এদেশে পিটিয়ে মানুষ মারলে কিছু হয়না; কখনও বা সেটা বীরত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। এই যখন অবস্থা তখন পিটিয়ে যারা মারছে তাদের মুন্ডুপাত করা কতটা সমিচীন ? বিষয়টি রাতারাতি ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নয়। এমনও নয় যে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। প্রতিনিয়তই ঘটছে। এটা আমাদের মানসিক; সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা। সোস্যাল মিডিয়ায় দুদিনের আবেগী স্ট্যাটাস এর সমাধান করবে না।

ঘটনা ঘটছেই...সোস্যাল মিডিয়ার আলোচনার বিষয় বদলায়; কিন্তু কোন সমাধান হয়না। আবার কোন ঘটনা "বিষয়" হবে; কোনটাকে অমানবিক বলা হবে সেটাও নির্ভর করে কিছু বিশেষ উদ্দেশ্য আর হুজুগের উপর। গারো মেয়ে ধর্ষিত হলো; শাহবাগে মানব বন্ধন হলো। যথার্থই। কিন্তু এর দুদিন পরেই বাসে গার্মেন্টস কর্মী গনধর্ষণের শিকার হলো; মানব বন্ধন তো দুরের কথা কিছু শব্দের বন্ধনেও মানব বন্ধনকারীদের প্রতিবাদ খুঁজে পেলাম না !!!

মিলনকে মারার ভিডিও দেখে ঘুম হয়নি। মৃত্যুর আগে তার বিস্ফোরিত চোখ দুটি তাড়িয়ে বেড়িয়েছে অনেকদিন। তারপর...সেই ভিডিও সমৃদ্ধ ঘটনাটাও হারিয়ে গেছে। কারোই কিছু হয়নি। দোষী পুলিশ অফিসারও স্বপদে বহাল হয়েছেন। সূর্য উঠছে আগের মতই...

দেশে অনেক ঘটনাই ঘটছে যার কোন ভিডিও নাই; তাই সেসব ঘটনা সোস্যাল মিডিয়ার খাদ্য হতে পারছেনা। রাজন হত্যাকান্ড মিডিয়া আনুকুল্য পাবার কারণ হচ্ছেঃ এখানে দোষী হিসেবে সরকার দলের লোকজন নেই; নেই পুলিশও। বরং যারা ঘটনা ঘটিয়েছেন তাদের কেউ কেউ নাকি যুবদলের সমর্থক! অতএব প্রতিবাদের লেলিহান শিখা সিলেট থেকে সোউদী আরবে পৌঁছে যেতে সময় লাগেনি। যদিও ত্বকির ঘাতক প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ায় ! ত্বকিকে মারার কোন ভিডিও নেই ! কারণ কি শুধু সেটাই ???

থাইল্যান্ডে, মায়ানমারে যেসব গনকবর পাওয়া গেছে, আর যা পাওয়া যায়নি; সেখানে যেসব রাজনেরা মাটির ঠিকানা পেয়েছে তাঁদের জন্যে সোস্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠেনা। তার লোমহর্ষক কোন ভিডিও-ও নেই। তাঁদের বয়স কত হবে? রাজন আর কিছুদিন বাঁচলে থাইল্যান্ডে বা সমুদ্রে রোমাঞ্চকর মৃত্যুর সুযোগ পেত। অবশ্য এখন যেমন তার নামটি দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে সেটা হতনা। এর জন্যে পিটিয়ে মারার ভিডিও থাকা জরুরি!!

বয়স বেশী হলে তাঁকে পিটিয়ে মারা যাবে বলে কোন আইন নেই। শিশু-কিশোর হোক বা পূর্ণ বয়স্ক কাউকেই মারা যাবেনা। তাই আমি সকল মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাই। সেটা যেখানেই হোক। ফেলানী হোক বা বিশ্বজিৎ ...সীমান্তের গরু ব্যাবসায়ী অথবা নাম না জানা হাজার সাগরে ভাসা মানুষ; সবাই।

ডাকাত সন্দেহে গনপিটুনিতে যারা নিয়তই খুনের শিকার হচ্ছেন আমি সবার জন্যে সমব্যাথী।এই প্রহসনের বিলাপ ভালো লাগেনা। যারা গুম হচ্ছেন; ক্রস ফায়ার নামক বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন সবাই এক একজন "রাজন" ! সবার মা-ই সন্তান হারানোর বেদনা নিয়েই আছেন।

এক রাজনের মৃত্যুতে সব শেষ হয়ে যায়নি; যদি গিয়ে থাকে তাহলে সেটা অনেক আগেই গিয়েছে...!!! (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বি. দ্র. মতামত একান্তই লেখকের নিজস্ব বিষয়। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।

কেবি