নির্বাচনকে ঘিরে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএনপি৷ পেশাজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিগুলো শনিবার থেকে কাজ শুরু করবে৷
সদ্য সমাপ্ত দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘু নির্যাতন,সহিংসতা, বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাবলী তদন্তে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন,তাঁরা সঠিক তথ্য উদঘাটন করে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন৷
সিরাজগঞ্জ,বগুড়া এবং গাইবান্ধার ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির নেতা এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া৷
সদস্যরা হলেন-বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়া,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক আখতার হোসেন খান,অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হারুন-অর রশীদ,ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডী।
নীলফামারী,দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ঘটনা তদন্তের নেতৃত্বে থাকবেন সাবেক সচিব এ এফ এম হালিম এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদাল আহমেদ৷
সদস্যরা হলেন,হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী,সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন,ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সাবেক সহসভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু।
সাতক্ষীরা,যশোর,কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার নির্যাতন তদন্তে নেতৃত্ব দেবেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী এবং প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী৷
সদস্যরা হলেন,সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট অলিউর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়েদুল ইসলাম,বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ড।
কুমিল্লা,চাঁদপুর,লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার ঘটনা তদন্তে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদকে আহ্বায়ক এবং দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদারকে সদস্য সচিব করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷
সদস্যরা হচ্ছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া,ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান,সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন জসিম,ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

তদন্ত কমিটির সদস্য  রুহুল আমিন গাজী জানান,এই তদন্তের কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়নি৷ তবে তাঁরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করতে চান৷ তিনি বলেন তাঁরা তদন্ত রিপোর্ট বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কাছে জমা দেবেন৷ এই রিপোর্ট সরকার বা আন্তর্জাতিক মহলকে দেয়া হবে কিনা,সে সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়াই নেবেন৷ তবে সংবাদ মাধ্যমে যে প্রকাশ করা হবে তা নিশ্চিত৷
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম জানান,এধরণের তদন্ত কমিটির কোনো আইনগত ভিত্তি না থাকলেও নাগরিকরা তদন্ত কমিটি করতে পারেন৷ কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তারাই তদন্ত করলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে৷ আর সবাই যদি যে যার মতো তদন্ত কমিটি গঠন করে তাহলে বিষয়টি এলোমেলো হয়ে যেতে পারে৷ তিনি মনে করেন একারণে জাতীয় ভিত্তিক বা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে৷

[b]ঢাকা, জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি)// জেআই[/b]