২৩৯ জন ক্রু ও যাত্রী নিয়ে হারিয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ার বিমান নিয়ে এখন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার দুদিন পেরিয়ে গেলেও সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিমানটির কোন হদিস পাওয়া যায়নি। কী হয়েছে বিমানটির? যাত্রীদে ভাগ্যে কী ঘটেছে? এটি কী সন্ত্রাসী হামলা বা হাইজ্যাকের ঘটনা? এরকম নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে। এরকমই দশটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে বিমানটিকে ঘিরে।
প্রসঙ্গত, 'এমএইচ-৩৭০' নামের মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানটি ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ে উড়ে যাচ্ছিল। শনিবার ভোরে বিমানটি কুয়ালালামপুর থেকে উড্ডয়নের মাত্র ৪১ মিনিট পরে ভিয়েতনাম উপকূলের কাছে দক্ষিণ চীন সাগরে হারিয়ে যায়। বিমানটি এ সময় ৩৫ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় বিমানটি। তারপর থেকেই বিমানটি উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বিমানটির অবস্থান বা কী ঘটেছে তা-ই উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
বিমানটি উদ্ধারে মালয়েশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ডসহ ১১টি দেশ যৌথভাবে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু কোন খোঁজ মেলেনি বিমানের। এমনি অবস্থায় সবার মনেই কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রশ্নগুলোর উত্তর কারো জানা নেই। কিন্তু চলুন জেনে নেয়া যাক প্রশ্নগুলো কী? হয়তোবা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একদিন জানা যাবে; সেটা হয়তো বা অদূর ভবিষ্যতে বা দূর ভবিষ্যতে। না কি কোনদিনই জানা যাবে না মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এই 'এমএইচ-৩৭০' বিমানটি সম্পর্কে?
[b]প্রশ্ন-১: বিমানটি বিপদ সংকেত পাঠায়নি কেন?[/b]
তদন্তকারী দল ও বিশেষজ্ঞদেরকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে সেটি হচ্ছে, কোন দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে কেন বিপদ সংকেত পাঠাননি পাইলটরা? বিমানের প্রধান পাইলট বা সহকারী পাইলট কেউই এই কাজটি করেননি। বিমানটি ৩৫ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। কোন সমস্যা হয়ে থাকলেও তা পতিত হওয়ার আগে বিপদ সংকেত পাঠানোর মতো যথেষ্ট সময় ছিল পাইলটদের হাতে। উড্ডয়ন বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ সংকেত না পাঠানোকে 'আশ্চর্যজনক' বলে অভিহিত করেছেন। বোমা হামলারও কোন আলামত পাওয়া যায়নি।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201403/1394436960.jpg[/img]
[b]প্রশ্ন-২: চুরি করা পাসপোর্ট নিয়ে ২ যাত্রী বিমানে চড়লো কীভাবে? [/b]
এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিমানটির ২২৭ জন যাত্রীর মধ্যে অন্তত ২ জন যাত্রী ছিলেন যারা চুরি করা পাসপোর্ট বহন করছিলেন। চুরি যাওয়া ওই পাসপোর্ট দুটির প্রকৃত মালিক হচ্ছেন অস্ট্রিয়া ও ইতালির দুই নাগরিক। ধারণা করা হয়েছিল ইতালির ৩৭ বছর বয়সী লুইগি মারালদি নামের এক ব্যক্তি ওই বিমানে রয়েছেন। কিন্তু পরে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি থাইল্যান্ডে সুস্থ অবস্থায় অবস্থান করছেন। তাহলে তার পাসপোর্ট কে নিয়ে গেল? অন্যদিকে, ৩০ বছর বয়সী অস্ট্রিয়ার নাগরিক ক্রিস্টিয়ান কোজেল তার নিজের দেশেই রয়েছেন। কিন্তু তার পাসপোর্ট নিয়ে এক ব্যক্তি ওই বিমানে অবস্থান করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে ওই দুই ব্যক্তির পাসপোর্ট গত বছর থাইল্যান্ডে চুরি হয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201403/1394436965.jpg[/img]
[b]প্রশ্ন-৩: বিমান নিখোঁজের সাথে সন্ত্রাসবাদের কোন সম্পর্ক আছে কি না?[/b]
বিমানটিতে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে কি না তাও একটি বড় ধরনের প্রশ্ন। বিমানটিতে ১৪টি দেশের নাগরিক ছিলেন। বিশ্লেষকরা সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এর মধ্যে যেটি সবচেয়ে বড় সন্দেহ সেটি হচ্ছে, চীনের নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিমানটি ধ্বংস করা হয়ে থাকতে পারে। কেননা বিমানটিতে অন্তত ১৫০ জন চীনা নাগরিক ছিলেন। চীনের দুটি স্বাধীনতাকামী অঞ্চলকে এজন্য সন্দেহ করা হচ্ছে। একটি হচ্ছে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মুসলিম অধ্যুষিত জিনজিয়াং প্রদেশ। দেশটির মুসলিমরা স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। জিনজিয়াংয়ে প্রায়ই চীনা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাত হয়ে থাকে। কিছুদিন আগেও চীনের ইউনান প্রদেশের একটি রেল স্টেশনে হামলার জন্য জিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলিমদের দায়ী করা হয়। এ ছাড়া, চীনের তিব্বত এলাকার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দালাইলামার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছেন তিব্বতিরা।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201403/1394436972.jpg[/img]
[b]প্রশ্ন-৪: বিমানটির কোন ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি কেন?[/b]
বিমানটি যদি ধ্বংসই হয়ে থাকবে তাহলে তার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যাচ্ছে না কেন? এটি একটি বড় প্রশ্ন। দুর্ঘটনার প্রায় দুদিন পেরিয়ে গেছে। ১১টি দেশের কয়েক ডজন উদ্ধারকারী জাহাজ ও বিমান সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কোন ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায় কি না। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201403/1394436976.jpg[/img]
[b]প্রশ্ন-৫: নিখোঁজ বিমানের যাত্রীর মোবাইলে রিং হয় কীভাবে?[/b]
আরেকটি অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে- হারিয়ে যাওয়া বিমানটির একজন যাত্রীর মোবাইলে রিং হয়েছে। চীনা ওই যাত্রীর এক আত্মীয় ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। তবে, ওপাশ থেকে কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
[b]প্রশ্ন-৬: মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন[/b]
বিমানটির মালিক মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাত ২টা ৪০ মিনিটে। বিমানের গন্তব্যস্থল বেইজিংয়ের বিমানবন্দরে যাত্রীদের আত্মীয়-স্বজন অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বিমান সময়মতো না পৌঁছানোয় তারা অধীর হয়ে উঠেন। কিন্তু মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোন বার্তা তাদেরকে দেয়া হয়নি। বরং তারা সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারেন যে, বিমানটি নিখোঁজ রয়েছে। আর এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর নিখোঁজ হওয়ার খবর জানায়। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের এ রকম উদাসীনতা নিয়েও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
[b]প্রশ্ন-৭: বিমানটি কী মালয়েশিয়ায় ফিরে আসার চেষ্টা করছিল?[/b]
বিমানটি কী মালয়েশিয়ায় ফিরে আসার চেষ্টা করেছিল কি না তাও খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। হারিয়ে যাওয়ার আগে তা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাডারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।
[b]প্রশ্ন-৮: বিমানের পাইলটদের কাছ থেকে ফিসফিসানির শব্দ শোনা গেছে এবং ফ্লাইট পরিচালনায় হস্তক্ষেপের চেষ্টার আশঙ্কা?[/b]
হারিয়ে যাওয়া বিমানটির পাইলটদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন একই কোম্পানির আরেকটি বিমানের পাইলট। ওই এমএইচ-৩৭০ বিমানটি কুয়ালালামপুর থেকে জাপানে উড়ে যাচ্ছিল। এটি হারিয়ে যাওয়া এমএইচ-৩৭০ বিমানটির কাছাকাছি আকাশেই ছিল। জাপানগামী বিমানটির পাইলট নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তিনি নিখোঁজ হওয়া বিমানটির পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ইমার্জেন্সি ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে তিনি যোগাযোগ করেন। কিন্তু বিমানটির পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোন তথ্য পাননি তিনি। তবে, ওপাশ থেকে তিনি ফিসফিসানির মতো আওয়াজ পেয়েছেন বলে জানান তিনি। এ ছাড়া, বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার মতো একটি প্রচেষ্টাও তিনি আঁচ করতে পেরেছেন বলে জানান।
[b]প্রশ্ন-৯: সাগরে ভাসমান অবস্থায় যে জ্বালানি তেলের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তার অর্থ কী?[/b]
ভিয়েতনামের একটি অনুসন্ধানকারী বিমান হারিয়ে যাওয়া বিমানের পথে একটি তেলের নিশানা খুঁজে পেয়েছেন। ১২ মাইল লম্বা এই বিমানের জ্বালানি তেলের এই নিশানাটি সাগরের পানির উপরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে, ওই পথে অনুসন্ধান চালিয়ে বিমানের কোন খুঁজ পাওয়া যায়নি।
[b]প্রশ্ন-১০: বিমানটির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা কী আমরা কোনদিন জানতে পারবো?[/b]
সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্ন, যা সবার মনেই জেগে আছে, তা হচ্ছে বিমানটির ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে তা কী আমরা কখনো জানতে পারবো না? জানলেও কবে? সূত্র: মিরর অনলাইন
[b]ঢাকা, ১০ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ[/b]
মতামত
মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের রহস্য নিয়ে ১০ প্রশ্ন
২৩৯ জন ক্রু ও যাত্রী নিয়ে হারিয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ার বিমান নিয়ে এখন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার দুদিন পেরিয়ে গেলেও সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিমানটির কোন হদিস পাওয়া যায়নি। কী হয়েছে বিমানটির? যাত্রীদে ভাগ্যে কী ঘটেছে? এটি কী সন্ত্রাসী হামলা বা হাইজ্যাকের ঘটনা?





