চলমান অবরোধ ও হরতাল সফল করায় নগরবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, পতন তরান্বিত করতেই সরকার সারাদেশে বিরোধী নেতাকর্মীদের ঘর থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। ৪ জনকে হত্যা করতে ৫৪টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেলেও পুলিশ বলছে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। কাদের রক্ষা করতে গুলিতে নিহতদের নাশকতাকারী হিসেবে প্রচার করছে? এরআগেও পুলিশ বিরোধীজোটের নেতা-কর্মীদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে গণপিটুনি বা ক্রসফায়ারে হত্যার নাটক করেছে।
রাজধানীর মীরপুরের যেখানে চারজনকে কথিত গণপিটুনির কথা বলা হয়েছে, সেখানকার একজনও কোন পিটুনি দেখেনি, সেখানকার এলাকাবাসীর কাছেও এই গল্প রুপকথার মতো। বরং প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে , সাদা গাড়িতে করে তাদের ওই স্থানে আনার পর বেশকয়েক রাউন্ড গুলি করে ফেলে রেখে গেছে। আমি অবিলম্বে এসব প্রতিটি গুম-খুনের আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবী করছি। বিশ্বের সকল মানবতাবাদি গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের চলমান গণহত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।
মহানগরী আমীর বলেন, সরকারের তীব্র বাঁধা, হুমকি-ধামকি, জুলুম-নির্যাতন, গণগ্রেফতার সত্ত্বেও লাগাতার অবরোধ এবং ৭২ ঘন্টা লাগাতার হরতালের ৩য় দিন আজ রাজধানীর মহাখালী, উত্তরা, বাড্ডা, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ি, মালিবাগ, তেঁজগাও, সবুজবাগ, রমনা, গুলশান, পল্টন, মতিঝিল, মগবাজার, খিলগাঁও, রামপুরা, মিরপুর, শেরে বাংলা নগর, ডেমরা, পুরান ঢাকার কোতয়ালী, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়াসহ বিভিন্ন থানা ও এলাকায় জামায়াতের কর্মীরা মিছিল, পিকেটিং ও রাজপথ অবরোধ করে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ততবারই এদেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। স্বাধীনতার পর সকল দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল কায়েম করেছিল। চারটি দলীয় মুখপত্র রেখে সকল পত্রিকা নিষিদ্ধ করেছিল। এবারও ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করে সকল বিরোধীদল নির্মূলে লিপ্ত রয়েছে। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই সোমবার সংসদে জামায়াত ও বিএনপি নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। একটি বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে বাকশাল থেকে পুর্ণজন্ম নেয়া আওয়া মীলীগ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতেই বিরোধীদলের অফিসে তালা ও নেতা-কর্মীদের গুম খুনের পথ বেছে নিয়েছে। এমনকি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ২০দলীয় জোটের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার অফিস অবরুদ্ধ রেখে খাবার-পানির যোগান বন্ধ করে দিয়ে একসঙ্গে অন্তত ৬০ জনকে বিনা খাবারে হত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি নেতা-কর্মীদের খাবার সরবরাহে আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্টসহ বিশ্বের সকল মানবিক ত্রাণ সংগঠনসমূহকে প্রাণরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।
মাওলানা খান বলেন, বিরোধীদলের গণআন্দোলন ঠেকাতে যেই সরকারই নৃশংসতার পথ বেছে নেয় সেই সরকারই জনগণের গণরোষের শিকার হয়েছে। তাই একগুয়েমী আর গুম-খুনের পথে না হেটে অবিলম্বে পদত্যাগ করে দেশে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে দেয়ার আহবান জানাচ্ছি। রাজধানীতে তিনজনের দেহে ৫৪টি গুলি কার বন্দুক থেকে বেরিয়েছে? কার হুকুমে বা টেলিফোনের নির্দেশে এই গুলি করে ফেলে রাখা হয়েছে সেসবই তদন্ত করে বের করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশিষ্ট নাগরিকদের টেলিফোন বিনা অননুমতিতে রেকর্ড করে তাদের চরিত্রহনন করা হচ্ছে। যারা স্কাইপ কেলেঙ্কারি করে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে, কাদের টেলিফোন নির্দেশে বিডিআর ট্রাজেডি ঘটেছে সেসব কলরেকর্ডও প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ডিসিসি নির্বাচনের টোপ দিয়ে জনতার আন্দোলনকে থামানো যাবেনা। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই সর্বাত্বক আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানো হবে। এছাড়া অবৈধ সরকার পতনের দাবীতে ২০ দলের আহক্ষানে চলমান অবরোধ এবং হরতালসহ গণগন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে প্রতিটি কর্মসূচীতে সর্বাত্মক অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগরবাসীকে অভিনন্দন জানান মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
সেই সঙ্গে গণতন্ত্র ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অংশ হিসাবে অবরোধ এবং রাজধানীসহ সারাদেশে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত লাগাতার হরতাল ও বৃহস্পতিবার বিক্ষোভসহ সকল কর্মসূচী সফল করতে রাজধানীর সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে মাঠে নেমে আসার পাশাপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে মিথ্যাচার ও কারসাজিকে মোকাবিলা করে তাদের হৃত অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে অটল থাকার আহবান জানান।
কেএইচ





