শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ ঘটনায় নিন্দা জানান। তিনি দাবি করেন, জুলাইয়ের কঠিন সময়ে যখন অনেকেই নীরব ছিলেন, তখন সালমান মুক্তাদির প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও আশ্রয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও তিনি বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন পাটওয়ারী।

পাটওয়ারী তার পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি একজন নাগরিককে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের অর্থ কী। তার ভাষ্য, এক ধরনের নিপীড়ন থেকে মুক্ত হয়ে আরেক ধরনের নিপীড়নের মুখোমুখি হওয়ার জন্য মানুষ জুলাইয়ে দাঁড়ায়নি।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তিনি দেশকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও জালিমদের হাত থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। সালমানের দাবি, তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর প্রতিশোধ হিসেবে স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর প্রকাশিত এক ভিডিওতে সালমান মুক্তাদিরকে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলতে শোনা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ করে স্টুডিওতে হামলা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান।

স্টুডিওর এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল সেখানে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তার দাবি, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওর কর্মকর্তারা টয়লেটে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্টুডিওর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও কাজের উপকরণ লুটেরও অভিযোগ রয়েছে। তবে হামলার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।

এনএইচ