বেগম খালেদা জিয়া ৩ জানুয়ারি, ২০১৫ রাত থেকে তার দলের গুলশানের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ। ৩ জানুয়ারি রাতে তিনি তার কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলে পুলিশ তাকে বাধা দেয়। ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ছাত্রলীগের কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার সময় প্রসঙ্গত উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ নন এবং তিনি যেখানে ইচ্ছা সেখানে যেতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী সরকারের শীর্ষ পদধারী এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ নির্বাহী। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সঠিক না হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর আমরা দেখলাম ৫ জানুয়ারি বিকেলের দিকে বেগম খালেদা জিয়া তার কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলে পুলিশ তীব্রভাবে বাধা দেয়। এর আগে পুলিশ তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকে বাইরের দিক থেকে তালা লাগিয়ে দেয়।

বেগম খালেদা জিয়া যখন তার কার্যালয় থেকে বের হতে সচেষ্ট, তখন তার দলের নেতাকর্মীরা প্রধান ফটকটি খোলার জন্য ভেতর দিক থেকে ধাক্কা দিতে থাকলে অকস্মাৎ পুলিশের জনৈক কর্মকর্তা এসে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক মহিলা ছিলেন। তা ছাড়া সেখানে সংবাদমাধ্যমের বিপুলসংখ্যক কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পেপার স্প্রের ঝাঁঝে বিএনপির নেতাকর্মীসহ সংবাদকর্মী ও বেগম খালেদা জিয়া নিজে আক্রান্ত হন। আক্রান্ত কয়েকজন পিপার স্প্রের চোখের তীব্র যন্ত্রণাসহ শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন। বেগম খালেদা জিয়া নিজেও শ্বাসকষ্টে ভোগেন। পিপার স্প্রে নিক্ষেপের দৃশ্যটি কয়েকটি টিভি চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচারের কারণে দেশবাসী তাৎক্ষণিক প্রত্যক্ষ করতে পারে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতা স্বীকৃত। ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে‘জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, এর যেকোনো স্থানে বসবাস ও বসতি স্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।’

উল্লিখিত অনুচ্ছেদ থেকে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত নয় এমন যেকোনো স্থানে গমন ও প্রস্থানে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো বাধানিষেধ নেই। ৫ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া তার দলের গুলশানের কার্যালয় থেকে পুরানা পল্টন কার্যালয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। উভয় কার্যালয়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত নয়। সুতরাং একটি দলের প্রধানকে তার নিজ দলের কার্যালয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেয়া, তার চলাফেরার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ স্পষ্টত সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ ছিলেন না। আর তিনি যদি অবরুদ্ধ না-ই থেকে থাকেন সেক্ষেত্রে যারা তাকে তার গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছে, তাদের কার্যকলাপ দেশের মূল দণ্ড আইন দণ্ডবিধির ৩৪০ ধারায় বর্ণিত অবৈধ অবরোধকে আকৃষ্ট করে।

ওই ধারায় অবৈধ অবরোধের যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তাতে উল্লেখ রয়েছে যে‘যদি কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ এলাকার বাইরে গমনে নিরস্ত করার জন্য অবৈধভাবে বাধাদান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অবরোধ করে বলে গণ্য হবে।’

দণ্ডবিধি অনুযায়ী অবৈধ অবরোধ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধের জন্য একজন ব্যক্তির কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

৫ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় তাকে বাধা দেয়াসহ পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করা হয়। ওই তারিখে সরকারি দল আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র রক্ষা দিবস এবং বিরোধী দল বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।

উভয় দলের কর্মসূচি জনশৃঙ্খলা হানিকর বিবেচনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সমাবেশ অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারিসহ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারায় বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর ফলে সমাবেশ অনুষ্ঠান ছাড়াও ৫ বা ৫-এর অধিক ব্যক্তির সমাবেশ বেআইনি ঘোষিত হয়।

ওই দিন দেখা গেল বিরোধী দল বিএনপি ডিএমপির এলাকাভুক্ত যেকোনো জায়গায় যখনই সমবেত হওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিল, তখনই পুলিশ বলপ্রয়োগে তাদের নিবৃত্ত করে। কিন্তু সরকারি দলের ক্ষেত্রে এর উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হয়। সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের দেখা যায় বেআইনি সমাবেশের সদস্য হিসেবে পুলিশের সাহায্য নিয়ে বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছে।

চলাফেরার স্বাধীনতার মতো আমাদের সংবিধানে সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতাও স্বীকৃত। সমাবেশের স্বাধীনতা বিষয়ে ৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা রয়েছেজনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

সংগঠনের স্বাধীনতা বিষয়ে সংবিধানের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছেÑ জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সঙ্ঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে। সমিতি বা সঙ্ঘ গঠনের ওই স্বাধীনতা বিষয়ে কিছু শর্ত রয়েছে।

হরতাল ও অবরোধ সংবিধান বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অধিকার না হলেও আমাদের এ উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় এ দু’টি কর্মসূচির সূত্রপাত, যা পাকিস্তান শাসনামলে অক্ষুণ্য ছিল এবং বাংলাদেশ অভ্যুদয়-পরবর্তী বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনগণের দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে এ দু’টি কর্মসূচি ব্যবহার হয়ে আসছে।

তাই বর্তমানে হরতাল ও অবরোধ প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে। সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, হরতাল বা অবরোধ অহিংস হলে তা জানমালের কোনো ক্ষতি করে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, হরতাল বা অবরোধ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বাড়াবাড়ি বা হস্তক্ষেপে সহিংস রূপ নেয়।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিশেষত পুলিশকে সচরাচর দেখা যায় সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, হরতাল বা অবরোধ প্রতিরোধে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, রাবার বুলেট, বুলেট প্রভৃতি ব্যবহার করছে। আত্মরক্ষা বা জনসাধারণের জানমাল রক্ষায় এগুলোর যুক্তিসঙ্গত প্রয়োগে সাধারণত জনসাধারণের মধ্যে খুব একটা অস্বস্তি বা অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয় না। তার পরও কথা থাকেজনগণের করের পয়সায় লালিত পুলিশ বাহিনী এবং জনগণের করের পয়সায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে কেনা লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, রাবার বুলেট, বুলেট জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার প্রত্যাশিত কি না।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বিরোধী দলের নেত্রী ছাড়াও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তা ছাড়া তিনি মরহুম রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী। গত ৫ জানুয়ারি তিনি নেতাকর্মী সমভিব্যাহারে তার গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় তাদের প্রতি পিপার স্প্রে নিক্ষেপ অপ্রত্যাশিত, অনভিপ্রেত ও মর্মবেদনাদায়ক। পিপার স্প্রেতে আক্রান্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি প্রয়োগে চোখ-মুখ ফুলে যায়, চোখে সাময়িক অন্ধত্ব নেমে আসে, শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া দেখা দেয়, শ্বাসপ্রশ্বাসে বিঘ্নঘটে, নাক দিয়ে তরল নির্গত হয় এবং মুখ দিয়ে কফ বের হওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়।

পিপার স্প্রেকে প্রাণঘাতী মনে না করা হলেও বিরল ক্ষেত্রে এটিকে মারাত্মক দেখা গেছে এবং কিছু মৃত্যুর ক্ষেত্রে পিপার স্প্রে অন্যতম একটি কারণ হতে পারে, এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পিপার স্প্রের সক্রিয় উপাদান ক্যাপসাইসিন, যা মরিচসহ ক্যাপসিকাম গোত্রের ফলের নির্যাস থেকে প্রাপ্ত রাসায়নিক।

আন্তর্জাতিক কেমিক্যাল অস্ত্র কনভেনশন অনুযায়ী আন্দোলন দমনে এ অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। ১৯৯৩ সালে ৮৮টি দেশের মতো বাংলাদেশও এ কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। দেশের বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতারা ও সুশীল সমাজের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাণঘাতী এ অস্ত্র কিভাবে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করছে তা বোধগম্য নয়।

লসঅ্যাঞ্জেলস টাইমসের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ১০০টি মৃত্যুর প্রধান কারণের মধ্যে পুলিশের পিপার স্প্রে ব্যবহার ছিল অন্যতম। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পিপার স্প্রের প্রতিক্রিয়ায় দেহে ক্যান্সারও হতে পারে। উন্নত বিশ্বে ভয়াবহ এ অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ সিদ্ধান্তের সাথে একমত প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘ।

আমাদের দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিমত পিপার স্প্রে ব্যবহারে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে। শ্বাসকষ্ট (অ্যাজমা) রোগীদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এটি চোখে লাগলে কর্নিয়ার ক্ষতি হতে পারে এবং ক্ষেত্রবিশেষে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কারণ ঘটাতে পারে। তা ছাড়া শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রদাহ তো আছেই। তাই এটির ব্যবহার কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য হতে পারে না।

পাশ্চাত্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে নারীদের শ্লীলতাহানি, যৌন নিপীড়ন ও সম্ভ্রম রক্ষায় এবং কুকুর ও ভাল্লুকের আক্রমণ প্রতিরোধে অপেক্ষাকৃত কম ঘনত্বের পিপার স্প্রের ব্যবহার অনুমোদিত।

৯ জানুয়ারি ২০১২ এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সমাবেশে এবং ১৬ জানুয়ারি ২০১২ বাম দলগুলোর ডাকা হরতালে পুলিশকে দেখা গেল লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামানের সাথে অতিরিক্ত পিপার স্প্রে ব্যবহার করতে। উল্লিখিত তিনটি ঘটনা ছাড়া আমাদের দেশে কোনো সরকার কর্তৃক বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, হরতাল বা অবরোধ প্রতিরোধে পিপার স্প্রে ব্যবহার করা না হলেও ভূমিদস্যুদের পক্ষে চর দখলে তাদের লাঠিয়াল বাহিনীকে শত্রুপক্ষ পর্যুদস্তে পিপার স্প্রের কঠিন রূপ মরিচের গুঁড়া অভিনব পদ্ধতিতে প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। এখনো চরাঞ্চলে ভূমিদস্যুদের শত্রুপক্ষের ওপর মরিচের গুঁড়া প্রয়োগের দু-একটি ঘটনা ফসল রোপণ ও কাটার সময় পরিলক্ষিত হয়।

নদীর বুকে জেগে ওঠা ভূমি বা চর দখলে ভূমিদস্যুদের লাঠিয়াল বাহিনী যে রণকৌশলের মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে পরাস্ত করে তা হলো ভূমি দখল-পূর্ববর্তী তারা লাঠিসোটা, দা, রামদা, কোদাল, খন্তা, বর্শা, কোঁচ, টেঁটা প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্র দ্বারা সজ্জিত হয়ে বাতাসের অনুকূলে অবস্থান গ্রহণ করে। তাদের সাথে আরো থাকে উঁচু মই ও মরিচের গুঁড়ার থলে।

বাতাসের প্রতিকূলে অবস্থানকারী প্রতিপক্ষ যদিও সমভাবে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা সজ্জিত থাকে কিন্তু যখনই তারা সামনে এগোনোর চেষ্টা করে, তখন তাদের ওপর বাতাসের অনুকূল দিকে অবস্থানকারী পক্ষ লম্বালম্বিভাবে দাঁড় করানো মইয়ের অগ্রভাগ থেকে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করতে থাকে। এর ফলে দেখা যায় সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার আগেই মরিচের গুঁড়ার জ্বালাময়ী প্রভাবে প্রতিপক্ষের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে দিগি¦দিক পালিয়ে যাচ্ছে। আর এভাবেই ভূমিদস্যুরা নতুন জেগে ওঠা চর দখলে সফলতা পেয়ে আসছে।

ভূমিদস্যুদের রণকৌশলের সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে সরকার ও সরকারের অনুগত পুলিশ বাহিনী যদি মনে করে থাকে তারাও ভূমিদস্যুদের মরিচের গুঁড়ার তরলরূপ পিপার স্প্রে ব্যবহার করে বিরোধী শিবিরকে পর্যুদস্ত করে দেবেন, তবে তা হবে সুঁইয়ের জায়গায় কুড়াল চালানোর নির্বুদ্ধিতা। আর এ নির্বুদ্ধিতার পরিণতি যে শুভ নয় তা ভেবে সংশ্লিষ্টদের বোধোদয় হলে দেশ ও জাতি নাগরিকদের সুখ-শান্তি এবং দেশের স্থিতিসমৃদ্ধির অন্তরায় সঙ্ঘাত ও জনযুদ্ধের অশুভ প্রভাব থেকে রেহাই পাবে।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

[email protected]

সূত্র: (দৈনিক নয়া দিগন্ত)

এমকে