নবম জাতীয় সংসদের সংসদীয় কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেড়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ নামের এক প্রতিবেদনে নারীদের অংশগ্রহণের এই বিষয়টি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে টিআইবি। অষ্টম জাতীয় সংসদের কার্যকলাপের সাথে নবম জাতীয় সংসদের কার্যকলাপ তুলনা করা হয়েছে।
মে ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সময়ে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদের প্রথম থেকে সর্বশেষ ১৯টি অধিবেশনের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ শেষে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে টিআইবি।
প্রতিবেদনে সংসদীয় কার্যক্রমে নারী সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেড়ে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নারী সংসদ সদস্যদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোট কার্যদিবসের তিন-চতুর্থাংশের বেশি সময় উপস্থিত প্রায় ৪৫.৭% নারী সদস্য। এর মধ্যে আবার সরকারী দলের নারী সদস্যের উপস্থিতি আরও বেশি প্রায় ৫২ শতাংশ।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদ বর্জনের কারণে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র নারী সকল সদস্যের উপস্থিতি ছিল মোট কার্যদিবসের এক-চতুর্থাংশ।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্বে ২১ জন নারী সদস্য ৬০টি প্রশ্ন করতে প্রায় ৫৪ মিনিট সময় ব্যয় করেন। যা এই পর্বে প্রশ্ন করার মোট সময়ের ১২ শতাংশ। প্রশ্নের বিষয়বস্তুর মধ্যে অবকাঠামো, প্রশাসন ও নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, নারী উন্নয়ন ইত্যাদি উল্লেখ্যযোগ্য।
মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর পর্বেও নারীদের ব্যাপক অংশ গ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। মোট ৪৯ জন নারী সংসদ সদস্য ১০৫০ টি প্রশ্ন উত্থাপন করতে প্রায় ১০ ঘন্‌টা ৩৪ মিনিট সময় নিয়েছেন যা প্রশ্ন করায় ব্যয়িত সময়ের ১৩.৯ শতাংশ। সর্বোচ্চ প্রশ্ন করা হয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রায় ৯৬টি প্রশ্ন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রশ্ন করা হয় স্থানীয় সরকার ও মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৬৫টি এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রশ্ন করা হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৬২টি।
সংবিধানের ৭১ বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ ৫৬টি গৃহীত নোটিসের উপর অনুষ্ঠিত আলোচনাতেও নারী সংসদ সদস্যরা আশানুরুপ অংশ নিয়েছে। এরমধ্যে ৭টি করে স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর।
৭১-ক বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ ৫৮২টি নোটিস আলোচিত হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬১ টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয় আলোচিত হয়।
আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে নারী সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ
আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে সংসদে সংশ্লিষ্ট আইন উত্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা, বিল উত্থাপন ও পাসের অনুমতির অংশগ্রহণ করেছেন নারী সদস্যরা।
এর বাইরেও কোনো আইন উত্থাপনে আপত্তি এবং এর ওপর যাচাই বাছাই কিংবা সংশোধনে প্রস্তাব উত্থাপনে ১০ জন নারী সদস্য প্রায় ২ ঘন্টা ৪২ মিনিট অংশ নিয়েছেন।
টিআইবি পার্লামেন্ট ওয়াচ’ নামক ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করে যে, বাজেটের বিভিন্ন কার্যক্রমের আলোচনায় মোট ৬৭ জন সদস্য প্রায় ৪৩ ঘন্টা ৫৫ মিনিট অংশ নিয়েছেন নারী সদস্যরা। এর মধ্যে বিরোধী দলের ৮ জন নারী সদস্য। সরাসরি নির্বাচিত ১৯ জন প্রধান বিরোধী দলের এবং সংরক্ষিত আসনের ৪৮ জন সদস্যের মধ্যে ৫ জন প্রধান বিরোধী দলের সদস্য।
উত্থাপিত ও আলোচিত মোট ১২৮টি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের মধ্যে ৩০টি প্রস্তাবের আলোচনাতেও  সরাসরি আসনে নির্বাচিত ৩ জন সদস্যসহ মোট ১৭ জন নারী সদস্য অংশ নেন। অনির্ধারিত আলোচনায় ২১ জন সদস্য এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় মোট ৬৩ জন সদস্য বক্তব্য রাখার সুযোগ পান যাদের মধ্যে ১৬ জন সরাসরি নির্বাচিত। সংরক্ষিত আসনের ৪৭ জন সদস্যের মধ্যে ৫ জন প্রধান বিরোধী দলের সদস্য।
৪৮টি স্থায়ী কমিটিতে মোট ১২ জন নারী সদস্য রয়েছে। যাদের মধ্যে ৩ জন ছিলেন প্রধান বিরোধী দলের সদস্য। ৬টি কমিটির সভাপতি হিসেবে ৪ জন নারী সদস্য মনোনীত হয়েছেন। নবম সংসদের সপ্তদশ অধিবেশন থেকে সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য বাংলাদেশের সর্বপ্রথমনারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত মন্ত্রণালয় ছাড়াও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে নারী সদস্যদের ওপর।
[b]ঢাকা, জেইউ, ২১ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]