‘দেশ সংবিধান মতো চলছে না’ বলে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার এবং কানাডার উপহাইকমিশনারের কাছে নালিশ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
আজ বুধবার সকাল ১১টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের গুলশানের বাসায় এই বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয় দুপুর ১২টার কিছু আগে।
এ সময় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা দ্রুত নির্বাচনের দাবির কথা কূটনীতিকদের জানান। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এ সংসদ গঠিত হয়নি। কীভাবে তা কার্যকর হবে।
পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিও তোলেন বৈঠকে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, শুরুতেই আর্ল রবার্ট মিলার এবং অ্যালিসন ব্লেইক জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কাছে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। তারা এও জানতে চান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা এখন কী করবেন বা কী করতে চান? এ ব্যাপারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তাদের চাওটা কী?
জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা অবগত। নতুন করে কিছু বলার নেই। আপনারা জানেন, বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী চলছে না। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে সরকার সরে গেছে।
রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে নেই। যে সরকার দেশ চালাচ্ছে, সেটা জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত নয়। একটা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান পার্লামেন্ট গঠন করা হয়েছে।’
সূত্র মতে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কূটনীতিকদের বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতাকর্মী সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। দেশের স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়ার মুক্তি অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের অবস্থান জানতে চেয়েছেন কূটনীতিকরা। প্রতি মাসে বিরোধীদের সাথে বৈঠকে বসবেন বলে জানান কূটনীতিকরা।
কূটনীতিকদের মধ্যে উপস্থিত হয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডসসহ অন্তত দশটি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা।
ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।
এএস





