কল্পনা করুন, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে বাংলাদেশ জিতে গেল। অন্যদিকে নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জিতল ভারত।

দুই দলের পয়েন্ট সমান, ৪। তবে রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া, বাদ ভারত। এমনটি হতেই পারত, যদি এক রানে বাংলাদেশ না হারত।

আজ মুম্বাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত নয়, হয়তো খেলত অস্ট্রেলিয়া। ভারতের সেমিতে খেলার পেছনে তাই বাংলাদেশের ঐ হারটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা এখন বুঝতে পারছে টিম ইন্ডিয়া।

আর তাই এর জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত ভারতের। এমন কথাই বলছেন ভারতের সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কপিল দেব।

শ্বাসরুদ্ধকর ঐ ম্যাচ জিতে ভারতও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিল। তারাও জানত, ঐ ম্যাচ হারলে বিদায় ঘন্টা বাজত।

আর তাই এক রানের জয়ে ভারত যে পরিমাণ উল্লাস করেছিল, তাতে ম্যাচের মাহাত্ম পরিস্কার হয়ে উঠেছিল। ২৩ মার্চে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ম্যাচের গুরুত্বটা অনুধাবন করছেন কপিল দেবও।

আর তাই টিম ইন্ডিয়াকে তিনি অনুরোধ জানাচ্ছেন, যাতে বাংলাদেশ দলকে তারা ধন্যবাদ জানায়। ঐ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলে, আজ ঘরের মাঠে টি২০ বিশ্বকাপে দর্শক হিসাবেই থাকত ধোনি-কোহলিরা।

ব্রিটেনের ডেইলি মেইলে এক কলামে কপিল লিখেছেন, ‘টি২০ বিশ্বকাপে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত ভারতের। বাংলাদেশ আর অবশ্যই বিরাট কোহলির সৌজন্যে দলটা আজ সেমিফাইনালে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় দলটাকে প্রয়োজনীয় প্রেরণা দিয়েছে। এরপর দলটার মনোভাবে যে পরিবর্তন এসেছে, তা যে কেউ বুঝতে পারবে।’

সেই ম্যাচের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিও আঁচ করতে পারছেন কপিল। টিম ইন্ডিয়া ছিল বেশ চাপে। তবে তার ধারণা, বাংলাদেশ হারলেও ঐ ম্যাচে ১০ দলের মধ্যে নয়টিই জিতবে। কিন্তু পারেনি বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘‘বাংলাদেশ হেরে গেলেও এ ধরনের ম্যাচে ১০টার মধ্যে ৯টা দলই জিতবে। তিন বলে দুই রানের সময় ভারত ছিলন ভীষণ কোণঠাসা।

তবে স্বাগতিক দল কোনোরকমে হলেও দুর্দান্ত জয় পেয়েছিল। সেই রাতে হারলে, হয়তো দ্রুতই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হতো তাদের।’

ওএফ