২৪ জানুয়ারি, শনিবার আজ। শনির রাহুগ্রাসে যেন আজ আক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশের ‘অপরিপক্ক’ কূটনীতি। কারণ সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে আজ বাংলাদেশ। কিন্তু কেন?
সৌদি আরব সরকার যেখানে তার দেশের বাদশাহর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক দূরের কথা, কালেমা খচিত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখেনি বা রাখার প্রয়োজন মনে করেনি, সেখানে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আজ দেশে বিদেশে।
লাশ নিয়ে আড়ম্বর ও যে কোন প্রকার অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতাকে যেখানে সৌদি প্রশাসনের তরফ থেকে শুধু নিরুৎসাহিতই করা হয় না, দেখা হয় ‘শিরক’ হিসেবে, সেখানে ঢাকার প্রশাসনের ‘মোটা বুদ্ধি’র বহিঃপ্রকাশ ‘মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি’ হয়ে গেল আজ অনেকটাই।
৯০ বছর বয়সী বাদশাহ আবদুল্লাহ বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাতে ‘না ফেরার দেশে’ চলে যাবার ২৪ ঘন্টা পার হবার অনেক আগেই শুক্রবার রাষ্ট্রীয় বিধান মোতাবেক সাধারণ নাগরিকের মতো অজ্ঞাত একটি কবরে সমাহিত হন।
সিংহভাগ রেমিটেন্সের যোগানদাতা রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি বাদশাহর স্বাভাবিক মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক প্রকাশ করবেন এটাই স্বাভাবিক, করেছেনও। কিন্তু সৌদি সরকার যেখানে তার নিজ দেশেই বাদশাহর মতো সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনকে ‘শিরক’ হিসেবে ‘ট্রিট’ করছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো আরেকটি মুসলিমপ্রধান দেশে একই ইস্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালনকে ‘নেতিবাচক’ হিসেবে নিচ্ছে সৌদি প্রশাসন, রিয়াদের বিশ্বস্ত সূত্র এমনটাই জানিয়েছে।
এদিকে সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর দাফন হয়ে যাবার পরদিন অর্থাৎ শনিবার রিয়াদের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
শুক্রবার সৌদি সময় আসরের নামাজের পর রিয়াদের একটি মসজিদে একেবারেই সাদামাটাভাবে অনুষ্ঠিত প্রয়াত বাদশাহর জানাজায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সাথে যোগ দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও। অথচ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান রওয়ানাই দিলেন লাশ কবরে সমাহিত হবার পরদিন।
রিয়াদ সময় বৃহষ্পতিবার দিবাগত রাতে সৌদি বাদশাহ যখন মারা যান, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার তখনো ফজরের আযান হয়নি। দু’দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ ভালো থাকলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও পারতেন শুক্রবার ফজরের নামাজ আদায়ের পরপরই সৌদি আরবের পথে রওয়ানা হয়ে যেতে।
এতোসব আক্ষেপ নিয়েই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাবো এজন্য যে, বাংলাদেশের শোকবার্তাটি অন্ততঃ তিনি সশরীরে বহন করে নিয়ে গেলেন অনেক দেরীতে হলেও।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সেগুনবাগিচায় কূটনীতির কলকাঠি যারা নাড়েন, তাদের প্রতি বিনীত নিবেদন থাকবে ভবিষ্যতে যে কোন সৌদি বাদশাহর শেষ নিঃশ্বাসে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের মতো ‘হিতে বিপরীত’ কাজ থেকে বিরত থাকুন।
ত্রিশ লাখ বাংলাদেশী আর বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্সের বিষয়টি গননায় ধরা হচ্ছে ভালো কথা, কিন্তু সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ ইসলাম বহাল রেখে সরকারীভাবে বাংলাদেশের তরফ থেকে কেন করা হবে সেই ‘শিরক’, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যা করছে না সৌদি সরকার। শনির রাহুগ্রাস বলে কথা ! (সূত্র: ফেসবুক)





