আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীকে দেয়া আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে মুক্তির দাবি করেছেন "ফ্রি মাওলানা সাঈদী ফেডারেশন ইউকে"।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি আখতার হোসেন কাওছার এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, বিশ্বনন্দিত মুফাসসীরে কোরআন, সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দীর্ঘদিন থেকে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। সরকারের সাজানো কথিত মানবতা বিরোধী মামলা ও এর সাজানো বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নামের একটি বিতর্কিত ট্রাইব্যুনালে তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অগ্নিগর্ভ হয়ে সেদিন প্রায় দুইশ পয়ত্রিশজন মানুষ পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলো। কিন্তু মানবতা বিরোধী ও জনবিচ্ছিন্ন তাবেদার সরকারের তাতে টনক নড়েনি। তারা এখন দীর্ঘ আপীল শুনানি শেষে এবার আপিলের রায়ে আল্লামা সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেছে!

সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে যে বিচারগুলো করা হয়েছে এর প্রতিটি শব্দ মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে তিনি বলেন, আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর স্বাক্ষীদের কেউ বলতে পারেনি যে তারা সাঈদীকে কোনো ধরনের অপরাধ করতে নিজ চোখে দেখেছেন।

সরকারি তত্ত্বাবধানে ঢাকাস্থ ‘সেইফ হাউজে’ দিনের পর দিন তথাকথিত ভাড়াটিয়া সাক্ষীদের রেখে ট্রেনিং দেয়ার পরও অনেককে প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য দিতে রাজী করাতে পারেনি। তাদের লিখিত জবানবন্দীর ভিত্তিতে সাজানো রায় প্রদান করেছে। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ‘স্কাইপগেট কেলেংকারী’ মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেন।

তিনি বেলজিয়াম প্রবাসী ভারতীয় এজেন্ট জিয়াউদ্দিনের কাছ থেকে কিভাবে মামলার চার্জশিট, মামলার বিভিন্ন অর্ডার, বিচারের আর্গুমেন্ট হবে এবং কাকে কি শাস্তি দেয়া যায় সেটা সম্পর্কে স্কাইপের মাধ্যমে পরামর্শ গ্রহণ করতেন। এটা ফাঁস হওয়ায় দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে ঐ ট্রাইব্যুনালে আসলে কি ধরনের বিচার হবে।

স্কাইপ কেলেংকারীর ঘটনায় ফাঁস হওয়া কথাবার্তার অডিও রেকর্ডে গোটা দুনিয়া স্পষ্ট শুনেছে কিভাবে ভিন্ন দেশ থেকে উক্ত ব্যক্তি প্রতিটি আদেশ, নির্দেশনা ও রায়ের স্কেচ লিখে পাঠাচ্ছিলেন।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আল্লামা সাঈদীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আল্লামা সাঈদীর প্রতি সুবিচার করা হয়নি। যাবজ্জীবন কারাদন্ড রায় দিয়ে আবার আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান হলো আইনের ব্যর্থতা। বাংলাদেশের আইনে যাবজ্জীবনের অর্থ হলো সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড। অথচ ঐ রায়ে বলা হয়েছে আমৃত্যু কারাদন্ড!

এ মামলায় অনেক বিতর্ক রয়েছে। মামলার স্বাক্ষী সুখরঞ্জনবালীকে ট্রাইব্যুনাল গেট থেকে অপহরণ করা হয়েছে। স্কাইপ কেলেংকারীর ঘটনায় একজন বিচারপতি পদত্যাগও করেছেন।

অবিলম্বে এ মিথ্যা রায় বাতিল করে আল্লামা সাঈদীকে মুক্তি প্রদান করে সরকারকে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিতে তিনি জোর দাবি জানান।

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ