সমাজতন্ত্রের মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ইসলাম বিষয়ক মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, "ইনু সাহেবদের মূল দর্শনই হল সমাজতন্ত্র। আর সমাজতন্ত্র ধর্মকে ‘আফিম’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। হঠাৎ করে ইনু সাহেব কী কারণে ইসলাম সম্পর্কে কথা বলা শুরু করলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।"
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু গত ২০ জুলাই রাতে এটিএন নিউজের নিয়মিত অনুষ্ঠান নিউজ আওয়ার এক্সট্রায় “জামায়াত হাজার বছরের মুসলিম রীতি-নীতি যা দেশে চর্চা হয়, সেই রীতি-নীতিকে ধ্বংস করছে” মর্মে যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিবাদে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে অধ্যাপক পরওয়যার এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে হাস্যকর উল্লেখ করে এ জামায়াত নেতা বলেন, "বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা-কর্মীরা পবিত্র কুরআন-হাদীস অধ্যয়ন করে এবং সে অনুযায়ী দেশের জনগণের নিকট ইসলামের দাওয়াত দেয়। ইনু সাহেব যে বক্তব্য রেখেছেন, তা হাস্যকর। তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।"
তিনি বলেন, "ধর্মের অপব্যবহার জামায়াতে ইসলামী কখনো করে না। বরং যারা ধর্মে বিশ্বাস করে না তারাই ধর্মের কথা বলে ধর্মের অপব্যবহার করে থাকে। যুগ যুগ ধরে এ দেশে ইসলামী রীতিনীতি চালু আছে তা ধ্বংস করার জন্যই ইনু সাহেবরা অতীতে কাজ করেছেন এবং এখনও কাজ করে যাচ্ছেন। ইনু সাহেবদের মুখে তাই ধর্মের কথা মানায় না।"
তিনি আরো বলেন, "জামায়াতে ইসলামী মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য কখনই কোন কাজ করে না। বরং ইনু সাহেবরাই জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চায়। ইনু সাহেবদের জনগণ ভালভাবেই চেনেন এবং জনগণ ভোট প্রদানের সুযোগ পেলে তার সঠিক জবাব দেবেন।"
বিবৃতিতে এটিএন নিউজকে উদ্দেশ্য করে এ জামায়াত নেতা বলেন, "এটিএন নিউজ-এ যে ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে তার বক্তার পরিচয় বলা হয়নি। এতে জনগণের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে যে, তারা নিজেরাই একটি ভিডিও তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ভিডিওটির সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোন সম্পর্ক নেই। ইনু সাহেবদের এ ধরনের নোংরা রাজনীতি বন্ধ করার জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি।"
এমআইএস





