দুর্ভাগ্যই বলতে হবে যে, আমরা প্রায় দু’শ তাজা প্রাণের বিনিময়ে দেশে নির্বাচনকালীন একটি কেয়ারটেকার সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু সে মহান অর্জন আমরা ধরে রাখতে পারিনি।

স্মরণযোগ্য যে, যারা এই সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে আন্দোলন, ১৮০ দিনের হরতাল-অবরোধসহ সহিংস সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিল তার নিজেরাই আবার সেই অর্জনকে ধুলিস্যাৎ করতে মোটেই কুন্ঠাবোধ করেনি।

যে সন্তান তাদের আন্দোলনের সফল বলে দাবি করেছিল, নিজেদের প্রয়োজন শেষে সে সন্তানকে তারা আঁতুর ঘরেই গলাটিপে মেরেছে। রাজনীতিকদের এতোটা দেউলিয়া হওয়াটা অতীতে কখনো দেখা যায়নি।

যাহোক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যমেতর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করে পঞ্চদশ সংশোধনী গ্রহণ করা হয়েছে।

ফলে নির্বাচনকালীন একটি কেয়ারটেকার সরকারের পরিবর্তে ক্ষমতাসীনদের অধীনে জাতীয় নির্বাচনসহ সকল নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সে সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতার কথা বলেই বিরোধী দলসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জনমত উপেক্ষা করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নামের প্রহসন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

মূলত সে নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোন মহলেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে শুরু থেকেই এই নির্বাচন নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল তাদের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার কথা জানিয়ে আসছে।

কিন্তু তাদের এসব কথা সরকারের কানে পানি পৌঁছাতে পারেনি বরং তারা এ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের জন্য মাইল ফলক আখ্যা দিয়েছে। মানে ‘ কানা পোলার নাম পদ্মলোচন’।

অবশ্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল বরাবরই এই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সবার অংশ গ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তাগিদ দিয়ে আসলে তা ‘ বামনের মন্ত্র’ এর মত আমলযোগ্য নয় বলেই ক্ষমতাসীনরা উপেক্ষা করে আসছে এবং তাদের একগুয়েমী এখনও অব্যাহত আছে।

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পুরোহিতরা কিন্তু তাদের অমীয়বচন অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু তা কালে-ভদ্রে নয় বরং চলছে হরহামেশায়।

সম্প্রতি এমনই এক অমীয় বচন বিশ্ববাসীকে শুনিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাতে মহাজনের কী-বা আসে যায় ? তারা তো মার্কিন মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূতের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে ছেড়েছে।

এমন কী ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের শুধু পুকুরচুরি নয় বরং সাগর চুরি ঘটনায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এসব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রুটিন ওয়ার্ক বলে উপহাস করেছেন।

২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে গণরায়ের প্রতিফলন ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছিলেন তদানীন্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা। কিন্তু তাতেও মহাজনের মহাজনীতে কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়নি।

ভাবসাব এরম যে, ‘ বকা রাম বকেছে, আর সোনা রাম শুধুই শ্রোতা মাত্র’। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আম জনতা গণতন্ত্রের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করলেও মনসুর বয়াতির দেওয়ানা মদিনা পালার ‘ মদীনা’ সুন্দরীর মত আশাহত হয়েছে।

মদীনা সুন্দরী দীর্ঘদিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করলেও প্রিয়জনের সাথে তার মিলন ঘটেনি। এটাকে এ জাতির জন্য দুর্ভাগ্য বলা ছাড়া কোন উপায় আছে ?

অতিসম্প্রতি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়নি বলে আবারও জোড়ালো মন্তব্য করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ‘ ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম বা আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। অর্ধেকেরও বেশি আসনে প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি ) ও তার ১৮ দলীয় রাজনৈতিক জোট নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ১৬ টিতে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘ আর বেশিরভাগ আক্রমণের জন্য বিএনপি ও প্রধান ধর্মীয় দল জামায়াতে ইসলামী-এর সাথে সম্পর্কিত ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে দায়ি করা হয়েছিল’।

শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয় বিশ্বের সকল গণতন্ত্র প্রিয় জাতি ও রাষ্ট্র ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কঠোর সমালোচনা করেছে। এমন কী নির্বাচনকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেগুলোকেও সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।

কথিত নির্বাচন বিষয়ে বিবিসি, রয়টার্স, এ্যাসোসিয়েট প্রেস ( এপি ), এএফপি, আল-জাজিরা, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী ফিনানসিয়াল টাইমসসহ বিশ্বের প্রায় সব প্রভাবশালী গণমাধ্যমেই বাংলাদেশের নির্বাচন ‘ সহিংস ’ এবং ‘ ভোটারবিহীন ’ বলে মন্তব্য করেছে। পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে কড়া সমালোচনায় মুখর বিশ্ব গণমাধ্যম।

নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের দিন সকাল থেকেই বাংলাদেশের সহিংসতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিদেশী সংবাদমাধ্যমগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের বিরোধী দলের বর্জনের এ নির্বাচনে চলছে সহিংসতা। সংবাদ আইটেম শিরোনাম করেছে, সহিংসতা আর বয়কটের মধ্য দিয়ে চলছে ভোট গ্রহণ।

বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে, আগুন, ককটেল ও বোমা বিষ্ফোরণ, সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি গুলীতে হতাহতের খবরও গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে সংবাদ মাধ্যমটি।

গাইবান্ধা থেকে সায়লা নামের এক বাসিন্দার করা ই-মেইল উল্লেখ করে ভোট কেন্দ্রগুলোকে ‘মরুভূমি’ বলেছে বিবিসি।

সায়লা তার ই-মেইলে লিখেছেন, ‘ সহিংসতা ও নিরাপত্তার ভয়ে আমিসহ আমার পরিবারের কেউ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। আর এখানে যেটা চলছে, তার সবটাই একতরফা। দেশের ৯০ শতাংশ মানুষই এই নির্বাচনের বিপক্ষে।

ভোট কেন্দ্রগুলো আসলে মরুভূমি। বিবিসি আরও লিখেছে, ৫০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করার পরও সহিংসতার ভয়ে সাধারণ মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী ফিনানসিয়াল টাইমস ৫ জানুয়ারি অনলাইন সংস্ককরণে বলেছে, ভোটকেন্দ্র দখল, অগ্নিসংযোগ, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের মধ্যে দিয়ে সকাল আটটা থেকে বাংলাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

বিরোধী দলবিহীন এ নির্বাচন পরিণত হয়েছে সহিংসতা আর গ্রেফতারের নির্বাচনে। যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি নিউজেও একই কথা বলা হয়েছে।

আল-জাজিরায় ‘ বাংলাদেশের নির্বাচনে মৃত্যু’ শিরোনামে তাদের অনলাইন সংস্করণে বলেছে, একতরফা এ নির্বাচনে পুলিশের সাথে বিরোধীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছে। সহিংসতা হয়েছে কমপক্ষে একহাজার ভোটকেন্দ্রে।

এই অবস্থা দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিকে গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা ৫ জানুয়ারি সকাল থেকে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে সরকারের ‘ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার’ একতরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

আল-জাজিরা তাদের শীর্ষ সংবাদ হিসাবে বাংলাদেশের নির্বাচনকে প্রাধান্য দিয়ে আরো বলেছে, পুলিশের গুলীতে বিরোধী জোট কর্মীদের মৃত্যু , সহিংসতা ও বিভিন্ন জায়গায় ভোটকেন্দ্র পুড়িয়ে দেয়ার কথা উল্লেখ করে আল-জাজিরা লিখেছে, বিতর্কিত এই নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিকে হুমকীর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এই নির্বাচনে অধিকাংশ প্রার্থীই আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি যেসব আসনে ভোট হচ্ছে সেখানেও একই বা সমমনা দলের প্রার্থীরা রয়েছে বলে মন্তব্য আল-জাজিরার।

বিরোধী দলবিহীন এই একতরফা নির্বাচন বাংলাদেশের সহিংসতা আরো বাড়বে এবং তা অর্থনীতির ওপর বিরুপ প্রভাব ফেলবে বলে উল্লেখ করে কাতারের সংবাদ মাধ্যমটি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আল জাজিরাকে বলেন, ‘ এই নির্বাচন চলমান সমস্যার কোন সমাধান করতে পারবে না। সংসদে এই সরকারের কোন বিরোধী দল থাকবে না। ফলে তারা গ্রহণযোগ্যতার গভীর সংকটে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের এসোসিয়েট প্রেস ( এপি )তে বলা হয়, দেশজুড়ে ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক আর উৎকন্ঠা। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভোটকেন্দ্রে যায়নি বেশীরভাগ ভোটার। তবে নিরুত্তাপ এ নির্বাচনে উত্তাপ ছড়িয়েছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী।

নির্বাচনের দিনেও ১৮ দলীয় জোটের কর্মীদের ব্যাপক সহিংস আচরণ করেছে পুলিশ। বিরোধীদের লক্ষ্য করে গুলী ছুড়েছে তারা।

এমন কী সকাল ৮ টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পর কমপক্ষে ১০০ টি কেন্দ্রে বিরোধীদের সাথে পুলিশের সহিংসতা হয়েছে। যা নির্বাচনকে ‘ প্রহসনের নির্বাচন’ এ পরিণত করেছে।

‘ বাংলাদেশে নির্বাচন বর্জন ও সহিংসতা’ শিরোনামে ৫ জানুয়ারি এপি অনলাইন সংস্ককরণে বলেছে, প্রধান বিরোধী দলের ‘ নির্দলীয় তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করে। এটা নির্বাচনের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশে কমপক্ষে ২৭৫ জন নিহত হয়েছেন।

সংবাদ সংস্থা ‘ এএফপি’ তাদের সংবাদ শিরোনাম করেছিল, কেন্দ্রে আগুন ও পুলিশী আক্রমেণের মধ্যদিয়ে চলছে ভোট গ্রহণ। সকালে ভোট কেন্দ্রগুলো খোলার পর সেখানে ভোটারদের কোন লাইন দেখা যায়নি বলেও উল্লেখ করে তারা।

এ ছাড়াও ভারতে টাইমস অফ ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, জি নিউজ, পাকিস্তানের ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, চীনের সিনহুয়া গুরুত্বের সাথে বাংলাদেশের নির্বাচনের খরব প্রচার করেছে। তবে সবার খবরেই একতরফা এবং নির্বাচনে সসিংসতার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে ছাপা হয়েছে।

৫ জানুয়ারির একতরফা ও ভোটারবিহীন নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোন মহলেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। ভোটাররা তো ভোট দিতে যানইনি বরং কালে-ভদ্রে কেউ গেলেও নিজেদের ভোটটাও দিতে পারেন নি।

ভোটাররা যে ভোট কেন্দ্রে যায়নি তা খোদ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার। তিনি নির্বাচন পরবর্তী এক প্রেসব্রিফিং-এ বলেছেন, ‘ জনগণ যতটুকু ভোট দিয়েছে তাতেই আমরা সন্তষ্ট’।

এতে বিষয়টি দিবালোকের মত পরিস্কার হয়ে ওঠে যে, কথিত এ নির্বাচনে কোন ভাবেই গণসম্পৃক্ততা ছিল না।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ঈমামও নির্বাচন নামের প্রহসনের কথা অবলীলায় স্বীকার করে নিয়েছেন।ফলে নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন বর্জনকারী বিরোধী দলের সন্দেহ-সংশয় সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

গবেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নির্বাচকমন্ডলীকে (electorate) সরকারের একটি স্বতন্ত্র বিভাগ বলে আখ্যায়িত করেছন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক গেটেলের মতে, ‘ নির্বাচকমন্ডলী কার্যত সরকারের একটি স্বতন্ত্র ও অত্যন্ত প্রভাবশালী শাখা, কারণ এর বিস্তৃত ক্ষমতা রয়েছে এবং তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রযোজ্য হয়’।

(Because of the wide powers, direct and indirect, exercised by the voters in the modern states, the electorate has become practically a separate and important branch of a government.)

অথচ কথিত নির্বাচনে সরকার এই স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী শাখাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।

আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির ঘারে নতুন করে কলঙ্ক তিলক লেপন করেছে। তারা নিজেদের ক্ষমতালিপ্সাকে চরিতার্থ করার জন্য দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

দেশী-বিদেশী কোন মহলের উদ্বেগ-উৎকন্ঠাকে তারা কোন ভাবেই পাত্তা দিচ্ছে না। ফলে দেশ এখন মারাত্মক কুটনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আর আগামীতে কী হবে তা অবশ্য সময়ই বলে দেবে।

গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অভাবেই সারাদেশে নৈরাজ্য ও অস্থিরতা চলছে। ইতোমধ্যেই এ অবস্থার বলি হয়েছেন দু’জন বিদেশী নাগরিক। ফলে নিরাপত্তা প্রশ্নে ক্রিকেট অষ্ট্রেলিয়াসহ বিদেশী মেহমানরা বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছেন। আর এ ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এমতাবস্থায় দেশে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের জন্য তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল কিন্তু সরকার তাদের আগের অবস্থানে অটল রয়েছে। ফলে আগামী দিনে দেশ আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে।

সর্বোপরি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তাই সরকার পেশীশক্তির জোরে ক্ষমতা যতই দীর্ঘায়িত করার চেষ্ট করুক তার ফল কিন্তু মোটেই শুভ হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি ক্ষমতাসীনরা যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করবেন ততই তাদের জন্যই মঙ্গল।

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। এর সঙ্গে টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার কোন সম্পর্ক নেই)

এসএইচ