প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অনিয়ম বিষয়ে আত্মস্বীকৃতি দিয়েছেন। ছাত্রলীগের এক সমাবেশে তিনি নির্বাচনী উপাখ্যান অবলীলায় বর্ণনা করেছিলেন।

কথিত সে নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন বর্জনকারীরা যেসব অভিযোগ করেছিলেন মি. ইমামের মুখ থেকে সে সবেরই প্রতিধ্বণি শোনা গেছে। নির্বাচনে জনগণ ঠিকমত ভোট দেয়নি খোদ প্রধানমন্ত্রীর ‘ জনগণ’ যতটুকু ভোট দিয়েছে তাতেই আমরা সন্তষ্ট’ বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার।

সড়ক মন্ত্রীও ‘নির্বাচনটা যে যথাযথ হয়েছে তা বলা যাবে না’ বলে অনিয়মটা স্বীকার করেছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনে সে কথারই প্রমাণ মিলেছে।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে খোদ সরকারেই প্রশ্ন রয়েছে। তাদের কথায় যখন সত্য প্রকাশিত হয় তখন সংবিধান, সংসদ ও সংসদ সদস্যদের মান-মর্যাদার ব্যত্যয় ঘটে না।

কিন্তু অন্যরা যখন তা একটু ভিন্নতরভাবে উপস্থাপন করেন তখই সংবিধান, সংসদ ও সাংসদদের অবমাননার ঘটনা ঘটে। এমনকি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও প্রয়োজন হয়। ‘ দেবতা করলে লীলা খেলা আর পাপ হয় মোদের বেলা’ ভাবটা আসলে সেরকমই বৈ কী !

সম্প্রতি টিআইবি বর্তমান সংসদকে ‘ পুতুল নাচের নাট্যশালা হিসাবে’ আখ্যা দিয়েছে। টিআইবি হয়তো এ কথায় বলতে চেয়েছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটা যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়নি। এতে বোধ হয় সরকারের আঁতে ঘা লেগেছে।

তাই ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ-টিআইবির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম ।

১৪ দলের বৈঠকে টিআইবিকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানানো হয়। তার ভাষায়, টিআইবি সংসদের প্রতিটি সদস্যকে অপমান করেছে। সংসদ নিয়ে তাঁরা অমার্জনীয় অবরাধ ও গর্হিত ভাষা উচ্চারণ করেছে। এটা কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষেও বলা সম্ভব নয়।

যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোন মহলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি এবং সকল মহল থেকেই এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বলা হয়েছে তখন সরকার শুধু টিআইবির উপর ক্ষিপ্ত হলো কেন তা মোটেই বোধগম্য নয়।

কয়েক দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনেও তো এই নির্বাচন নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলে জানা যায়নি বরং জনগণের সন্তষ্টি ছাড়াই যে প্রধানমন্ত্রী সন্তষ্ট হয়েছেন এটিই তাদের মূলধন।

গণতন্ত্র হচ্ছে সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি। আর অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারই শাসন ক্ষমতার মালিক। মূলত গণতান্ত্রিক শাসন মানেই হচ্ছে জনগণের শাসন।

প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন সত্যই বলেছেন, ‘কোন মানুষকে তার সম্মতি ব্যতীত শাসন করার অধিকার কারো নেই’। ( No man has a right to govern without other man )

এক্ষেত্রে সি এফ ষ্ট্রং-এর সংজ্ঞায়ন অধিকতর প্রাণবন্ত। তার মতে, ‘ শাসিতগণের সক্রিয় সম্মতির উপরে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত, তাকে গণতন্ত্র বলা যায়’।

( Ô Democracy implies that government which shall rest on the active consent of governed.’ )

যেহেতু ১০ম সংসদ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয় তাই এ সরকারও জনগণের নয় এমন উপলব্ধি হয়তো সব মহলেরই। সরকার গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা জনগণের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী বলে মনে হয় না।

অথচ আমাদের দেশের সংবিধানে ব্যক্তি স্বাধীনতার স্বীকৃতি রয়েছে। সংবিধানের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘আইনানুযায়ী ব্যতিত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না’। (No person shall be deprived of life or personal liberty save in accordance with law.)

দেশে সম্প্রতি সংঘঠিত ঘটনা নিয়ে রাজনীতিতে টালটামাল অবস্থা চলছে। বিশেষ করে ২ বিদেশী হত্যাকে কেন্দ্র বহির্বিশ্বের সাথে সরকারের সম্পর্কটা বেশ তলানীতেই ঠেকেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর বাতিল ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর বাতিলসহ আরও উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা ঘটেছে। কিন্তুবিষয়টি নিয়ে তাদের বক্তব্য ও অবস্থানটা পরিস্কার করতে পারেনি।

কখনো বলছেন এ ঘটনা জন্য আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনীতিতে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বরং সবকিছুই ঠিকঠাক আছে। আবার কখনো বলছে বিরোধী দলের ষড়যন্ত্রই সব নষ্টের মূল। কোনটি বাস্তব তার কুলকিনারা করা যাচ্ছে না।

স্ববিরোধীতা বোধ হয় পিছু ছাড়ছে না সরকারের। বরং এটিই তাদের মূলধন বলেই মনে হচ্ছে। মন্ত্রীরা কখন কে কোথায় কী বলছেন তা ঠাহর করা বেশ কষ্টসাধ্য।

চলমান পরিস্থিতিতে বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ বলেছেন, তৈরি পোষাক রপ্তানী বা ব্যবসার ক্ষেত্রে বিদেশী হত্যার ঘটনায় কোন নেতিবাচক কোন প্রভাব পড়নি।

বাংলাদেশে ইটালি এবং জাপানের দু’জন নাগরিক হত্যার ঘটনার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী বলেছেন, বিদেশীরা অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। যা মন্ত্রীবরের স্ববিরোধীতায় প্রমাণ করে। কারণ, পশ্চিমা দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কি নেতিবাচক প্রভাব নয়?

বানিজ্যমন্ত্রী দু’ বিদেশী হত্যায় রেড এলার্টকে বিদেশীদের ‘ অতিমাত্রার প্রতিক্রিয়া’ হিসাবে উল্লেখ করলেও তার সাথে একমত নন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট নেতারা। সম্প্রতি দুই বিদেশী নাগরিক হত্যা, তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট।

আগামীতে আরও বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ১৪ দলীয় জোট নেতারা। ১৪ দলের নেতারা মনে করছে কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিএনপির শীর্ষনেতৃত্বের বিচার বাঞ্চাল করতে নভেম্বরে আরও বিচিছন্ন চোরাগোপ্তা হামলা হতে পারে।

এমনকি সন্ত্রাসী তৎপরাতার জন্য সরকার বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী অস্ত্র আমদানী করছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা। ২ বিদেশী হত্যা ও সাম্প্রতিক সংঘঠিত ঘটনাবলীকে সরকারকে চাপে ফেলা ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার বিরোধী দলীয় অপচেষ্টা বললেও ক্ষমতাসীনদের এমন বক্তব্য একের পর এক স্ববিরোধী বক্তব্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোন মহলই বিশ্বাস করতে চাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সংঘঠিত ঘটনা নিয়ে সরকারের উপর কোন বাড়তি চাপ ও বর্হিবিশ্বে দেশের ইমেজ ক্ষুন্নের কথা স্বীকার করা না হলেও সরকার সংশ্লিষ্ট একটি মহল তা কবুল করে নিয়েছেন।

বাংলাদেশকে নিয়ে পশ্চিমা কয়েকটি দেশের কিছু কর্মকান্ডে রীতিমত ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন তারা। তাদের ভাষায়, এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই স্থগিত হয়েছে অষ্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর।

সম্প্রতি জাপান ও ইতালীর দু’জন নাগরিক খুন হওয়ার পর পশ্চিমারা বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এরপরও পশ্চিমা কয়েকটি দেশ এখনও বহাল রেখেছে তাদের সতর্ক বার্তা।

পাশাপাশি অহেতুক স্থগিত করা হচ্ছে একের পর এক পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন কর্মসূচী ও সফর। যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তেমন কোন মিল নেই বলে মহলটি মনে করে। তাদের এ কর্মকান্ড আরও কিছু দিন বহাল থাকলে সরকার তথা দেশের ভাবমূর্তির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্খা মহল বিশেষের।

তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, ২৫ সেপ্টেম্বরের আগে বাংলাদেশে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অস্ট্রেলিয়া ও পশ্চিমা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে হামলা পরিকল্পনা করছে বলে একটি হুমকীর তথ্য অষ্ট্রেলিয়াকে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তারপর অষ্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত হয়ে যায়।

তারপর ব্রিটিশ পররাস্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুগো শোয়ারে তার সফর স্থগিত করেন। হুমকীর আঙ্ককায় বাতিল হয় অষ্ট্রেলিয়ার একটি কনসার্ট। স্থগিত করা হয়েছে বাংলাদেশী পণ্যেও ক্রেতাদের নিয়ে পুর্বনির্ধারিত ‘ বায়ার ফোরাম ’ বৈঠক এবং স্পেনের জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপান ‘ স্টাডি ইন জাপান ’ বিষয়ক পূর্বনির্ধারিত একটি সেমিনার স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে বলেছে, এ অনুষ্ঠান পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হবে। একটি জার্মান গবেষক দলের পুর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করা হয়েছে।

তারা আরও উল্লেখ করেছেন, নিরাপত্তার অজুহাতে নির্মাণাধীন তিন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৪১ বিদেশী কর্মী প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এসব বিদেশীদের মধ্যে স্পেন, বুলগেরিয়া ও আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তারা স্পেনের আইসোলাক্স কোম্পানীর অধীনে কাজ করতেন।

দুই বিদেশী হত্যাকান্ডের পর আইএস এর দায় স্বীকারের কারণে আইসোলাক্স তাদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। ৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিপি) ও বিদ্যুৎ বিভাগে চিঠি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশীদের প্রত্যাহারের কথাটি জানায়। সেই প্রেক্ষিতে মাত্র ২ দিনে ৪১বিদেশীকে প্রকল্প এলাকা থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

জানা গেছে, ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানীর ( ইজিসিবি ) নির্মিতব্য সিদ্ধিরগঞ্জ ( নারায়গঞ্জ ) ৩৩৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে ৩৮ জন, নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানীর খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট প্রকল্প একজন এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিপি ) বিবিয়ানা ( হবিগঞ্জ ) ৪০০ মেগাওয়াট প্রকল্প থেকে দু’জনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে পিএসপি সুবিধা নিয়েও বাংলাদেশ বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। রানা প্লাজা ধসের পর দেশটি বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা স্থাগিত করে। তারপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে একটি অ্যাকশন প্লান দিয়েছিল।

ওই একশন প্লানের মধ্যে যেসব শর্ত ছিল তার সবই বাংলাদেশ পুরণ করেছে। কিন্তু এখনও জিএসপি সুবিধা বাস্তবায়ন করেনি যুক্তরাষ্ট্র। বরং নতুন করে ‘ ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ ’ (টিপিপি ) নামের একটি বহুজাতিক চুক্তি সম্পাদন করে বাংলাদেশের পোষাক শিল্পকে নতুন করে এক অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি করেছে।

আরও বলা হয়, টিপিপির আওতায় প্রশান্ত মহাসাগরের তীরবর্তী যে ১২ টি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানীতে শুল্ক সুবিধা পাবে তার মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভিয়েতনাম অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোষাক রফতানীতে প্রায় ১৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়।

তার বিপরীতে ভিয়েতনাম শুন্য শুল্কে পণ্য রপ্তানী করলে বাংলাদেশ বড় হুমকীর মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আফ্রিকা ও সাব সাহারার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে আগেই শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানীর সুযোগ লাভ করেছে। এখন টিপিটি পোষাক শিল্পের জন্য নতুন এক সংকটের সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মূলত সরকার সংশ্লিষ্ট মহলের এমন উদ্বেগ আমাদের দেশের জন্য সত্যিই উদ্বেগের। এসব ঘটনার কিয়দংশও যদি সত্য হয় তবুও তা রীতিমত ভাববার বিষয়। কিন্তু পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বললেন ভিন্ন কথা।

তিনি ২৯ অক্টোবর সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশ ভ্রমণে কোন দেশের রেড এলার্ট নেই। বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশ ভ্রমণে সাধারণ সতর্কবার্তা দিয়েছে। এতে করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির কোন সংকট হবে না। এটা কোন সংকট নয়। এটা একটা সাময়িক সমস্যা। যা উপরোল্লিখিত বক্তব্যের সাথে রীতিমত সাংঘর্ষিক ও স্ববিরোধী।

সরকারের মন্ত্রীরা একেক সময় একেক কথা বললেও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু নতুন কথা বলেছেন, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে বিদেশীরা দেশে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। কিন্তু এদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়ে তা প্রতিহত করছেন।

অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীরা এসব ঘটনার জন্য বিএনপিসহ রাজনৈতিক বিরোধীদের দায়ি করে আসছে। সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধের বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন ও চলমান বিচারকে ত্রুটিপুর্ণ বলায় এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও বর্তমান সংসদ নিয়ে টিআইপির প্রশ্ন উত্থাপনকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গভীর ষড়যন্ত্র হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। সরকার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কর্তৃক জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদন্ডাদেশ স্থগিতের আহবানের মধ্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে।

সরকার বিদেশী হত্যার বিষয়টি বিরোধী দলের উপর চাপানো, কথিত বড় ভাই তথ্য, এমনকি স্বরাস্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক একজন সন্দেহভাজন বড় ভাইয়ের নাম প্রকাশ করা হলেও শিল্পমন্ত্রীর অবস্থান তারা পুরো বিপরীত। মূলত সরকার চলমান বিষয়ে তাদের অবস্থানই ঠিক করতে পারেনি।

একেক সময় একেক ও অসংলগ্ন কথা বলে জনগণ ও বিশ্বজনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেই মনে হচ্ছে। কখনো বলছে চলমান ঘটনাবলীতে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

কিন্তু পরক্ষণেই বলছে ভিন্ন কথা। তাই অসংলগ্নতা ও দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করে সরকার যদি বাস্তবতা উপলব্ধি করে করণীয় নির্ধারণ করে তা যেমন দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ, ঠিক সরকারের জন্যও।

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

[email protected]

এসএইচ

(বি.দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।)