আমার মা আমার জীবন আর জীবন আমার মা। মা আমার স্বপ্ন, মা আমার স্বপ্নের পৃথিবী, মা আমার স্বপ্ন গড়ার কারিগর। মা একান্নবর্তী পরিবারে থেকে অনেক কষ্ট করেছ আমার জন্য। মা এখনও তোমার চোখের জন মুছে দিয়ে হাসি ফুটাতে পারিনি কিন্তু তারপরও বলি মা তোমার নড়ী ছেঁড়ার ধন তোমায় অনেক বেশি ভালোবাসি, মা তোমায় অনেক মিস করি। আর যারা এখনও বলেননি আজই এই মুহূর্তে মাকে জড়িয়ে ধরে বলেন মা আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি।

তবে প্রিয় পাঠক নারী দিবসের এই আলোচনায় বিভিন্ন ধর্মে নারীর মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা করবো। নারী দিবস এখন উৎসব। সেটি কনসার্টে হোক, তীব্র তীক্ষ্ণ শব্দের লেখনীতে হোক, টেলিভিশনে সেজেগুজে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে হোক, সর্বত্রই বাণিজ্য। বাণিজ্যে লক্ষ্ণী। বাহ লক্ষ্ণী! সেও যে নারী। আমি বাণিজ্যের বিরোধী নই। বহু দিবসের বিরোধীও নই। বিশেষত যে দিবসটির ইতিহাস- নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস।

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলেছিল সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন।

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন।

১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় ১৯১১ সাল থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে।যদিও এটি ছিল আন্তর্জাতিক কর্মী নারী দিবস কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশেই দিবসটি তার রাজনৈতিক চেহারা পাল্টে এখন নারীর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও নারীর অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে অনেকটা ভ্যালেন্টাইনস ডে ও মাদার’স ডে’র মিশেলে নারী দিবস পালন করছে।

বাংলা সাহিত্যে নারী:

সংস্কৃত নৃ শব্দটি থেকে নারী শব্দটির উৎপত্তি (নৃ+ঈ=নারী)। পশ্চিমা বিশ্বের এই নারীর দিকে যদি নজর দেই, নারীর জীবনের সকল সিদ্ধান্তে নিজ মত প্রয়োগের অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত। এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।যে অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে।

কিন্তু হুমায়ুন আজাদ নিজেকে একজন নারী

অধিকার কর্মী হিসাবে মনে করত !

.আর এ নারীদের নিয়ে তার দুটি উক্তি

দেখুনঃ - এক একটি উর্বশীকে আমি মেপে মেপে

দেখি ,মাঝারী স্তন আমার পছন্দ, সরু

মাংসল উরু আমার পছন্দ ,চোখের

সামনে আমার মেয়ে বড় হচ্ছে ।কিন্তু

সামাজিক নিয়মের বেড়াজালে

আমার হাত-পা বাঁধা !!!

.আরেকটি উক্তিঃ

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের চুইংগামের

মতো চাবাতে ইচ্ছে করে !

তসলিমা নাসরিনের লেখা কবিতায়ও: যে নারী নিজে একজন নারী হয়ে নিজেকে তাঁর লেখার মাধ্যমে ছোটো করছে।

শরীরের এই হাল, শরীরে গ্রীষ্মকাল,

স্নানের জল আছে? ও যুবক স্নানের জল আছে তো?

তোর একার জলে না হলে যুবকের দল কাছে তো?  (কাঁপন ১৭ তাসলিমা নাসরিন)

এছাড়া তাসলিমা তাসরিনের কবিতা, উপন্যাস, হুমায়ুন আজাদের নারী উপন্যাস সহ আরো অনেক কবি সাহিত্যিক রয়েছেন, যাদের কবিতা সাহিত্য যা অশ্লীলতার মাত্রায় পর্যবসিত হয়েছে। সাহিত্যে যৌনতার উপস্থিতি সমাজের বিদ্যমান দ্বন্দ্বকে রুপায়ন করার জন্য প্রয়োজন হবে। তবে এই রুপায়ন যেন যৌন সাহিত্য বা পর্ণো সাহিত্যের রুপান্তরিত না হয়। তথাকথিত নাস্তিক, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, মানবতাবাদী আর নারীবাদীরা ও নারী অধিকারের কথা বলে নারীকে হেয় আর অশ্লীল ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

অশ্লীলতা শুধু বিষয়বস্তুতে নয়, প্রকাশভঙ্গীতেও। অশ্লীলতা আকারে-ইঙ্গিতে। বিষয়বস্তুর প্রাথমিক স্তর বিন্যাসে। ইসলামী সাহিত্যের কোন ক্ষেত্রে কোন পর্যায়েও অশ্লীলতার প্রতি সমর্থন নেই। অশ্লীলতা হচ্ছে একটা বিকৃত রুচি। আর এই বিকৃতি রুচির সাথে ইসলামী সাহিত্যিকের হৃদ্যতা কেমন করে বাড়তে পারে? “বুঈস্তু লিউতাম্মিমা মাকা-রিমাল আখলাক” আমাদের নবীকে যেখানে আমাদের চরিত্রে নৈতিক দিকগুলোকে আরো বেশি শালীন, আরো বেশি রুচিশীল ও আরো বেশি পূর্ণতা দান করার জন্য পাঠানো হয়েছিল সেখানে আমরা কেমন করে অশালীন পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব নিতে পারি।

কুরআনে মুমিনের রুচিবোধ সম্পর্কে বলা হয়েছে: “ওয়া ইযা মাররু বিল লাগবি মাররু কিরা-মা”- যখন তারার কোন বাজে বা অশালীন কাজের কাছ দিয়ে যায়, তখন কোন আগ্রহ প্রকাশ না করে একান্ত অনীহা দেখিয়ে ভদ্রভাবে সে স্থান অতিক্রম করে। রসিয়ে রসিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে এটাকে বর্ণনা করা কোন মুসলিম সাহিত্যিকের কাজ হতে পারে না।

সাহিত্যে যৌনতা প্রসঙ্গে এই কথাই বলা যায়। স্বামী স্ত্রীর গোপন বিষয় তৃতীয় ব্যক্তির সামনে বলা নবী করিম (সা.) নিষিদ্ধ করেছেন। আসলে এটা সাহিত্যের বিষয় নয়। সাহিত্য ক্ষেত্রে একে টেনে এনে সাহিত্যের কোন উন্নতি সাধন করা হয়নি এবং এ ধরনের কোন সাহিত্যের কল্যাণকামী চরিত্র থাকতে পারে না। এ ধরনের সাহিত্য চরিত্র নয়, চরিত্র নাশ ও চরিত্র ধ্বংসই করতে পারে শুধু। কাজেই ইসলামী সাহিত্যের সাথে এর দূরবর্তী কোন সম্পর্কও থাকতে পারে না।

অশ্লীলতা ও যৌন প্রসঙ্গকে যারা সাহিত্যের আওতাভুক্ত করেন জীবন সম্পর্কে আসলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গীও আলাদা। মানুষকে ও মানুষের জীবনকে তারা যে দৃষ্টিতে বিচার করেন ইসলামের সাথে তার বিরোধ সুস্পষ্ট। ফ্রয়েডের দৃষ্টিতে মানুষকে তারা দেখেন একটি যৌন জীব হিসাবে। মানুষ ও পশুর মধ্যে এেেত্র তারা কোন পার্থক্যই করেন না। আর জীবনকে তারা শুধু উপভোগ করার কথাই চিন্তা করেন। জীবন ও যৌবন তাদের কাছে একটি সম্পদ।

এজন্য দুনিয়ায় যতদিন থাকা যায় ততদিন এই সম্পদ দু’টো উপভোগ করার জন্য তারা হাজারো পন্থা উদ্ভাবন করেছেন। ধর্ম তাদের জীবন চিন্তায় পঙ্গুত্ব বরণ করার এবং আখিরাতের জীবন সম্পর্কে সংশয় জাগার পরই তারা এই নতুন ভোগবাদী জীবন দর্শন রচনা করেছেন। এই জীবন দর্শনের সাথে ইসলামের বিরোধ অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

ইসলাম জীবন ও যৌবনকে একটি মূল্যবান সম্পদ মনে করে এজন্য যে, এটি আল্লাহর একটি আমানত। এর মধ্যে বেঁচে থাকার ও বংশ রার একটা তাগিদ রয়েছে। কিন্তু যে তাগিদটি এর সমগ্র সত্তাকে ঘিরে রেখেছে সেটি হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্যে একে পুরোপুরি সোপর্দ করা। এমনকি বেঁচে থাকার ও বংশ রার তাগিদটিও এই দ্বিতীয় তাগিদটির আওতাধীনে থাকবে। কাজেই এখানে পাশবিক জীবন উপভোগের কোনো অবকাশ নেই। জীবন ও যৌবনের মানবিক ব্যবহারকেই এখানে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। সমগ্র মানব জাতির জন্য জীবন ও যৌবনের এই ব্যবহারকেই ইসলাম কল্যাণকর গণ্য করে।

বিজ্ঞাপনে নারী:

গ্রামীন ফোনের বিভিন্ন বিলবোর্ডে এবং বিভিন্ন ওয়েব সাইটে "চলো বহুদূর" লেখা এ বিজ্ঞাপনটি অনেকেরই নজরে পড়ে। এ জাতীয় গ্রামীন ফোনের আরো কতগুলো বিজ্ঞাপন থাকেলেও এটি বেশ অশ্লীল। "চলো বহুদূর" লেখা একটি বিজ্ঞাপনে ছোট শিশুর ছবি দেয়া হয়েছে যা দেখতে যেমন সুন্দর তেমনই তার মধ্যে কোন অশ্লীলতা নেই। কিন্তু এখানে তারা যে ছবি দিয়েছে তা সমাজকে দূষিত করার জন্য ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। আদিম যুগের লোকেরা নাকি গাছের লতাপাতা পরিধান করতো। কুল বডি স্প্রের বিলবোর্ডে মনে হয় এমন আদিম কিছু লোককে মডেল হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যাদের গায়ে জামা কাপড় নেই। লজ্জাস্থান গাছের লতাপাতা দিয়ে ঢাকা। এ ছবিটি কী ধর্ষনের উষ্কানিমূলক নয়!!!

শাড়ির বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে একটি কোম্পানি ব্যবহার করলো এ ছবিটি-

এসব বিজ্ঞাপন ইচ্ছা না থাকলেও দেখতে হচ্ছে আমাদেরকে। কামুক প্রকৃতির লোকেরা এতে আশক্ত হয়ে পড়ছে ধর্ষণের প্রতি। আর আমাদের মানবাধিকার সংগঠনের লোকেরা মানব বন্ধন করছে ধর্ষণের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাদের চোখের সামনেই এসব অশ্লীল বিলবোর্ড। এগুলোর বিরুদ্ধে বলার কেউ নেই! এসব অশ্লীল বিলবোর্ডের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের জন্য সচেতন ও বুদ্ধিজীবি মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। (শালীনতা যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য কোন কোন ছবির কিছু অংশ ঢেকে দেয়া হয়েছে)|

শিল্প বিপ্লবোত্তরকালে পণ্যসামগ্রীর উৎপাদন বেড়েছে প্রচুর। বাজারে বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী। এগুলো বাজারজাত করতে প্রচার দরকার। ব্যবসায়ী সমাজ পণ্য সামগ্রীর বহুল প্রচার আকর্ষণীয় প্রচারের জন্য বেছে নিল নারী সমাজকে। বিজ্ঞাপনের নানা টেকনিক পণ্যসামগ্রীর কদর বাড়াচ্ছে। নারীদের আকর্ষণীয় করে তুলছে তা বোঝা কষ্টকর। এ প্রচার ব্যবসায় নারী দেহের সৌন্দর্যকে পুঁজি করে নানাভাবে ভোক্তাদের পণ্যের প্রতি আকর্ষিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পণ্যের প্রতিযোগিতায় বাজার বিজ্ঞাপনের জগতেও নারী সৌন্দর্য প্রদর্শনীর প্রতিযোগিতা ক্রমশ বেড়ে চলছে। বিজ্ঞাপনের ছদ্মাবরণে নারী সৌন্দর্য প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা একটি বিপদসীমায় এসে উপনীত হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোন নতুন ব্রান্ডের জিনিস প্রচলন করার বেলায় দেখা যায় প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত ব্রান্ড আনুগত্য কমিয়ে এনে নিজস্ব ব্রান্ডের প্রতি ক্রেতাকে আগ্রহী করে তোলা, এজন্য তারা হালকা বিজ্ঞাপন তৈরি করে থাকে যার মূলে থাকে প্রায়ই নারী সৌন্দর্য। ব্যবসায়ী মহল পুনঃ পুনঃ নারীকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে উদ্দীপনা সৃষ্টির পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।

এটি এক দৃঢ় সত্য যে, মানুষের আচরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গী সমাজ ও সমাজের বিভিন্ন অংশের সাথে সম্পর্কিত। মানুষ তার আবহমান কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ধাক্কায় ভুলে যেতে বসেছে। জীবনের পরিধি বাড়ার সাথে এর নিজস্ব সংস্কৃতির বন্ধনকে অটুট রাখার কোন শক্তি না থাকার কারণে পশ্চিমা ও ভিন্ন সংস্কৃতি আমাদের সমাজের মানুষকে তার দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ও আচরণ বিন্যাসে প্রভাবিত করছে। আর এ ক্ষেত্রে নারীকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপন প্রক্রিয়া দিন দিন খোলাখুলি হতে চলছে। আধুনিক ব্যবসায়ী সমাজ পণ্য বিক্রয় বাজার তৈরি করার জন্য ফ্রয়ডীয় তত্ত্ব অনুসরণ করে সহজাত প্রবৃত্তির স্থলে মৌলিক তাড়না সৃষ্টির উপর গুরুত্ব প্রদান করছে। এই তাড়না বৃদ্ধির জন্য তারা বিজ্ঞাপনে নারীর সৌন্দর্য ও যৌনতাকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করছে।

নারী সৌন্দর্য পণ্য বাজারজাত করার জন্য