মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ব্রিটিশ আইনজীবী জিওফ্রে রবার্টসন কোর্টের বাইরে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী যেসব কথা বলেছেন তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা জানতে চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমি চিঠি দিয়েছি।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে স্বাধীনতা-যুদ্ধ অধিকার কমিটি আয়োজিত ‘রবার্টসনের বক্তব্যের প্রতিবাদ’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

রবার্টসনের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় এ বিষয়ে পররাষ্ট্র এবং আইন মন্ত্রণালয়ে কথা বলবেন জানিয়ে তিনি বলেন, রবার্টসনের বক্তব্যের প্রতিবাদ এবং ঘৃণা জানিয়েই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ নয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একজন ব্রিটিশ নাগরিক স্বাধীন দেশের অভ্যান্তরিণ বিষয়ে কথা বলা দেশের সার্বভৌমত্ত্বের উপর আঘাত।

বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার দাবি করে ব্রিটিশ আইনজীবী জিওফ্রে রবার্টসন দৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছে মন্তব্য করেন তিনি। শুধু ঘৃণা জানানোই না, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানী যোদ্ধা এবং বিহারীদের হত্যার জন্য মুক্তযোদ্ধাদের বিচার করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন জিওফ্রে রবার্টসন।

রবার্টসন বলেন, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মানেনা। ৭১এর গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলেনা, আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলে বলে মানবাধিকার লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ স্বাধীন এবং সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা দেশকে স্বাধীন করেছি কারও চোখ রাঙ্গানী দেখার জন্য নয়। পৃথিবীর কোথাও যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কিছু নেই।

আদালতে যদি কারও অভিযোগ প্রমানিত না হয় তাহলে তাকে মাফ করে দিতে পারেন। কিন্তু যদি প্রমাণিত হয় সে যুদ্ধাপরাধী, তাহলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ডই চায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আব্দুল জলিল, আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন শিকদার প্রমুখ।

এমএ/এমকে