নবম জাতীয় সংসদের উপর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ নামের ওই প্রতিবেদনে অষ্টম জাতীয় সংসদের কার্যকলাপের সাথে নবম জাতীয় সংসদের কার্যকলাপ তুলনা করা হয়েছে। তবে নবম সংসদের ১৯টি অধিবেশনের কার্যদিবস ও স্থায়ী কমিটির কাজের ভিত্তিতে মূলত: প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে টিআইবি।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে নবম জাতীয় সংসদের বেশ কয়েকটি ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে।
[b]ইতিবাচক দিক[/b]
প্রতিবেদনে ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়, নবম সংসদে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি অষ্টম সংসদের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ শতাংশে।
বাজেট আলোচনায় খাতভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ, সংশোধনী প্রস্তাব, পরিকল্পনা গ্রহণ এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা সম্পর্কে আলোচনাকে উল্লেখ করা হয়েছে ইতিবাচক হিসেবে।
প্রশ্নোত্তর ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে নারী সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ আশানুরুপ বেড়েছে।
স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা (বৈদ্যুতিক) প্রবর্তিত হওয়ায় অপ্রাসঙ্গিক আলোচনার সুযোগ কমেছে এবং ৭০ অনুচ্ছেদের প্রতিবন্ধকতা স্বত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ আলোচনায় সরকার দলীয় সদস্যদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।
সংসদীয় কমিটিতে বিরোধীদলীয় সদস্যদের অংশগ্রহণ, কমিটির সভাপতি হিসেবে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের দায়িত্বপালন ও বৈঠকে অংশগ্রহণকে ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।
[b]নেতিবাচক দিক[/b]
ইতিবাচক দিকগুলোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নেতিবাচক দিকও উল্লেখ করা হয়েছে টিআইব’র প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী সংসদের তুলনায় নবম জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের কার্যকারিতার গুণগত পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি।
বিরোধী দলের সংসদ বর্জন বৃদ্ধি পাওয়ায় সংকট বেড়েছে, যা জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে প্রতিবন্ধক হিসেবে ভূমিকা রাখে।
আইন পাশের ক্ষেত্রে খুব কম সময় নেয়া এবং সংবিধানে সুনির্দিষ্ট বিধান থাকা স্বত্ত্বেও আর্ন্তজাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে আলোচনা না হওয়াকে প্রতিবেদনে নেতিবাচক দেখানো হয়েছে।
অসংসদীয় ভাষার অপব্যবহার, স্পিকারের আহ্বান অগ্রাহ্য, রুলিং স্বত্ত্বেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবং সংসদ অধিবেশনে কোরাম সংকট অব্যাহত থাকার কারণে সংসদীয় কমিটির বৈঠক ব্যাহত হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের উল্লিখিত বিধানের অস্পষ্টতার কারণে সদস্যদের মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতাও নবম সংসদে লক্ষ্য করা গেছে।
সরকারি দল নির্বাচনী ইশতেহারে সদস্যদের আচরণ বিধিমালা প্রণয়ন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার গড়ে তোলার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে পারেনি।
বিরোধী দলের মধ্য থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে অঙ্গীকার ও স্পিকারের দল ত্যাগের বিষয়টি সরকারের কারণে বাস্তবায়িত হয়নি।
সদস্যদের বিরুদ্ধে কমিটির দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগত স্বার্থের অভিযোগ এবং পদাধিকার বলে মন্ত্রীদের সদস্য হওয়া ছিল কার্যপ্রনালীর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিরোধী দলের অনবরত ওয়াকআউটের কারণে বিরোধীদলীয় নেত্রী সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সহযোগীতা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জনস্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
ইস্যূভিত্তিক ওয়াকআউট ছাড়া কোন দল বা জোট সংসদের অধিবেশন বর্জন করতে পারে না। অথচ এর প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়নি।
সংসদ ওয়েবসাইটে সদস্যদের উপস্থিতিসহ সংসদ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের সংস্কৃতি গড়ে উঠেনি।
[b]ঢাকা, জেইউ, ২০ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]
মতামত
নবম সংসদের যতো ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক
নবম জাতীয় সংসদের উপর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ নামের ওই প্রতিবেদনে অষ্টম জাতীয় সংসদের কার্যকলাপের সাথে নবম জাতীয় সংসদের কার্যকলাপ তুলনা করা হয়েছে। তবে নবম সংসদের ১৯টি অধিবেশনের কার্যদিবস ও স্থায়ী কমিটির কাজের ভিত্তিতে মূলত: প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে টিআইবি





