সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পোস্ট দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা।

দেশে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির নানা অপচেষ্টা চলছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছে বিএনপি। দলটি সহনশীলতার নীতিতে বিশ্বাস করে। চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জমি দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এসব অপরাধ দমনে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে।

রাজনৈতিক আন্দোলনের অতীত প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের বিষয়টি মানুষের জানা। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন নেতাকে কীভাবে ফাঁসির মুখোমুখি করেছে, সেটিও সবার জানা বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করে বিএনপিকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা সফল হবে না বলেও দাবি করেন রিজভী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তাদের জোট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। চোরাইপথে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনা করে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করবেন। জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।

তিনি জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। ভোটগ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমার তারিখ নির্ধারিত হলে সে অনুযায়ী দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এস