প্রায় আধাঘন্টা পর অফিসের পিয়ন এসে জানালো জেলা প্রশাসক মহোদয় সাক্ষাৎপ্রার্থীদের এক সাথে ডেকেছেন। অবশ্য লোক বেশী ছিল না। আমি আর দু’জন ভদ্র মহিলা। তিন জন একই সাথে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কক্ষে প্রবেশ করলাম। তিনি সকলকে বসার ইঙ্গিত দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ আপনি একটু বসুন, ল্যাডিস ফার্ষ্ট’। মূখে তার হালকা হাসি।
ভদ্র মহিলাদের কাছে তাদের আগমনের কারণ জানতে চাইলেন। তারা জানালেন যে, তাদের এনজিওর উদ্যোগে নারী অধিকার বিষয়ক সেমিনারে তাকে প্রধান অতিথি হিসাবে নিমন্ত্রণ করতে এসেছেন। তাদের কথোপকথনে যা বুঝলাম তারা উভয়েই কোন এনজিওর উর্দ্ধতন কর্মকর্তা। ভাব-ভাবে এবং চলনে-বলনে বেশ কুলীন মনে হলেও বেশ-ভূষায় বেশ উগ্রতার ছাপ। শরীরের সকল আঁকা-বাঁকা পথই সহজেই দৃশ্যমান। মনে হয় কোন বিপণী কেন্দ্রে পণ্য সামগ্রী প্রদর্শনীর জন্য অতি নিপুনভাবে সাজানো হয়েছে। যা বোধ হয় জেলা প্রশাসক মহোদয়েরও দৃষ্টি এড়াতে পারেনি।
জেলা প্রশাসক মহোদয় অনাকাঙ্খিতভাবেই একটি ভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা করে বললেন, ‘ হিজাবে তো খারাপ কিছু দেখি না। আপনারা হিজাব এবং শালীন পোষাকের বিরোধী কেন ’?
ভদ্র মহিলারা পুরোপুরিইঅপ্রস্তুত হয়ে গেলেনবলেই মনে হলো। কিছুক্ষণ কোন কিছুই বলতে পারলেন না। বেশ কিছুক্ষণ পর একজন বললেন, ‘আমরা কোন কিছুরই বিপক্ষে না আমরা শুধু ধর্মীয় গোঁড়ামীর বিপক্ষে’।
জেলা প্রশাসক মহোদয় চটজলদি প্রশ্ন করে বললেন, ‘ হিজাব ‘ বা শালীন পোষাক ধর্মীয় গোড়ামী কিনা ’ ? তারা কোন প্রশ্নেরই গ্রহণযোগ্য জবাব দিতে পারছিলেন;বরং কিছু এলোমেলো কথা বলে দায় খন্ডানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মহোদয় আবারও শুরু করলেন , ‘হিজাব বা শালীন পোষাকে আমি খারাপ কিছু দেখিনা। বরং হিজাব নারীর সম্ভ্রমের নিরাপত্তা দেয়। কোন হিজাবী মহিলাকে ‘রেপ ভিকটিম’ বা কোন ভাবে যৌন হয়রানীর শিকার হতে আজও আমি দেখিনি। ইরানের অমুসলিম মেয়েরাও তো বাধ্যতামূলকভাবে হিজাব ব্যবহার করে। তারা এটাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছে। কোন সমস্যা হতে তো দেখা যায়নি।
হিন্দু জেলা প্রশাসকের কথায় এনজিও কর্মকর্তারা একেবারে হতভম্ব। ভদ্রলোক হিন্দু না হলে অন্যকিছু হতে পারতো। তাদের মুখ থেকে কোন কথায় বের হলো না। সবকিছুই নিরবে শুনছিলেন। এ ছাড়া তাদের কোন উপায় ছিল বলে মনে হলো না।
জেলা প্রশাসক মহোদায় কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়েই বললেন, ‘আমি আপনাদের সেমিনারে নিমন্ত্রণ গ্রহণ করছি না। আমি পুরুষ মানুষ। আমাকে ডেকে নিয়ে আপনারা পুরুষদের বিরুদ্ধে খিস্তিখেউর করবেন তা আমার ভাল লাগবে না। প্রত্যুত্তরে আমি কিছু বললে সেটাও আপনাদের জন্য ভাল হবে না। তার চেয়ে বরং কোন মহিলা এডিসিকে দাওয়াত দিন। পুরুষদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে আপনাদের বেশ সুবিধা হবে।’
ঢাকা- ২৩ জানুয়ারি, ২০১৬ ইং (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
বি.দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।





