সুপণ শাহরিয়ার। এ প্রজন্মের উদীয়মান তরুণ একজন লেখক। জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তরুণ এই লেখক। তাই জীবনের কথা গুলোই মূর্ত হয়ে ফুটে ওঠে তার লেখায়। তার প্রথম প্রকাশিত বই জোছনাবন্দী। ২০১৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয়।
এরপর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারের বইমেলায় জোছনাবন্দীসহ আসে দ্বিতীয় বই অর্ন্তডুব। এই বইটিও পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ইতোমধ্যে। তরুণ এই লেখকের ভাল লাগে খোলা আকাশ। জোছনা রাত। আর একাকি ঘুরে বেড়াতেও বেশ পছন্দ করে তিনি। প্রিয় লেখক শরৎচন্দ্রচট্ট পাধ্যায়।
বইমেলায় শেষ হয়েছে কিছুদিন হলো। বইমেলায় নিজের বইয়ে পাঠকদের কেমন সাড়া পেয়েছেন এসব বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় এই লেখকের সাথে। কথার ফাঁকে নিজের ভাল লাগা মন্দ লাগা তুলে ধরেন তিনি। আর আক্ষেপও করলেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। লেখকের দৃষ্টিতে বর্তমান পাঠকরা বেশি হুমায়ুন জ্বরে আক্রান্ত তারা অনেকেই হিমু হতে চাই।
কিন্তু তারা কেউ মিসির আলী হতে চাই না। পাঠকদের এখান থেকে বের হওয়ার কথাও বললেন তিনি। পাঠকদের নতুন লেখকদের বই পড়তে হবে, নতুন লেখকদের মধ্যে অনেকেই ভাল লিখছেন। পাঠকদের শুধু প্রেমের বই না পড়ে জীবনমুখী বই পড়া উচিত। তাহলেই তারা জীবনকে উপলবদ্ধি করতে পারবেন বলে জানালেন লেখক। তবে নতুন লেখকদেরও শুধু প্রেমের বই না লিখে জীবনমুখী বই লেখার কথা বললেন তিনি।
সুপণ শাহরিয়ার লেখালেখির শুরু করেন ২০০২ সালের শেষের দিকে। এরপর দারিদ্রতা দীর্ঘদিন এই লেখকের পথ চলা থামিয়ে দেয়।
কিন্তু দারিদ্রতার কাছে হার মানেননি তিনি। এরপর ২০১৪ সালে এসে আবারও পথ চলা শুরু করেন তিনি। সেই পথ চলায় তিনি পেয়েছেন অসংখ্য মানুষের অকুণ্ঠ ভালবাসা। সেই ভালবাসায় এগিয়ে চলেছেন। আর এভাবেই এগিয়ে যেতে চান বাকিদিনগুলো। তার এই পথ চলায় যে মানুষগুলো পরম নির্ভরতায় পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন তারই স্নেহধন্য ছোট ভাই তুহিন অর্ণব।
এছাড়াও সব সময় যাকে পাশে পান তিনি রৌদ্রতা নিতু। যার প্রচেষ্টা না থাকলে জোছনাবন্দী প্রকাশ পেত না তিনি কবি মসিউদ্দৌলা জুয়েল। তাই তার প্রতিও কৃতজ্ঞ এই লেখক।
প্রথম বই প্রকাশ করতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অনেক প্রকাশনী। তবুও দমে যাননি । বরং এগিয়ে চলেছেন। আর এভাবেই এগিয়ে যেতে চান তিনি।
জন্ম ১৯৮৮ সালের ১৩ জুলাই যশোর তেঘরিয়ায়। মা রোমেছা বেগম এবং বাবা আক্কাস আলী দুজনের কেউ বেঁচে নেই। চার ভাই দুবোন। তিনি পঞ্চম। পড়াশোনার হাতে খড়ি বাজে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এরপর বাজে দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। যশোর এম এল হাইস্কুল। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে জীবিকার তাগিদে চাকরি করছেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডে।
স্বপ্ন দেখেন একজন সফল লেখক, নাট্যকার, এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়া। প্রথম প্রেমে পড়েছিলেন কবে একথা জিজ্ঞেস করতেই একটু সলজ্জ হাসি দিলেন তারপর জানালেন, ক্লাশ টেনে থাকতেই তার প্রথম প্রেমে পড়া। তবে বয়সটা পাগলামির ছিল। ওসব নিয়ে এখন ভাবেন না।
এখন ভাবনা একটাই শুধু লিখে যাওয়া। বড় লেখকদের কাতারে নিজেকে দেখা। এই স্বপ্ন বুকেই নিয়ে লিখে চলেছেন সুপণ শাহরিয়ার। বললেন পাঠকদের ভালবাসায় আমার বড় পাওয়া। এই ভালবাসা নিয়ে আগামী দিনগুলোতেই শুধু পাঠকদের জন্যই লিখে যেতে চান তিনি।





