রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বেতনের উৎস কি? নিশ্চয়ই জনগণের ট্যাক্সের টাকা। তাইতো পুলিশ জনগণের সেবক। জনগণ আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছে চায় কি? জীবন ও সম্পদের একটুখানি নিরাপত্তা। তবে বর্তমানে দু’টোই সুদূঢ় পরবাসে। আপাতত আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীল সদস্যরা জোট হয়ে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। উদ্যোগ খুব ভালো।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শ্রেণীর অপরাধীদের দৌড়াত্ম্য এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যাতে সাঁড়াশি অভিযান না চালিয়ে উপায় নাই। কিন্তু যদি সাঁড়াশি অভিযান চালানোর যারা হুকুম দিয়েছে এবং যারা অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনারা কি পূর্বে এই সকল অপরাধীদের খোঁজ জানতেন না? তবে তারা কি উত্তর দিবে তার ধারণা করতে পারছি না। কিন্তু মাত্র ৭২ ঘন্টা সময়ে যদি প্রায় ১২ হাজার অপরাধীকে গ্রেফতার করা সম্ভব তবে সারা বছরের ৩৬৫ দিনে কত অপরাধী গ্রেফতার হওয়া উচিত? সারা বছরের বিস্তৃত সময়ে এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধী সম্পর্কে বেখবর থাকলে মাত্র ৩ দিনে এত অধিক সংখ্যক অপরাধী পাকড়াওয়ের কারিশমা তারা কি করে নিমিষেই অর্জন করলো?
সময় এসেছে নতুন কিছু ভাববার। যদি বছরে একবার এমন সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েই অপরাধীদের চৌদ্দগোষ্ঠী পাকড়াও করা যায় তবে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বিশাল সদস্যের বহর পুষে লাভ কি? বছরে একবার কিংবা দুইবার অস্থায়ীভাবে লাখ কয়েক লোককে নিয়োগ দিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে যদি সকল অপরাধীদের পাকড়াও করা যায় তবে রাষ্ট্রের অর্থ যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি জনগণের ওপর থেকে ট্যাক্সের বোঝাও অনেকটা হালকা হবে। বছরের বাকী সময় জুড়ে মাত্র কয়েক হাজার দক্ষ আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পুষলেই তো যথেষ্ট! যারা সারা বছর শুধু অপরাধীদের সাথে চা-পান পান করবে, তাদের সাথে হাই-হ্যালো করবে এবং তাদের গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য করবে। যাতে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর সময় অপরাধ জগতের চুঁনোপুঁটি থেকে রাঘব বোয়াল পর্যন্ত সব পাকড়াও করা যায়!
সারা বছর সন্ত্রাসীদের পুষে বছরের একটা সময়ে এমন সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দৃষ্টান্ত বোধহয় বিশ্বের অন্য কোন রাষ্ট্র স্থাপন করতে পারেনি যেমনটা করেছে বাংলাদেশে। অবশ্যই স্বদেশ হিসেবে বাংলাদেশকে তো সর্বদা একটু ভিন্ন পথেই দেখতে ভালোবাসি। শুধু অনুরোধ থাকবে, সাঁড়াশি অভিযানের নামে এখন যেমন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সবাই কঠোর অবস্থানে আছে এমন কঠোর অবস্থানে যেন তারা সারা বছর বহাল থাকে।
আমরা বছর জুড়ে, জীবনব্যাপী নিরাপত্তায় থাকতে চাই। সাঁড়াশি অভিযান যেহেতু চালানোই হচ্ছে কাজেই দলের ব্যানার যেন সেখানে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে। সব দলেই দলে দলে ঘাপটি মেরে অপরাধীরা লুকিয়ে আছে। নিরাপত্তার প্রশ্নে যেন কাউকে ছাড় দেয়া না হয়। আবার বিশেষ কোন দলের সর্থকদের দমনের উদ্দেশ্যও যেন এ অভিযান পরিচালিত না হয়।
আমরা বাংলাদেশকে নিরাপদ দেখতে চাই, চাই সন্ত্রাসমুক্ত দেখতে। এজন্য আমরা নির্ভরকরি আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ওপর। তারা আমাদের আস্থার শেষ ভরসাস্থল। তারা যদি আমাদেররকে নিরাশ করে তবে আমাদের আর আশ্রয় থাকবে না। রাষ্ট্রের শৃঙ্খলাও আর রক্ষা পাবে না। কাজেই এমন অভিযান অব্যাহত থাকুক বছরজুড়ে।
তবে সাধারণ এবং নিরাপদ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য দায়িত্বশীলদের বিশেষ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ রাখছি। সন্ত্রাসী, অভিযুক্তদের সাথে যদি বিপুল সংখ্যক নিরাপদ মানুষ গ্রেফতার হয়, হয়রানির শিকার হয় তবে তাদের মনে আইন-শৃঙ্খলার প্রতি ক্ষোভ ও বিশ্রদ্ধা সৃষ্টি হবে। যা শৃঙ্খলায় ভোগান্তি বাড়াবে।
[ বি. দ্র.- মতামত লেখকের একান্ত নিজেস্ব, টাইমনিউজ বিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সস্পর্ক নেই। ]
এমআইএস





