আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর সরকার পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সকারের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে নামার হুমকি দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়ত। অন্যদিকে তাদের আন্দোলন ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ। দেশের বড় ২টি রাজনৈতিক দলের এমন হুমকিতে আতঙ্কে আছেন ব্যবসায়ীসহ দেশের সকল শ্রেনীর মানুষ।
বিএনপি-জামায়াতের নেতারা বলছেন, জনগণের কল্যানের জন্য ভোট বিহীন এ সরকারকে বিদায় করতে হবে। জীবন দিয়ে হলেও তত্ত্বাবধায় সরকার প্রতিষ্টা করা হবে। ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের সরকারকে ক্ষমতায় বসাবে। এজন্য বিএনপি-জামায়াত ঈদের পর যেকোন মূল্যে এ অগণতান্ত্রিক সরকারকে হটানোর জন্য আন্দোলনে নামবেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক ধারায় নির্বাচিত হয়েছে। এ সরকার জনগনের সরকার। সুতারং কোন গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানো যাবে না। যেকোন মূল্যে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যকর আন্দোলন ঠেকাতে অতন্দ্রী প্রহরীরমত মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। তত্ত্ববধায়ক সরকার সংবিধান থেকে বিলুপ্তি করা হয়েছে। রোজ কেয়ামতের আগেও তত্ত্ববধায়ক সরকার ফিরে আসবে না।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ জণগন বলছেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগ দেশের ২টি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। স্বাধীনতার পর থেকে এ ২ দলই একের পর এক ক্ষমতায় এসেছে। তারা দেশ ও জাতির উন্নয়নের চেষ্টা করবেন। এটাই স্বাবাভিক। কিন্তু তারা ২ দলই এটা না করে দেশকে একটি অস্বাবাভিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে আমাদেরকে মরতে হবে। তাদের কাছ থেকে আমরা এটা কখনো আশা করিনা। আলোচনার মাধ্যমে তাদের একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছানো উচিত।
রাজধানীর রুপসী বাংলা হোটেলে এগ্রিকালচারিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ -এ্যাব আয়োজিত ইফতারে মাহফিল অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র রক্ষায় দেশের সকল শ্রেনী পেশার মানুষকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়েছেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, পাঁচ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অবৈধ সরকারের অপশাসনে জনগণ অতিষ্ট ।এ অবৈধ সরকারের গুম,খুন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন এখন নৈতিক দায়িত্ব।আসন্ন ঈদে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।
১৫ জুলাই (মঙ্গলবার) ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলাম আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমির আব্দুল হালিম বলেছেন, ঈদের পর জীবন দিয়ে হলেও রাজপথে নেমে তত্ত্বাবধায়কের দাবি আদায় করা হবে।অতীতে জামায়াত রাজপথে ছিল আগামীতেও থাকবে।
এসময় তিনি সকল বাধা উপেক্ষা করে দেশের সকল সচেতন নাগিরকেদর সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানান।
গত ১৮ জুলাই (শুক্রবার) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন না করে বিএনপি যে ভুল করেছে তার দায় আওয়ামী লীগ নেবে না।এখন আন্দোলনের নামে যদি তারা সহিংসতা চালায় তাহলে ১৪ দল তা রাজনৈতিকভাবে মোবাবেলা করবে।
১৪ জুলাই (সোমবার) সোমবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইনঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ঈদের পর যদি সহিংসতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার হটানোর চেষ্টা করেন তাহলে সরকারের প্রশাসনিক অঙ্গ বসে থাকবে না।
আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের হেড মাস্টার উল্লেখ করে সুরঞ্জিত বলেন, ২টি বিষয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কেউ পারবে না, একটি হলো মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যটি আন্দোলন।তাই আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।
বিএনপি-আওয়ামী লীগের আন্দোলনের নামা ও ঠেকানোর হুমকি সম্পর্কে জানতে চাইলে তরকারী ব্যবসায়ী মো: হানিফ টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, ভাই আমরা গরীব মানুষ ব্যবসা করে খাই।দু’একদিন যদি বাজারে না যাই সংসার চলবে কিন্তু এক সঙ্গে যদি অনেক দিন বাজারে না যেতে পারি তাহলে আমরা কি খেয়ে বাঁচবো? তারা (বিএনপি- আওয়ামী লীগ) যাই করুক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও বেঁচে থাকার জন্য আমাদের বাজারে যেতে হবে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যাংকার তুহিন হোসেন টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ।কিন্তু যে ক্ষমতায় আসে সে তার চেয়ার পাকা পোক্ত করতে সংবিধানকে নিজের মত করে সাজিয়ে নেয়।কোন রাজনৈতিক দলেরই এ কাজটা করা উচিত নয়।হুমকি-দামকি না দিয়ে দেশের এ ২টি বড় রাজনৈতিক দলের এখন আলোচনায় বসা উচিত।এবং সুন্দর একটি সমাধনে পৌছানো দরকার।তাহলে দেশের সাধারণ জণগণকে আজ আতঙ্গে থাকতে হবেনা।না রাজনৈতিক দল গুলো নিজেদের স্বার্থে আন্দোলন করবেন।আর তাদের আন্দোলনের বলি হবো আমরা সাধারণ জনগণ।
রাজধানীর সদরঘাট টু মিরপুর রোডে চলাচলরত ইউনাইটেড পরিবহনের ড্রাইভার রফিক টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, “ আমরা ভাই গরীব মানুষ গাড়ি চালাতে পারলে টাকা পাই।তাই দিয়ে সংসার চালাই।কে আন্দোলন করবে আর কে ঠেকাবে তা আমদেরে দেখার সুযোগ নাই।জীবনের ঝুঁকি নিয়েই হলেও আমাদের গাড়ি চালাতেই হবে।না হলে না খেয়ে থাকতে হবে”।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের কারণেই আমাদের দেশের আজ এ অবস্থা।তারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বোঝেনা।কে মরল আর কে বাঁচলো তাতে তাদের কি আসে যায়।ক্ষমতায় থাকলেই তো তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়।তারা কি আর আমাদের কথা চিন্তা করবে।
ঢাকা, এমআর, ২৪জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম), এনএস





