইউরোপের রাস্তায় রাস্তায় এখন সিরিয় মুসলমানদের ভুখা মিছিল। আমার প্রশ্ন হলো, মুসলিম ওই দেশটিতে হঠাৎ ‘আইএস’নামক একটি শক্তির উত্থান হলো কিভাবে? এরা এলো কোত্থেকে?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘জঙ্গীবাদ’ফর্মুলাকে পর্যালোচনা করা হয়, তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে- ‘মুসলিম রিফিউজির পরবর্তী উৎস কী বাংলাদেশ?’আমার প্রশ্ন, মধ্যপ্রাচ্য দিয়ে শেখ হাসিনা কী শিক্ষা নিতে পারেন না? কেন তিনি আত্মঘাতী হচ্ছেন? মনে রাখতে হবে, বনে বাঘ এলে কেউ রক্ষা পাবেন না। ঘূর্ণিঝরের আঘাত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকেই লণ্ডভণ্ড করে দেয়।
লেখক: এম মাহাবুবুর রহমান
বৃটেন প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিক ও গবেষক।





