উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জনগণের করের অর্থ সরকারের কাছে থাকলেও হাম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে জামায়াতে ইসলামী।
তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। ক্ষমতা সুসংহত করে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার সংবিধান সংশোধন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। দলীয়করণ ছাড়া সরকারের উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যেই সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। হাম ও ডেঙ্গুতে মানুষ মারা গেলেও সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন সমস্যার দায় আগের সরকারের ওপর চাপানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি সরকার সব সমস্যা সমাধান করে যেতে পারে না। জনগণ যখন কোনো সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না হয়, তখনই সরকার পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়। নতুন সরকারও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে জনগণ তাদেরও পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, হাম ও ডেঙ্গুর যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও সরকার তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল দখল ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে। দেশের যেকোনো সংকটকালীন সময়ে সংগঠনটি মানুষের পাশে দাঁড়ায় বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারের ব্যর্থতায় দেশে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বাড়ছে—এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতেও দলীয়করণের কারণে অদক্ষ ও অযোগ্য ব্যক্তিরা দায়িত্ব পাচ্ছেন। এতে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংকটে পড়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও পরিকল্পিত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে বুলবুল বলেন, মশক নিধনের পরিবর্তে শুধু সভা-সমাবেশ করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আব্দুর রব এবং মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শরিফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান। এতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মশারি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এস











