মাস খানেক আগে নীতিবান একজন রাজনীতিবিদ খুঁজতে লাঠির মাথায় হারিকেন বেঁধে ঢাকা ঘুরেছেন তখনো অনেকে পাগল ভেবেছে জালাল উদ্দিনকে।
সোমবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সেই জালাল উদ্দিন প্রেসক্লাবের সামনে একটি গাছে উঠে ২৪ অবস্থান করে পেট্রোল বোমা ও ক্রসফারের প্রতিবাদ জানান।
সেই ব্যানারে লেখা ছিল-
১৬ কোটি মানুষ এই মাটিতে দাঁড়িয়ে কথা বলার অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। তাই গাছে উঠে দাবি আদায়ের কথা বলছি।
পেট্রোল বোমার আগুনে যখন পুড়ছে মানুষ, প্রতিরোধে হচ্ছে ক্রসফায়ার, তখন একজন জালাল উদ্দিনের গাছে উঠে অহিংস ও অভিনব প্রতিবাদে হয়তো কারো খুব একটা যায় আসে না। এর পরও কোন অপরাধে আটক করা হলো তাকে?
শাহবাগ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক সোহেল বলেন, ২৪ ঘণ্টা গাছে থাকার পর নেমে গিয়ে আবারও তিনি গাছে ওঠার কথা বলেন। নিরাপত্তার খাতিরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এছাড়া হৃদয় নামে আরেকজনকে আটকের পরপরই তার সঙ্গে আসা কয়েকজন যুবক পালিয়ে যায়।
‘ক্রসফায়ার, পেট্রোল বোমা, হরতাল-অবরোধ’ চিরতরে বন্ধের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কড়ই গাছের ওপর ২৪ ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট পালনকারী জালাল উদ্দিন মজুমদারকে (মজু) মঙ্গলবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে আটক করে পুলিশ। তাকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটক করা হয় মো. হৃদয় (১৮) নামে আরও এক যুবককে।

এক মাস আগে হারিকেন নিয়ে নীতিবান রাজনীতিবিদ খুজছেন জালাল উদ্দিন

প্রেসক্লাবের সামনে একটি গাছে ২৪ ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি পালনে ব্যস্ত

অবস্থান শেষে পুলিশের হাতে আটক বৃদ্ধ জালাল উদ্দিন।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ওই গাছে অবস্থান করেন ‘জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের’ নেতা দাবিদার জালাল উদ্দিন মজুমদার।
গাছের উপর থেকে বসে হাত মাইক দিয়ে তিনি বলেন, পেট্রোল বোমা আগুনে পোড়া মানুষের চিৎকারে হরতাল-অবরোধে ব্যবসায়িদের চিৎকারে, ক্রস ফায়ারের মৃত মানুষদের চিৎকারে ৫৬ বছর বয়সে গাছের উপরে উঠে দাবি জানাতে বাধ্য হলাম। এখন আর মাটির উপরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করলে উপরের লোকেরা শুনতে পায়না।
জালাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু মাটিতে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন, আমরা সাত কোটি মানুষ শুনেছিলাম তার কথা। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর ১৬ কোটি মানুষ আত্মচিৎকার করে বলছে, আগুনে পুড়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। শুনছেনা (খালেদা জিয়া-শেখ হাসিনা) দুজনে। কয়েকজন সুবিধাভোগী নেতার কথা তারা ভাবছেন।
তিনি বলেন, এখন কিছু নেতার হৃদয় হয়ে গেছে কাঠের মত শক্ত। বঙ্গবন্ধুর মত মানুষ এখন আর নাই, যে মাটিতে দাঁড়িয়ে বললে তারা শুনবে। এই মাটিতে কথা বলার অধিকার হারিয়ে ফেলেছি। সংলাপে বসার কথা বলতে বঙ্গবীরের মত নেতার কাঁথা-বালিশ নিয়ে গেছে। সেই ভয়ে আমি কাঁথা বালিশ আনিনি। মাহমুদুর রহমান মান্নাকে মাটি থেকে ধরে নিয়ে গেছে। তাই আমি গাছে উঠে কথাবলা ছাড়া কোন উপায় দেখছি না।
জালাল উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতা-গণতন্ত্র গাছের উপর, আমাকে ধরে নিতে দরজা ভাংতে হবেনা। আমি গাছের সাথে শিকল দিয়ে নিজেকে বেঁধে রেখেছি। এতে অন্তত পেট্রোল বোমা থেকে অন্তত বাঁচতে পারবো।
যেহেতু গাছের উপর আছি, র্যা বের জন্য সহজ হবে। পাখির মত গুলি করতে পারবে। গোপন করতে পারবে না, জনতা দেখতে পারবে। আমার সাথে গাছও আসামী হবে। যেহেতু গাছ আমাকে আশ্রয় দিয়েছে।
দার্শনিক জালাল উদ্দিন মজুমদারের বাড়ি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের নবগ্রামে। তার জন্ম ১৯৫৭ সালে। পেশা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন তিনি একজন সাংবাদিক ও ঠিকাদার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন।
সংবাদ কর্মী





