প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে নতুন বছর শুরুই হয়েছে অস্থিরতা দিয়ে। আড়াই মাস ধরে এর উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিশ্বজুড়ে। রাজপথে চলছে সংঘাত। বিচার বহির্ভুত হত্যা, গুম, খুন প্রতিদিনকার ঘটনা। রাজপথে জ্বলছে আগুন। মরছে মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে কিংবা আগুনে পুড়ে। আড়াই মাসে এ সংখ্যা দুইশ’ ছুই ছুই। কে কখন দগ্ধ হবেন, গুলিতে লাশ হবেন, কিংবা গুম হবেন- এ গ্যারান্টি কারো নেই। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি হারিয়েছে স্বাধীন! বাংলার মানুষ। কে কেড়ে নিলো এই গ্যারান্টি? সে প্রশ্নের উত্তর সবার জানা। কবে ফিরবে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি? তবে এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারছে না। তাহলে কী সীমাহীনভাবে চলবে এই অনিশ্চয়তা? আড়াই মাসে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে কমপক্ষে আড়াই বছর!!! যদিও মৃত্যুর মিছিল এবং সরকারি বাহিনীর আচরণ আড়াই হাজার বছর আগের বর্বরতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণের প্রশ্ন, বাংলাদেশকে কী আড়াইশ’ বছর পিছিয়ে দিতে কোনো পরিকল্পনা হয়েছে? না হলে এভাবে অবৈধ ক্ষমতার প্রয়োগ কেন? শান্তির পথকে কেন বেছে নেয়া হচ্ছে না? রাষ্ট্রবিনাশী ষড়যন্ত্র থেকে সরে আসতে কেন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই? রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভই অস্বাভাবিক আচরণ করে চলছে কেন? রাজনৈতিক ক্ষমতা টেকাতে আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ সবাই যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে। দলীয় আদর্শ কিংবা এক ব্যক্তির ইচ্ছার পুতুলে পরিণত হয়েছে সবকিছু। রাষ্ট্রের প্রধান তিন স্তম্ভ যখন গণবিরোধী হয়ে ওঠে, তখন জনগণের রক্ষাকবজ হিসেবে ভুমিকা রাখে চতুর্থ স্তম্ভ ‘গণমাধ্যম’। আজকের লেখার শিরোনাম সেই ‘গণমাধ্যম’। যে গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। জনগণের রক্ষাকর্তা। রাষ্ট্রের রক্ষাকর্তা।

প্রশ্ন হলো- বর্তমান বাংলাদেশে গণমাধ্যম কি চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে জনগণের রক্ষাকর্তা হয়ে উঠতে পেরেছে। না-কি রাষ্ট্রের প্রথম তিন স্তম্ভের আদলেই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছার পুতুলে পরিণত হয়েছে!!

সাম্প্রতিক তিনটি বিষয়ের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা ও গণমুখি হয়ে ওঠা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রথমত: শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের দুর্নীতির তথ্য খুঁজতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এক বাংলাদেশী যুবকের কারাদন্ড। যদিও এটিকে গণমাধ্যমে জয়কে হত্যাচেষ্টা বলে মিথ্যাচার ছড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক অপরিপক্ক সজীদ ওয়াজেদ জয়ও সেই সংবাদে প্রভাবিত হয়ে তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন নিজের ফেইসবুক পেইজে লিখে। দ্বিতীয়ত: ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়া এবং তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা শেখ হাসিনা ও কিছু গণমাধ্যমের মন্তব্য। তৃতীয়ত: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে একটি অনলাইন পেইজে মিথ্যা প্রচারণা এবং সেটাকে রেফারেন্স হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে অপপ্রচার।

এক. শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের দুর্নীতির তথ্য খুঁজতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী যুবক রিজভি আহমেদ সিজারের ৪২ মাসের কারাদন্ড হয়েছে। ৪ মার্চ বুধবার নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন ফেডারেল আদালতের বিচারক ভিনসেন্ট এল ব্রিকেটি এ দন্ডাদেশ দেন। দুর্নীতির তথ্য পেতে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)’কে ঘুষ দিয়েছিল সিজার। মামলার নথিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ খোঁজার চেষ্টা করেছিল রিজভি আহমেদ সিজার। এজন্য এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্টকে তিনি ঘুষ দিয়েছিলেন। তাদের এ কাজে সহায়তা করেন একজন মার্কিন নাগরিক। যেহেতু সজীব ওয়াজেদ জয় একজন মার্কিন নাগরিক। আর মার্কিন নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য জানতে ঘুষ লেনদেনের জন্যই সিজারকে কারাদণ্ড দেন আদালত।

পরিতাপের বিষয় হলো- বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এই সংবাদকে সাজানো হয় নতুন মশলা দিয়ে। চটকদার হেডলাইন এবং অনলাইনে বিপুল পাঠক ধরতে বিস্ময়কর চিহ্ন দিয়ে সংবাদের শিরোনাম করা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রে জয়কে হত্যাচেষ্টা!’ আর লাখ লাখ পাঠক এই সংবাদটি পড়তে অনলাইনে ক্লিক করেন। জয়-ভক্তরা ফেইসবুকে শেয়ার দিয়ে, কমেন্ট করে প্রিয় নেতার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত হয়ে যান। পরে দেখা গেলো- স্বয়ং সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেই ফেইসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিলেন ‘তাকে বিএনপি হত্যা-চেষ্টা করেছে!’ কি ফানি জাতি, ফানি দেশ আর ফানি গণমাধ্যম। সত্যি কথা বলতে কি দৃশ্যত কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা এভাবে মিথ্যার ফানুস দিয়ে চটকদার শিরোনাম করলো কেবল পাঠক হিট বাড়ানোর জন্য। কিন্তু পেছনের শক্তি এবং গণমাধ্যমে কিছু দালাল শ্রেনীর মানুষ এমন মিথ্যার ফানুস ছড়াতে সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছেন। জয়কে হত্যা-চেষ্টার অভিযোগ এনেঅনেক মানুষের জীবনকে নিরাপত্তাহীন করে দেয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্রে কারাদণ্ড প্রাপ্ত বাংলাদেশী যুবকের ওপর সংবাদ সম্মেলনেই হামলা হয়েছে গত ১৪ মার্চ। স্থানীয় আওয়ামী লীগ তার ওপর হামলা চালায়। এর আগে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য হস্তান্তর করেন সিজার। এতে তিনি বলেন, ‘নিউ ইয়র্ক ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও আমাকে নিয়ে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এসব তথ্যের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবতার কোন মিল নেই। আদালতের মূল রায়কে পাশ কাটিয়ে কিছু উদ্দেশ্যমূলক অসত্য তথ্য জুড়ে দেয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে জয় বা তার পরিবারের কাউকে অপহরণ কিংবা তাদের কোনো ক্ষতি করার অথবা ভীতি প্রদর্শনের কথা আদালতের রায় কিংবা মামলার কোথাও উল্লেখ নেই। অথচ কোনো কোনো সংবাদপত্র আমার স্বীকারোক্তি হিসাবে এ ধরণের কথা প্রকাশ করেছে, যা দু:খজনক।’

প্রকৃতপক্ষেই মিথ্যার ফানুস দিয়ে বাংলাদেশে চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে গোয়েবলসের সহযোগীর ভুমিকা পালন করলো কিছু মিডিয়া।

দুই. গত ১০ মার্চ ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে ধরে নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সবার ধারণা ছিল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মতোই তাকে দুই-একদিন পর র‌্যাব কিংবা ডিবি থানায় হস্তান্তর করবে। অসুস্থ অবস্থায় আদালতে হাজির করা হবে। কিন্তু এ পর্যন্ত সালাহউদ্দিন আহমেদের কোনো হদিস মেলেনি। তাকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করছে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অবাক হওয়ার বিষয় হলো- সরকারি পক্ষ সুশীল রাজনীতিক ও সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে অনেকটা ফান করছে।

প্রথমত: নিখোঁজ হওয়ার পর ১০ মার্চ রাতেই সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী গুলশান ও উত্তরা থানায় জিডি করতে গেলেন। পুলিশ জিডি নিতে অস্বীকৃতি জানালেন। স্বামীকে ফেরত চেয়ে পরের দিন তিনি হাইকোর্টে রিট করলেন। আদালত সালাহউদ্দিন আহমেদকে খুঁজতে সরকারকে নির্দেশ দিলেন। ১৫ মার্চ এসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বললো তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফানি বিষয় হলো- আদালতে এই প্রতিবেদন দেয়ার আগেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বরাতে 'দৈনিক ইত্তেফাক'সহ কয়েকটি গণমাধ্যম সালাহউদ্দিন আহমেদকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করলো। সবচেয়ে বড় ফান হলো- রাষ্ট্রের একজন সাবেক আমলা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং একটি দলের যুগ্ম মহাসচিব ও জোটের মুখপাত্র যখন গুম, তখন গণমাধ্যমে তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করলো। দৈনিক ইত্তেফাকে রসিয়ে লিখলো- ‘সালাহউদ্দিনের সঙ্গে একটি মেয়ে ছিল। তাকে খুঁজছে পুলিশ!’ বিচিত্র এই দেশ। যেখানে একজন নাগরিককে খুঁজে বের করতে, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে চাপ দেবে গণমাধ্যম; সেখানে খুনী বাহিনীর সহযোগীর ভুমিকায় গণমাধ্যম। গণবিরোধী অবস্থানে কিছু গণমাধ্যম।

সালাহউদ্দিন আহমেদ একটি দলের নেতা হলেও তাঁর যে বাঁচার অধিকার আছে কোনো গণমাধ্যম তা বলছে না। কিংবা সরকারের ভয়ে লিখতে পারছে না। তিনি বাংলাদেশের একজন নাগরিক। সাধারণ রাজনীতিকের চেয়ে তাঁর কিছু ভিন্ন পরিচয় আছে। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে মাস্টার্স করেছেন। একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবে ১৯৮৮ সালে বিসিএস দিয়ে তিনি ম্যাজিস্ট্রেট হন। সেটা ছিল এরশাদের শাসনামল। কোনো রাজনৈতিক সুযোগ নয়, মেধার জোরে তিনি বিসিএস ক্যাডার হন। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১-১৯৯৫ সময়ে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস-এর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন এবং কক্সবাজার জেলা বিএনপির কনভেনার হন। ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জোট সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির কাউন্সিলে সালাহউদ্দিন আহমেদ জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। এরপর রাজনৈতিক দুর্যোগে বিএনপি চেয়ারপার্সনের নির্দেশে তিনি দুইবার দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন।

এখন প্রশ্ন হলো- সালাহউদ্দিন আহমেদ একজন মেধাবী রাজনীতিক হিসেবে সর্বজনবিদিত। এরপরও তার জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে কেন? কি তার অপরাধ? দৃশ্যত তার একমাত্র অপরাধ হলো- তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে আস্থার সাথে কাজ করেছেন। কি কাজ করেছেন? গণমাধ্যমে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের অবস্থান তুলে ধরে বিবৃতি দিয়েছেন। আরো স্পষ্ট করে বললে-আন্দোলনের নির্দেশনা এবং দলের অবস্থান সম্বলিত বিবৃতিতে তার স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এটা সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রধান অপরাধ। এই অপরাধে আজ ছয়দিন ধরে তিনি নিখোঁজ। কিছু গণমাধ্যম এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বর্বর ও ফানি বক্তব্যের জের ধরে ইতোমধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সালাউদ্দিন আহমেদ কী বিএনপির আরেক জনিপ্রয় নেতা ইলিয়াস আলীর ভাগ্যবরণ করতে যাচ্ছে? অবিলম্বে জনমনে বিরাজমান এমন আশঙ্কার নিরসন করা হোক। প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে শেখ হাসিনা গত ১৪ মার্চ যে বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে পাঁচার করে ফেলেছেন। কিছুদিন আগে খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয় থেকে আট বস্তা ময়লার সাথে সালাহ উদ্দিনকে পাঁচার করা হয়ে থাকতে পারে।’ কেবল প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার জন্য নয়, একজন নাগরিক হিসেবে, একটি দলের প্রধান হিসেবে, সর্বোপরি একজন মা হিসেবে, শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে এসব ফানি মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিজেকে স্বাভাবিক প্রমাণ করা জরুরী। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো যদি তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় পাচার হয়ে যান, ছয়দিনে কোনো হদিস না মেলে, মা হিসেবে শেখ হাসিনা ঠিক থাকতে পারবেন? পারবেন না। তাই দ্রুত সালাহউদ্দিনকে ফিরিয়ে দেয়া হোক। গুমের সহযোগী না হয়ে গণমাধ্যমকেও স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টির জন্য লড়াই করতে হবে। সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ইলিয়াস আলী সহ সব নিখোঁজ নাগরিককে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য কাজ করবে গণমাধ্যম, এই প্রত্যাশা রাখি।

তিন. সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যম বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে মিথ্যার ফানুস দিয়ে অপপ্রচার শুরু করেছে। তাদের তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে লন্ডন থেকে প্রকাশিত একটি অনলাইন পেইজকে। নাম বিডিপ্যানারোমা। এটা যে একটি প্রোপাগান্ডা মেশিন, নামেই তার পরিচয়। একটি ভুল ঠিকানা ব্যবহার করে অনবরত মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে এই সাইটটি। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের যুগে মানুষ যেহেতু অনলাইনে সংবাদ আদান-প্রদানকেই বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে। এর সুযোগ নিচ্ছে এই প্রতিক্রিয়াশীল চক্র। বাংলাদেশী খুনী চক্রের সহযোগী এরা। বিরামহীন মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে। টার্গেট তারেক রহমান। যুক্তরাজ্যের হোম অফিসকে মিথ্যা রেফারেন্স দিয়েও গল্প লিখছে। যতটুকু জানা যায়, যুক্তরাজ্যের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করলেও এটির এডমিন যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশ থেকেও কিছু গল্প আপলোড করা হয়।

তথ্য প্রযুক্তির যুগে যে কোনো গণমাধ্যম যে কাউকে নিয়ে লিখতেই পারে। তবে তা বাস্তব সত্য কিংবা এর কাছাকাছিও যখন না হয়, তখন পুরো সাংবাদিকতা জগৎ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। একই গল্পে নানাবিধ প্রশ্নবিদ্ধ তথ্য প্রচার করা হয় প্যানারোমা সাইটে। আর এই সাইটের মিথ্যার ফানুসের হেডলাইন কপি করে বাংলানিউজ ও জনকন্ঠ সহ কয়েকটি বাংলাদেশী গণমাধ্যম প্যানারোমাকে ‘লন্ডনভিত্তিক অনলাইন নিউজপেপার’ হিসেবে পরিচয় উল্লেখ করে।

এভাবে মিথ্যা অপপ্রচার বাংলাদেশী গণমাধ্যমের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের পেশার জন্য মানহানিকর। একটি মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে হয়তো কিছু পাঠক পাওয়া যায়, কিংবা অবৈধ সরকারের কিছু সুবিধা নেয়া যায়; কিন্তু পুরো সাংবাদিকতা পেশাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করাটা আদৌ সমীচীন কি-না এটা ভেবে দেখা জরুরী। গুমের সহযোগী হওয়া কিংবা মিথ্যার ফানুসের অপপ্রচার গণমাধ্যমের জন্য সুখকর নয়। এই উদাহরণ ভবিষ্যতে আরো কুৎসিত রূপ ধারণ করতে পারে। যা গণমাধ্যম, সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকদের মর্যাদাকে মাটিতে মিশিয়ে দিবে। তাই আর ‘গণমাধ্যম তুমি কার’, ‘জনগণ না ফ্যাসিবাদের/প্রোপাগান্ডার?’ এমন প্রশ্নের সুযোগ না রেখে গণমাধ্যমকে গণমুখি হওয়ার এখনই সময়। পেশার মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরী। তাই আসুন, প্রোপাগান্ডা মেশিন নয়; প্রকৃত গণমাধ্যম গড়ে তুলি।

লেখক: যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক ও গবেষক।

(মতামত একান্তই লেখকের নিজের, এটা টাইমনিউজবিডির নিজস্ব পলিসি বা নীতিমালার অন্তর্ভূক্ত নয়)