ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা রিটের রায় আজ ।

২০০১ সালের ১৬ আগস্ট রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন হাজারী। ১৫ বছর পর একইদিনে আরেক হাজারীর মামলার রায়কে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা।

‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদন্ড হয়। কিন্তু ২ বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

পরে ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া। রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে। সে হিসাবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য হতে পারেন না। অথচ তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছেন। রিট আবেদনের ওপর শুনানি ২ আগস্ট শেষ হয়েছে।

এদিকে মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর থেকে তার অনুসারীদের মাঝে যেমন উৎকন্ঠা বিরাজ করছে তেমনি বিরোধী শিবিরেও রয়েছে উত্তাপ।

ফেনীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল মনে করছে, এ রায়ের উপর জেলার রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ভর করছে। রায়ে নিজাম হাজারী দোষী সাব্যস্ত হলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত যেন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে তেমনি তার দাপটে কোনঠাসা জয়নাল হাজারী ও তার অনুসারীরা ঘুরে দাঁড়াবার সুযোগ পেতে পারে। ইতিমধ্যে নিজাম হাজারী অনুসারীরা আগামীকাল বুধবার বিকালে প্রতিটি ওয়ার্ডে জঙ্গি বিরোধী বিক্ষোভ

মিছিলের নামে শো-ডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। আবার ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবসে শহরের ট্রাংক রোডে জনসভার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ মামলার রায় তাদের পক্ষে থাকবে বলে নিজাম হাজারীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের জোরালো দাবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মূলত নিজাম হাজারীর এ মামলার রায়কে ঘিরে আগাম এসব কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহ ধরে ফেনীতে অবস্থান নিয়ে তিনি এসব প্রাকপ্রস্তুতি তদারকি করেছেন। কোনো কারণে রায় বিপক্ষে গেলে অনুসারীদের চাঙ্গা রাখতে সিরিজ কর্মসূচি চলবে বলেও জানানো হয়। এসব ক্ষেত্রে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তার পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখবেন।

অন্যদিকে বাদি পক্ষ এ মামলায় নিজাম হাজারীর দোষী সাব্যস্ত হবে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করছেন।

২০০১ সালে দেশান্তরী হওয়া জয়নাল হাজারী ২০০৯ সালে দেশে ফিরেও একসময়ের তার অনুসারী নিজাম হাজারীসহ অন্যদের বিদ্রোহের মুখে ক্রমেই অবস্থান হারান। একপর্যায়ে ফেনী ছেড়ে রাজধানীতেই গত ক’বছর অনেকটা নিরবে-নিভৃতে কাটাচ্ছেন।

নিজাম হাজারীর রায়কে ঘিরে গত কিছুদিন ধরে তিনিও সরব হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে তার সম্পাদিত পত্রিকা ‘হাজারীকা প্রতিদিন’ ও ব্যক্তিগত ফেসবুক দিয়ে বিরোধী পক্ষের নানারকম সমালোচনা করছেন। তার দাবি, নিজাম হাজারীর রায় বিপক্ষে যাবে জেনে ইতিমধ্যেই তার কিছু অনুসারী নানা কৌশলে সরে পড়ছেন। কেউ কেউ অসুস্থতার অজুহাতে ফেনী ছেড়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এমবিএইচ