শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজার আলফালাহ মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ ২০২৫-এর প্রথম সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণ শিবিরের কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে, যা শিবিরের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তবে এই সুযোগের সাথে সাথে শিবিরের দায়িত্ব এবং চ্যালেঞ্জও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং শিবিরের নেতৃত্বকে আরো দূরদর্শী হতে হবে এবং যুগের পরিবর্তন অনুযায়ী কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এই নেতৃত্বই শিবিরকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পথ দেখাবে এবং জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে।
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দামের সঞ্চালনায় ও কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ ২০২৫-এর দু’দিনব্যাপী প্রথম সাধারণ অধিবেশনটি দারসুল কুরআনের মধ্যদিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় শুরু হয়। দারসুল কুরআন পেশ করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের শহীদ সামিউ আমান নূর ভাইয়ের গর্বিত বাবা মোহাম্মদ আমান। দু’দিনব্যাপী অধিবেশনের সমাপনী দিনের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং প্রথম দিনের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
অধিবেশনে ২০২৫ সেশনের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।
সমাপনী দিনে ছাত্রশিবিরের সদস্যদের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের আরো বলেন, শিবিরের নেতৃত্বকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী মানুষের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে। সঠিক কৌশল গ্রহণ করে লক্ষ্যে স্থির থাকতে হবে। অন্যথায় জাতির জন্য বড় কোনো অর্জন সম্ভব হবে না। সময় ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে ছাত্রশিবিরের কর্মপদ্ধতি ও কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে। তাই বিগত বছরের ছাত্রশিবির আর এই বছরের ছাত্রশিবিরের কার্যক্রমের ধরণ এক নয়। পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্বের দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তই শিবিরের সফলতার মূল চাবিকাঠি।
অনুষ্ঠানে ২০২৫ সাল দেশ ও ইসলামী আন্দোলনের জন্য টার্নিং পয়েন্ট উল্লেখ করে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৫ সাল আমাদের জন্য এক ঐতিহাসিক ও চ্যালেঞ্জের বছর। এই বছরটি কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং ইসলামী আন্দোলনের জন্যও একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা আজ ইসলামী আন্দোলনের প্রতি নিবদ্ধ। যদি আমরা সঠিক তৎপরতা, সুসংগঠিত পরিকল্পনা এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে পারি, তবে আসন্ন নির্বাচনে আশানুরূপ ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান, ড. আজম ওবায়েদুল্লাহ, নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং মঞ্জুরুল ইসলাম।
অধিবেশনের সমাপনী অনুষ্ঠানে ২০২৫ সেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট (কমিটি) গঠিত হয়। পরিশেষে বিদায়ী ২২ জন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা বিদায়ী বক্তব্য প্রদান করেন। কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কার্যকরী পরিষদের সেশন শেষ হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি





